• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নেজামে ইসলাম পার্টির আমির মাওলানা সরওয়ার কামালের ইন্তেকাল

লোহাগাড়া (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি    ৯ মে ২০২৬, ০৯:০৬ এ.এম.
মাওলানা সরওয়ার কামাল আজীজি। ছবি: সংগৃহীত
মাওলানা সরওয়ার কামাল আজীজি। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রামের প্রবীণ আলেম, ইসলামী চিন্তাবিদ ও নেজামে ইসলাম পার্টির কেন্দ্রীয় আমির মাওলানা সরওয়ার কামাল আজীজি আর নেই। 

শুক্রবার (৮ মে) সন্ধ্যায় চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের নিজ বাড়িতে তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর।

পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, সন্ধ্যার দিকে হঠাৎ শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে দ্রুত লোহাগাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের আলেম-ওলামা, রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও অনুসারীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে আসে। শুক্রবার রাত থেকেই পদুয়ার বাড়িতে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ভিড় করতে থাকেন প্রিয় এই আলেমকে শেষবারের মতো এক নজর দেখতে।

মাওলানা সরওয়ার কামাল আজীজি ১৯৪৭ সালে চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া গ্রামের নয়াপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মরহুম আলহাজ হাকিমবক্স চৌধুরী স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রেসিডেন্ট ছিলেন।

শৈশবে স্থানীয় কওমি মাদ্রাসায় শিক্ষাজীবন শুরু করেন তিনি। পরে ঐতিহ্যবাহী আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়া মাদ্রাসায় অধ্যয়ন শেষে দাওরায়ে হাদিস সম্পন্ন করেন। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষাতেও ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি।

ছাত্রজীবন থেকেই ইসলামী রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন মাওলানা সরওয়ার কামাল। জমিয়তে তোলাবায়ে আরাবিয়া মুসলিম ছাত্র পরিষদের রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলার শুরু। পরবর্তীতে বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।

দলের কেন্দ্রীয় রাজনীতিতে তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৮১ সালে সহ-সম্পাদক, ১৯৮৪ সালে যুগ্ম আহ্বায়ক এবং ২০০৭ সালে সিনিয়র সহ-সভাপতির দায়িত্ব পান। পরে ২০১৯ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মজলিসে শুরার বৈঠকে তাকে দলটির কেন্দ্রীয় আমির নির্বাচিত করা হয়।

রাজনীতির পাশাপাশি দ্বীনি শিক্ষা বিস্তারেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল তার। পদুয়া আল জামিয়াতুল আনোয়ার হেমায়েতুল ইসলাম মাদ্রাসাসহ একাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় তিনি ভূমিকা রাখেন। তিনি জামিয়াতুল আনোয়ার হেমায়েতুল ইসলাম কওমি মাদ্রাসার মহাপরিচালকের দায়িত্বেও ছিলেন।

এছাড়া শাহ ওয়ালীউল্লাহ একাডেমি চট্টগ্রামের পরিচালক এবং হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গেও সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি।

তার ইন্তেকালে বিভিন্ন ইসলামী ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতারা গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়েছেন। অনেকেই তাকে একজন সাদাসিধে, আদর্শবান ও সংগঠকপ্রতিভাসম্পন্ন আলেম হিসেবে স্মরণ করেন।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, শনিবার দুপুর ২টায় লোহাগাড়ার পদুয়া ঠাকুরদিঘি হেমায়েতুল ইসলাম মাদ্রাসা মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হবে।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আমিনুল ইসলাম। ছবি: সংগৃহীত
উন্নয়ন তহবিলের অর্থ ১০ শতাংশ কমিশন চাই: ইউপি সচিব
ছবি: সংগৃহীত
কুমিল্লায় গুলিবিদ্ধ শিক্ষার্থী, মাদক নিয়ে ক্ষোভ এমপির
ছবি: ভিওডি বাংলা
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসা ছাত্রীকে ধর্ষণ, অভিযুক্ত বৃদ্ধ গ্রেপ্তার