• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
মুখস্ত ও সার্টিফিকেট নির্ভর শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে: প্রধানমন্ত্রী ‘মাননীয়’ বলার প্রয়োজন নেই, ঢাবি শিক্ষার্থীদের প্রধানমন্ত্রী মেধা লালন করেই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে চায়: প্রধানমন্ত্রী সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজিতেই বাজার অস্থির: জামায়াত আমির ঢাবিতে ইউজিসির কর্মশালা উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী আজ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী সরকারি চাকরিতে আবেদনের বয়স বাড়ল পশ্চিমবঙ্গে বরেণ্য অভিনেতা ও নাট্যনির্দেশক আতাউর রহমান মারা গেছেন শতকোটি টাকা পাচার, সাবেক এমপি মাসুদ কারাগারে গাড়িতে বিআরটিএ নির্ধারিত নিবন্ধন নম্বর প্লেট না পেলে কঠোর ব্যবস্থা

শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হওয়া উচিত : মাউশি মহাপরিচালক

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১২ মে ২০২৬, ১১:২৭ এ.এম.
ছবি : সংগৃহীত

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক প্রফেসর ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেছেন, শিক্ষকরা একটি মহান পেশার সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাই শিক্ষকদের রাজনৈতিক লেজুড়বৃত্তি না করে নিজ নিজ শ্রেণিকক্ষে মনোযোগী হওয়া উচিত।

মঙ্গলবার (১২ মে) শিক্ষা ভবনের নিজ দপ্তরে বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা বাসসকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন। 

মহাপরিচালক বলেন, আমরা যদি আমাদের স্বাধীন সত্তা, সামাজিক মর্যাদা ও আত্মসম্মানের কথা চিন্তা করি, তাহলে শিক্ষক হিসেবে আমাদের পরিচয়টাই সবচেয়ে বড় হওয়া উচিত। কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে লেজুড়বৃত্তিক সম্পর্ক তৈরি করলে ব্যক্তিগত সম্মান ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল বলেন, সরকারি চাকরিবিধি অনুযায়ী সরকারি কর্মচারীরা রাষ্ট্রের বেতনভুক্ত। একইভাবে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরাও সরকারের বিভিন্ন অনুদান ও সহায়তা পেয়ে থাকেন। ফলে দায়িত্বশীল অবস্থানে থেকে রাজনৈতিক মতাদর্শ প্রকাশ বা প্রচার করা সমীচীন নয়।

মাউশি মহাপরিচালক বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বিশ্বমানের পর্যায়ে নিয়ে যেতে হলে শিক্ষকদের গুণগত মান, পেশাদারিত্ব ও নৈতিক অবস্থানকে আরো শক্তিশালী করতে হবে। শিক্ষকদের প্রতি সরকারের এবং সমাজের প্রত্যাশা অনেক বেশি। গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করতে হলে শিক্ষকদের শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত উপস্থিতি, শিক্ষার্থীদের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং আধুনিক চিন্তা-চেতনার বিকাশে অগ্রণী ভূমিকা রাখতে হবে।

তিনি বলেন, শিক্ষকদের ক্লাসে উপস্থিতি শুধু প্রশাসনিক দায়িত্ব নয়, এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব। শিক্ষক যদি সঠিকভাবে শিক্ষাদান না করেন, তাহলে ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি হবে না। শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা, আগ্রহ ও নতুন চিন্তার বিকাশ ঘটাতে শিক্ষকের সক্রিয় উপস্থিতি অপরিহার্য।

নকলমুক্ত শিক্ষা পরিবেশ প্রসঙ্গে মাউশি মহাপরিচালক বলেন, শুধু নকলমুক্ত পরীক্ষা নয়, এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে যেখানে শিক্ষার্থীরা কখনো নকলের চিন্তাও করবে না।

তিনি আরো বলেন, আমরা কেন শুধু নকলমুক্ত পরিবেশ প্রত্যাশা করব? আমরা চাই এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে ‘নকল’ শব্দটাই একসময় বিলুপ্ত হয়ে যাবে। শিক্ষার্থীরা নিজের যোগ্যতা ও মেধার ওপর আস্থা রাখবে।

ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদ সোহেল জানান, সরকারের নীতিমালা ও নির্দেশনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আগামী প্রজন্মকে দক্ষ, নৈতিক ও যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে শিক্ষা প্রশাসন।

শিক্ষা খাতে জনবল সংকটের বিষয়েও কথা বলেন মাউশি প্রধান। তিনি বলেন, দেশের প্রায় সব খাতেই জনবল সংকট রয়েছে এবং শিক্ষা প্রশাসনও তার ব্যতিক্রম নয়। তবে শূন্য পদগুলোতে যোগ্য জনবল নিয়োগের বিষয়ে সরকার ও মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে গুরুত্ব সহকারে চিন্তাভাবনা করছে।

তিনি বলেন, আমরা চাই যোগ্য ও দক্ষ তরুণরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শিক্ষা প্রশাসনে যুক্ত হোক। এতে যেমন দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখা সম্ভব হবে, তেমনি শিক্ষা ব্যবস্থার মানোন্নয়নও সহজ হবে।”

মাউশিকে দেশের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার ‘অ্যাপেক্স বডি’ উল্লেখ করে মহাপরিচালক বলেন, এই প্রতিষ্ঠানের কর্মতৎপরতা, দক্ষতা ও কার্যক্রম সবক্ষেত্রেই শীর্ষ অবস্থানে থাকা উচিত। এজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শিক্ষা পরিবারের সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের নির্বাচনী ইশতেহার ও শিক্ষা খাতের লক্ষ্য বাস্তবায়নে সবাই একসঙ্গে কাজ করলে মাউশি আরো কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।

শিক্ষা ব্যবস্থাকে একীভূত রাখার পক্ষেও মত দেন তিনি। শিক্ষা খাতকে বিভাজনের বিভিন্ন প্রস্তাব প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সমন্বিত শিক্ষাব্যবস্থায় বিশ্বাস করে। ইতোমধ্যে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট তিনটি বিভাগকে একজন মন্ত্রীর অধীনে আনা হয়েছে, যা সমন্বয় ও কার্যকারিতা বৃদ্ধিতে সহায়ক।

তিনি বলেন, আমরা বিশ্বাস করি, সবাই একসঙ্গে একই ভিশন নিয়ে কাজ করলে গুণগত শিক্ষা নিশ্চিত করা সহজ হবে। বিভক্ত হয়ে গেলে অনেক সময় লক্ষ্যচ্যুতি ঘটে।

কারিগরি শিক্ষা প্রসঙ্গে মাউশি মহাপরিচালক বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে কারিগরি শিক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কর্মমুখী ও কারিগরি শিক্ষাকে সমন্বিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তার ভাষায়, যদি সাধারণ শিক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা কারিগরি দক্ষতা অর্জন করে, তাহলে তারা আত্মকর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা হওয়ার মানসিকতা তৈরি করতে পারবে। এতে দেশের অর্থনীতিও উপকৃত হবে।

তিনি আরো বলেন, শিক্ষা সেবা মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে প্রশাসনিক কাঠামোকে আরো বিকেন্দ্রীকরণের চিন্তাভাবনা রয়েছে। শিক্ষা প্রশাসনকে জেলা ও আঞ্চলিক পর্যায়ে আরো কার্যকরভাবে সম্প্রসারণ করা গেলে সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সহজতর হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

মাউশির বিদ্যমান সমস্যার বিষয়ে তিনি বলেন, বড় কোনো সংকট নয়, বরং সমন্বিতভাবে কাজ করাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, সবার দক্ষতা ও যোগ্যতাকে চিহ্নিত করে সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করতে পারলে মাউশি তার কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন করতে সক্ষম হবে।

ভিওডি বাংলা/বিন্দু

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মাদরাসা শিক্ষকদের জন্য সুখবর
মাদরাসা শিক্ষকদের জন্য সুখবর
উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন
উপাচার্যকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় শাটডাউন
কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৮৯.৮২ শতাংশ
কামিল পরীক্ষার ফল প্রকাশ, পাস ৮৯.৮২ শতাংশ