অটিজমে আক্রান্তদের পূর্ণ মর্যাদায় বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, প্রতিটি নাগরিকের মতো অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদেরও পূর্ণ মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিটি মানুষের মতো তারাও সম্মানজনক জীবনযাপনের অধিকার রাখে এবং একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে তাদের মূলধারায় সম্পৃক্ত করা জরুরি।
মঙ্গলবার (১২ মে) দেওয়া এ বাণীতে প্রধানমন্ত্রী উল্লেখ করেন, অটিজম ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যায় আক্রান্ত শিশু ও ব্যক্তিদের যথাযথ পরিচর্যা, শিক্ষা ও সামাজিক সহায়তার মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত করার বিকল্প নেই। তিনি বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য- “অটিজম কোনো সীমাবদ্ধতা নয়, প্রতিটি জীবন মূল্যবান”- সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে অত্যন্ত সামঞ্জস্যপূর্ণ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে ‘১৯তম বিশ্ব অটিজম সচেতনতা দিবস-২০২৬’। দিবসটি উপলক্ষে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগকে স্বাগত জানান তিনি। একই সঙ্গে অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তি, তাদের পরিবার, চিকিৎসক, থেরাপিস্ট, পরিচর্যাকারী এবং সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর প্রতি শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও স্নায়ুবিকাশজনিত সমস্যার মুখোমুখি। এ বাস্তবতায় বর্তমান সরকার বৈষম্যহীন, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করছে। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ, শিক্ষাবৃত্তি প্রদান, শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং প্রতিবন্ধী অধিকারবিষয়ক আইন বাস্তবায়নে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, এমন একটি বাংলাদেশ গড়ে তোলাই সরকারের লক্ষ্য যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের সামর্থ্য ও স্বপ্ন বাস্তবায়নের সুযোগ পাবে। তিনি জানান, বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও সামাজিক অংশগ্রহণ বাড়াতে নানা কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।
খেলাধুলায় আগ্রহী অটিজম বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য ইতোমধ্যে বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বিশেষ করে প্যারা-অলিম্পিকে আরও বেশি অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তারেক রহমান বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টা, মানবিক দায়বদ্ধতা এবং ইতিবাচক সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির মাধ্যমে এমন একটি সমাজ গঠন সম্ভব, যেখানে ভিন্নতা কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াবে না। সবাই সমান সম্মান, অধিকার ও সুযোগ নিয়ে জীবনযাপন করতে পারবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
ভিওডি বাংলা/জা







