ছাত্রকে বরফভর্তি বোতল দিয়ে আঘাত করার অভিযোগ শিক্ষকের বিরুদ্ধে

নেত্রকোনার খালিয়াজুরী উপজেলায় এক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকের বিরুদ্ধে পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থীকে বরফভর্তি পানির বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত শিক্ষার্থীর পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী মুগ্ধ তালুকদার (১১) রাজিবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র। একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক কাউসার আহমেদ শ্রেণিকক্ষে তাকে মারধর করেন এবং পরে বরফ জমাট পানির বোতল দিয়ে মাথায় একাধিক আঘাত করেন।
সোমবার (১২ মে) বেলা ১২টার দিকে এই ঘটনাটি ঘটেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, শ্রেণিকক্ষে বেঞ্চে কলমের কালি লাগানোকে কেন্দ্র করে শিক্ষকের সঙ্গে শিক্ষার্থীর কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শিক্ষক ক্ষিপ্ত হয়ে শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে আঘাত করেন। পরে বরফভর্তি বোতল দিয়ে মাথায় আঘাত করলে শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়ে অচেতন হয়ে পড়ে।
বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষকরা দ্রুত তাকে উদ্ধার করে মাথায় পানি ঢেলে জ্ঞান ফেরানোর চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনার পর পরিবারের সদস্যদের জানানো হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
পরিবারের দাবি অনুযায়ী, বাড়িতে ফেরার পর মুগ্ধ তালুকদার একাধিকবার জ্ঞান হারায় এবং বমি করতে থাকে। এমনকি তার কান দিয়ে রক্ত বের হওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে পরিবারের সদস্যরা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
পরে মঙ্গলবার সকালে তাকে প্রথমে মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর চিকিৎসকরা তার শারীরিক অবস্থার অবনতি লক্ষ্য করে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করেন।
বর্তমানে আহত শিশুটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে চরম আতঙ্কের মধ্যে আছে বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, অভিযুক্ত শিক্ষক কাউসার আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে কঠোর ও রাগী আচরণের জন্য এলাকায় পরিচিত। প্রায়ই শিক্ষার্থীদের শারীরিক শাস্তি দেওয়ার অভিযোগও তার বিরুদ্ধে রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারী মুগ্ধর মামা মারুফ খান।
তিনি খালিয়াজুরী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্তের দাবি জানান।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত শিক্ষক বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন। একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে, বিষয়টি নিয়ে শিক্ষা প্রশাসনও পদক্ষেপ নিয়েছে। খালিয়াজুরী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা (চলতি দায়িত্ব) মো. আজিমেল কদর জানান, অভিযোগ পাওয়ার পরই তদন্ত শুরু করা হয়েছে। একজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে প্রাথমিক তদন্তের জন্য। প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও জানান, বিদ্যালয়ের পরিবেশ ও ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।
অন্যদিকে, খালিয়াজুরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







