গণঅভ্যুত্থানের পর দায়ের করা ১৯৫ সিআর মামলার ১৪টিই ভুয়া

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সারাদেশে দায়ের করা ১৯৫টি সিআর মামলার অন্তত ১৪টিই ভুয়া। এসব মামলার তদন্ত করতে গিয়ে এমন প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।
পিবিআই সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভুয়া মামলা করার পেছনে পূর্বশত্রুতা থেকে শুরু করে পারিবারিক বিরোধের মতো উদ্দেশ্য ছিল। ১৪টি ভুয়া মামলার মধ্যে ১০টি হত্যাচেষ্টা, তিনটি হামলা ও শারীরিক নির্যাতন এবং একটি হত্যার অভিযোগে করা হয়। এ ছাড়া আরও ১০টি মামলার তদন্ত করতে গিয়ে পিবিআই অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো প্রমাণ পায়নি।
পিবিআইয়ের পুলিশ সুপার (লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া) মো. আবু ইউসুফ বলেন, ‘আমরা বারবার অভিযোগগুলো যাচাই করে দেখেছি, কিন্তু কোনো প্রমাণ পাইনি। এসব মামলায় চূড়ান্ত প্রতিবেদনে আসামিদের অব্যাহতি দিতে আদালতে আবেদন করা হয়েছে।’
পিবিআই এখন পর্যন্ত ১৯৫টি সিআর মামলার মধ্যে ১১৩টির তদন্ত শেষ করেছে। এর মধ্যে ৮৯টি মামলার সত্যতা মিলেছে, যার ৯টি হত্যা এবং বাকিগুলো হত্যাচেষ্টার মতো অপরাধ।
তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এ ৮৯টি মামলায় মোট ৬ হাজার ৮৪৪ জনকে আসামি করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্ত শেষে মাত্র ১ হাজার ৩৪৩ জনের বিরুদ্ধে প্রমাণ পাওয়া গেছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (ক্রাইম) খন্দকার রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ভুয়া মামলার আসামিরা প্রায়ই হয়রানির মুখে পড়েন এবং আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন। তাদের ক্ষতিপূরণ হয়তো আমরা দিতে পারব না। তবে দণ্ডবিধির ২১১ ধারার অধীনে আমরা ভুয়া মামলা দায়েরকারীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আদালতে আবেদন করতে পারি। জুলাই অভ্যুত্থানসংক্রান্ত মামলাগুলোতে পুলিশ এমন পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
জাতিসংঘের এক তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন অনুযায়ী, কোটা সংস্কারের দাবিতে ২০২৪ সালের জুলাই মাসে শুরু হওয়া আন্দোলনে ১ হাজার ৪০০ মানুষ নিহত হন। এর চূড়ান্ত পরিণতিতে ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্যমতে, ওই সময়ের ঘটনায় চলতি বছরের ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশে ১ হাজার ৮৫৫টি মামলা হয়েছে। এসব মামলায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ হাজার হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে। মামলাগুলো পিবিআইসহ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট তদন্ত করছে।
ভিওডি বাংলা/আরকেএইচ/এমএস







