• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

পূর্ণাঙ্গ চালুতে বিলম্ব

চুক্তি জটিলতায় শাহজালাল তৃতীয় টার্মিনাল

মেহেদী সৌরভ    ১৫ মে ২০২৬, ০২:০৬ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বহুল প্রতীক্ষিত তৃতীয় টার্মিনাল আগামী ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্য নিয়ে এগোচ্ছে সরকার। একই দিনে একটি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট পরিচালনার পরিকল্পনাও রয়েছে। তবে ওই দিন উদ্বোধন হলেও সব প্রস্তুতি ও আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শেষ করে টার্মিনালটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হতে আরও কয়েক মাস সময় লাগতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

জানা গেছে, টার্মিনাল পরিচালনার চুক্তির শর্ত নিয়ে এখনো বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক) ও জাপান কনসোর্টিয়ামের মধ্যে পূর্ণ সমঝোতা হয়নি। আয়ের ভাগাভাগি, বিশেষ করে যাত্রীসেবা ও কার্গো হ্যান্ডলিং থেকে অর্জিত রাজস্ব বণ্টন নিয়েই মূল মতপার্থক্য চলছে।

প্রকল্প সূত্র জানায়, ২১ হাজার ৩০০ কোটি টাকার এই প্রকল্পে সরকারের অবদান পাঁচ হাজার কোটি টাকা। বাকি অর্থ জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থা (জাইকা) থেকে ঋণ হিসেবে নেওয়া হয়েছে। এই ঋণের কিস্তি পরিশোধ আরও প্রায় দেড় বছর আগে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও তা পিছিয়ে চলতি বছরের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এখন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী জুন থেকে কিস্তি পরিশোধ শুরু হবে, যা চলবে ২০৫৬ সাল পর্যন্ত। কিস্তির পরিমাণ প্রায় এক হাজার ১০০ কোটি টাকা।

বেবিচক সূত্র আরও জানায়, তৃতীয় টার্মিনালের গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিং ব্যবস্থায় রাষ্ট্রীয় বিমান সংস্থা বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পাশাপাশি একটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানও যুক্ত থাকবে। সরকার ১৬ ডিসেম্বর উদ্বোধনের লক্ষ্য নির্ধারণ করলেও চুক্তি স্বাক্ষর, পরীক্ষামূলক কার্যক্রম এবং অন্যান্য প্রস্তুতি শেষে টার্মিনালটি ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতায় চালু করা হবে।

চুক্তি বিষয়ে জানা গেছে, জাপান কনসোর্টিয়াম আয়ের ২৫ শতাংশ বেবিচককে দিতে চায়, তবে বেবিচক আরও বেশি অংশ দাবি করছে। সমঝোতা হলে চুক্তি স্বাক্ষরের পথ খুলবে। নিয়ম অনুযায়ী সমঝোতার ৪২ দিনের মধ্যে চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও এর পর খুঁটিনাটি যাচাই শেষে চূড়ান্ত সই হতে আরও প্রায় তিন মাস লাগতে পারে। এরপর শুরু হবে অপারেশন রেডিনেস অ্যান্ড এয়ারপোর্ট ট্রান্সফার (ওরাট) কার্যক্রম, যা ছয় মাসেরও বেশি সময় নিতে পারে। ফলে পুরো সুবিধা পেতে আগামী ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সূত্র আরও জানায়, ওরাট কার্যক্রম পরিচালনা করবে জাপান এয়ারপোর্ট টার্মিনাল কোম্পানি, সুমিতোমো করপোরেশন, সোজিৎস করপোরেশন ও নারিতা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর করপোরেশন নিয়ে গঠিত একটি কনসোর্টিয়াম। নিরাপত্তা তদারকি করবে বেবিচক। টার্মিনালে প্রায় ছয় হাজার কর্মী কাজ করবেন, যার মধ্যে চার হাজার থাকবেন নিরাপত্তা কর্মী।

চুক্তি নিয়ে জটিলতা প্রসঙ্গে বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা) এয়ার কমডোর মেহবুব খান জানান, জাইকা-সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রস্তাব নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে। তার ভাষায়, “তাদের দেওয়া প্রস্তাবটি মানা হলে বেবিচকের তেমন কোনো লাভ থাকে না। এ কারণে টার্মিনাল পরিচালনা ও চুক্তির বিষয়টি বারবার পিছিয়ে যাচ্ছে।”

তবে তিনি আরও জানান, আলোচনায় অগ্রগতি হয়েছে এবং দুই পক্ষই এখন লাভজনক সমঝোতার কাছাকাছি পৌঁছেছে। তার আশা, শিগগিরই চুক্তি বিষয়ে সমঝোতা সম্ভব হবে। তিনি বলেন, “আগামী ১৬ ডিসেম্বর টার্মিনাল পরিচালনার টার্গেট থাকলেও তার আগেই চালুর পরিকল্পনা আছে।”

এদিকে বেবিচক সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টার্মিনাল চালুর অগ্রগতি নিয়ে সংস্থার সদর দপ্তরে প্রতিদিন সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বেলা ৩টা পর্যন্ত নিয়মিত বৈঠক চলছে, যা আগামী ১৭ মে পর্যন্ত চলবে।

বেবিচক চেয়ারম্যান এয়ার ভাইস মার্শাল মো. মোস্তাফা মাহমুদ সিদ্দিক সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেন, তৃতীয় টার্মিনাল পরিচালনায় দেশের স্বার্থ অক্ষুণ্ন রেখেই জাপানের সঙ্গে চুক্তি করা হবে।

অন্যদিকে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত জানিয়েছেন, আগামী ১৬ ডিসেম্বরকে সম্ভাব্য তারিখ ধরে তৃতীয় টার্মিনাল চালুর সব প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০১৯ সালের ২৮ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই প্রকল্পের আওতায় নির্মিত টার্মিনালটির আয়তন দুই লাখ ৩০ হাজার বর্গমিটার। এতে রয়েছে ১১৫টি চেক-ইন কাউন্টার, ৬৬টি ডিপারচার ইমিগ্রেশন ডেস্ক, ৫৯টি অ্যারাইভাল ইমিগ্রেশন ডেস্ক এবং তিনটি ভিআইপি ডেস্ক। চালু হলে বিমানবন্দরটির যাত্রী ধারণক্ষমতা বছরে ৮০ লাখ থেকে বেড়ে ২ কোটি ৪০ লাখে উন্নীত হবে। একই সঙ্গে কার্গো হ্যান্ডলিং সক্ষমতা দ্বিগুণ হয়ে বছরে ১০ লাখ টনে পৌঁছাবে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রজন্মের আইকন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বদলে দিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়
প্রজন্মের আইকন প্রতিমন্ত্রী ইশরাক বদলে দিচ্ছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল  মুহাম্মদ জাহেদ কামাল, এনডিসি, এএফডব্লিউসি, পিএসসি। গ্রাফিক্স: আরিফুল ইসলাম
তদবিরে কান দিচ্ছেন না ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জাহেদ কামাল
বাংলাদেশিদের অর্থে ফুলে-ফেঁপে উঠছে সুইস ব্যাংক!
বাংলাদেশিদের অর্থে ফুলে-ফেঁপে উঠছে সুইস ব্যাংক!