বিআইডব্লিউটিএর আরিফ হাজার কোটি টাকার মালিক, বাড়ি লন্ডনেও

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের সাময়িক বরখাস্ত হওয়া পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনের অঢেল সম্পদের খোঁজ পাওয়া গেছে। শুধু দেশেই নয়, বাড়ি কিনেছেন লন্ডনেও।
ভিওডি বাংলার অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ঢাকায় ৫ টি বিলাসবহুল বাড়ি ও ২৫ টি ফ্ল্যাট ছাড়াও নামে বেনামে হাজার কোটি টাকার সস্পদ।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে তৎকালীন নৌপরিবহন মন্ত্রীকে ম্যানেজ করে সরকারের এই সংস্থা থেকে আরিফ হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।
বসুন্ধরা বি ব্লকের ৪১ নম্বর বাড়িতে আরিফের একাধিক ফ্ল্যাট রয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভবনে কর্মরত থাকা সিকিউরিটি গার্ড। যার প্রতি ফ্লাটের মূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকারও বেশি। বসুন্ধরা সি- ব্লকের ৪৭ নম্বর বাড়িতে রয়েছে আরিফের ফ্লাট। যেখানে প্রতিটি ফ্ল্যাটের দাম ৪ কোটি টাকা। এ এলাকার বি-ব্লকের ৫২ নম্বর বাড়ি, মোহাম্মদপুর মনসুরাবাদ হাউজিংয়ের সি ব্লকে ৪ নম্বর রোডের ৩৭ নম্বর ৫ তলা বাড়ি, যার মূল্য ২২ কোটি টাকা। রাজধানীর এলিফ্যান্ট রোডের ৩০১ নম্বর বিলাসবহুল বাড়িটি আরিফ তার স্ত্রীর নামে কিনেছেন। এছাড়াও আরিফের গ্রামের বাড়ি পাবনার রায়পুর এলাকায় শত কোটি টাকারও বেশি মূল্যের সম্পদ রয়েছে।

বারিধারার সি ব্লকে একটি ফ্ল্যাটে আরিফ থাকেন এবং তার কেনা পাশের ফ্ল্যাটটি ভাড়া দিয়েছেন। পূর্বাচলে এবং বসুন্ধরায় অংশীদারিত্বে ভবন তোলার কাজ চলমান। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় বি ব্লকের ৪৭,৪৮,৫২,৪১ নম্বর বাড়িতে ৮ টি ফ্ল্যাট কিনেছেন আরিফ।
নারায়নগঞ্জের কর্ণফুলি শিপইয়ার্ডে মালিকানা রয়েছে তার স্ত্রীর। নারায়নগঞ্জ পোর্টে রয়েছে ডকইয়ার্ড। ছেলে-মেয়েদের লন্ডনে পড়াশোনার পেছনে বছরে কোটি টাকা খরচ করেন।

পাবনা সদরের স্কয়ার রাডে ৬ তলা বাড়ি, কাচারী পাড়ায় ৫ তলা বাড়ি, সাধুপাড়ায় ৪ তলা বাড়ি, সুজা নগর মৌজা-বনখোলা,ঘেতুপাড়া, রামপুর, হাটখালি, খেতুপাড়া এলাকায় জমি কিনেছেন প্রায় ২০০ বিঘা।
অভিযোগ রয়েছে, ঢাকার নদী সংলগ্ন বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দাদের, স্থাপনা উচ্ছেদের ভয়ভীতি দেখিয়ে, আরিফ উদ্দিন হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা।

শেখ হাসিনার জন্মদিনে তুরাগ নদীতে নৌকা বাইচ আয়োজন করে নিজের অবস্থান পোক্ত করেন এবং এরপর দেদার অর্থ হাতাতে থাকেন এক যুগের বেশি সময় ধরে।
শেখ হাসিনার জন্মদিন উদযাপনের নামে বিআইডব্লিউটিএ’র স্টেক হোল্ডার ও বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাদের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা হাতান তিনি।

তার স্ত্রী শামীমা দীবা, ছেলে সাদ ও মেয়ে আরিন বিদেশে অবস্থান করছেন। সেখানে তাদের জন্য বাড়ি কিনে দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এসব বিষয়ে আরিফকে হোয়াটসঅ্যপ বার্তা পাঠালেও উত্তর মিলেনি।
প্রসঙ্গত, এক নারীর সঙ্গে ব্যক্তিগত মুহূর্তের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালক এ কে এম আরিফ উদ্দিনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
তিনি বিআইডব্লিউটিএ অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মঙ্গলবার বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান মো. মুহিদুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক আদেশে তার বরখাস্তের বিষয়টি জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, এ কে এম আরিফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যমে নারী কেলেঙ্কারি, দুর্নীতি ও অসদাচরণের অভিযোগসংবলিত ভিডিও ক্লিপ প্রকাশিত হয়েছে, যা সংস্থার সুনাম ক্ষুণ্ন করেছে।
আদেশে আরও উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা, ১৯৯০-এর বিধি ৩৫ (খ) ও (ঙ) লঙ্ঘনের কারণে বিধি ৪১(১) অনুযায়ী তাকে সাময়িকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি নিয়ম অনুযায়ী খোরাকি ভাতা পাবেন। একই সঙ্গে তাকে বিআইডব্লিউটিএর প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগে নিয়মিত হাজিরা দিতে হবে এবং হাজিরার ভিত্তিতেই ভাতা প্রদান করা হবে।
এদিকে, বিআইডব্লিউটিএর প্রশাসন ও মানবসম্পদ বিভাগের পরিচালক মো. সাইফুল ইসলামকে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে বন্দর ও পরিবহন বিভাগের পরিচালকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস








মন্তব্য