প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে অপপ্রচার, নেপথ্যে কারা?

বগুড়া-২ আসনের সংসদ সদস্য ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমকে ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে ধারাবাহিকভাবে সমালোচনামূলক প্রতিবেদন এবং মানহানিকর কনটেন্ট প্রকাশ করা হয়েছে। এসব প্রচারণার পেছনে কোনো পরিকল্পিত অপপ্রচার রয়েছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়েছে।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, কয়েকটি ফেসবুক পেজ ও অনলাইন প্ল্যাটফর্ম থেকে প্রতিমন্ত্রী ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসায়িক সুবিধা গ্রহণসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ী এলাকায় বিএনপির চেয়ারম্যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে একটি কাঁচা রাস্তা জরুরী ভিত্তিতে সাময়িক সংস্কার কে ভিত্তি করে দুর্নীতির অভিযোগ তোলা হয় । কিছু সংবাদ ও কনটেন্টেএ ঘটনার সঙ্গে প্রতিমন্ত্রীর সম্পৃক্ততা উল্লেখ করে দুর্নীতির হাস্যকর অভিযোগ আনা হয় । বিষয়টি সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়নকারী সংস্থার বক্তব্যে ইতিমধ্যে পরিষ্কার হয়েছে।
তবে অনুসন্ধানে দেখা গেছে, প্রকাশিত অধিকাংশ প্রতিবেদন ও ভিডিও কনটেন্টে অভিযোগের পক্ষে সুস্পষ্ট দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি। অনেক ক্ষেত্রেই তথ্যের উৎস বা যাচাইযোগ্য নথির উল্লেখ পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দ ও বিশ্লেষকদের মতে , এসব সংবাদ ও প্রচারণার পেছনে প্রতিমন্ত্রীর রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের পাশাপাশি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন দপ্তর ও অধিদপ্তরের কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তারও সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে প্রকাশিত বিভিন্ন কনটেন্ট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সংবাদ প্রকাশের পরে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ফেসবুক পেজের অনুসারী (ফলোয়ার) সংখ্যা অস্বাভাবিক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন পোস্ট ও ভিডিও অর্থের বিনিময়ে বুস্ট করে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হয়েছে বলে অনেকে মনে করেন 3। ফলে বিষয়টি পরিকল্পিত প্রচারণার অংশ কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী নিজে তার মায়ের নামে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নামকরণ করতে নিষেধ করেছেন সেখানে প্রতিমন্ত্রী শিবগঞ্জ ও মোকামতলা উপজেলার ইউনিয়ন পরিষদ গঠনে নামকরণে সুপারিশ করায় বিতর্কের মুখে পড়েছেন। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে নামকরণে যেসব অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে, মীর শাহে আলম ইতোমধ্যে সংসদে তার ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন পর্যায়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে চলমান আলোচনার মধ্যে কোনো জনপ্রতিনিধি যখন প্রকাশ্যে অনিয়মের বিরুদ্ধে অবস্থান নেন, তখন অনেক সময় স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী তার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণা চালানোর চেষ্টা করতে পারে। তবে এমন অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নিরপেক্ষ তদন্তের বিকল্প নেই।
অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, গত ১৯ বছরে স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন প্রকল্প ও কার্যক্রমে সংঘটিত শত শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের বিষয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের একাধিক তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমও বিভিন্ন সময়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং ব্রিফিং করেছেন।
স্থানীয় নেতৃবৃন্দের একটি অংশের দাবি, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থানের কারণেই তাকে রাজনৈতিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও জনসম্মুখে বিতর্কিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে।
এদিকে প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলোরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, যাতে প্রকৃত সত্য জনগণের সামনে উঠে আসে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন সংবাদমাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা জনপ্রতিনিধির বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের ক্ষেত্রে তথ্যের সত্যতা যাচাই এবং সাংবাদিকতার নৈতিকতা অনুসরণ করা জরুরি বলে মত দিয়েছেন গণমাধ্যম বিশ্লেষকরা।
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের বক্তব্য না পাওয়া গেলেও শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট আব্দুল ওহাব বলেন, দেশের উন্নয়ন বাঁধাগ্রস্ত করতে ও সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার লক্ষ্যে একটি মহল অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি দেশের জন্য ও তার এলাকার জন্য নিরলস কাজ করছেন। এতে তার জনপ্রিয়তা বাড়ছে, এটাই কিছু মানুষের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এজন্যই তারা উঠেপড়ে লাগছে।
ভিওডি বাংলা/জাকারিয়া/এমএস







