• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা আর নেই

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধি    ১৬ মে ২০২৬, ১১:০৭ এ.এম.
সাবেক প্রতিমন্ত্রী ও বিএনপি নেতা মিজানুর রহমান সিনহা। ছবি: সংগৃহীত

বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী, কোষাধ্যক্ষ এবং মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা আর বেঁচে নেই।

শুক্রবার (১৫ মে) রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর।

তার মৃত্যুর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিশ্চিত করেন তার কন্যা এবং একমি গ্রুপের উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা। পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের মাঝে তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গভীর শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়।

মিজানুর রহমান সিনহা দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতি ও শিল্প-ব্যবসা উভয় ক্ষেত্রেই সক্রিয় ছিলেন। বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিতে তিনি কোষাধ্যক্ষ হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ সময় তিনি দলীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

২০২০ সালে রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তনের সময় তিনি সক্রিয় রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। তবে পরবর্তীতে রাজনৈতিক অঙ্গনে আবারও তার সম্পৃক্ততা দেখা যায়। সর্বশেষ ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তীকালীন রাজনৈতিক পরিবেশে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং–টঙ্গীবাড়ি) আসন থেকে বিএনপির মনোনয়ন পান। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে পরে তার পরিবর্তে দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে ওই আসনে প্রার্থী করা হয়।

এর আগে তিনি জাতীয় সংসদে দুইবার নির্বাচিত সংসদ সদস্য ছিলেন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থীকে পরাজিত করে প্রথমবার সংসদে প্রবেশ করেন। এরপর ২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও একই আসন থেকে বিজয় অর্জন করেন।

মিজানুর রহমান সিনহার জন্ম ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জ জেলার লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহুরী গ্রামে। তার পিতা হামিদুর রহমান সিনহা ছিলেন দেশের ওষুধ শিল্পের অগ্রদূত এবং একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা। মাতা নূরজাহান সিনহা ছিলেন গৃহিণী।

শৈশবের কিছু সময় তিনি কলকাতায় অতিবাহিত করেন। পরবর্তীতে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ব্যবসায় প্রশাসনে স্নাতক সম্পন্ন করেন।

১৯৬৪ সালে তিনি হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। পরে ১৯৭৫ সালে পিতার মৃত্যুর পর তিনি পারিবারিক ব্যবসা একমি গ্রুপে যুক্ত হন। দীর্ঘ সময় তিনি এই শিল্পগোষ্ঠীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং ১৯৮৩ সাল থেকে নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

তার নেতৃত্বে একমি গ্রুপ দেশের অন্যতম শীর্ষ ওষুধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয় বলে শিল্পমহলে পরিচিতি পায়।

ছাত্রজীবনে তিনি সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সরকারি তোলারাম কলেজে অধ্যয়নকালে ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে তিনি ছাত্র সংসদের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।

১৯৯০ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন। এরপর দলীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন এবং ২০২০ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত বিএনপির কেন্দ্রীয় কোষাধ্যক্ষ ছিলেন।

রাজনৈতিক জীবনের পাশাপাশি মিজানুর রহমান সিনহা স্থানীয় উন্নয়ন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন। তার নিজ গ্রামসহ পুরো মুন্সীগঞ্জ অঞ্চলে তিনি একজন দানশীল ও উন্নয়নমুখী নেতা হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

তার পারিবারিক বাসভবন ‘সিনহা হাউজ’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে পরিচিত।

তার মৃত্যুতে মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক নেতারা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও তার মৃত্যুতে শোকাহত।

ভিওডি বাংলা/জা


  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
বরুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মঞ্চ প্রস্তুতি শেষ
বরুড়ায় প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে মঞ্চ প্রস্তুতি শেষ
পদ্মা ব্যারেজ ছিল জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন
পদ্মা ব্যারেজ ছিল জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন
প্রেমের টানে পিরোজপুরে চীনা যুবক
প্রেমের টানে পিরোজপুরে চীনা যুবক