চিকিৎসক ও রোগীর সুরক্ষায় আলাদা আইন করার আহ্বান

বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রোগীদের সুরক্ষার জন্যও আলাদা আইন করার আহ্বান জানান তিনি।
সোমবার (১৮ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ডক্টরস এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ, ড্যাবের উদ্যোগে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যসেবায় কর্মরতদের নিরাপত্তা ও নিরাপদ কর্মস্থল নিশ্চিত করা এবং শরীয়তপুরে আক্রান্ত ডা. নাসিরসহ সারা দেশে বিভিন্ন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে হামলার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এক মানববন্ধনে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার বলেন, দেশের হাসপাতালগুলোতে দীর্ঘদিন ধরেই রোগীর চাপের তুলনায় জনবল ও অবকাঠামো সংকট রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কথা উল্লেখ করে বলেন, সেখানে বেডের সংখ্যা ১ হাজার ৭০০ হলেও অনেক সময় রোগীর সংখ্যা ৪ থেকে ৫ হাজার পর্যন্ত হয়। অথচ চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মীর সংখ্যা নির্ধারিত রয়েছে ১ হাজার ৭০০ বেড অনুযায়ী।
তিনি বলেন, “একটা বেডে দুইজন, কোনো সময় তিনজন পর্যন্ত রোগী থাকে। এই অবস্থার মধ্যেও ডাক্তাররা কাজ করে যাচ্ছেন। এটা একটা মিরাকাল।”
করোনাভাইরাস মহামারির সময় চিকিৎসকদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে ডা. ডোনার বলেন, অনেক চিকিৎসক নিজের পরিবারের সদস্যদের সংক্রমণ থেকে রক্ষা করতে বাসায় না গিয়ে রোগীদের সেবা দিয়েছেন। ডাক্তার জানে যে সেও আক্রান্ত হয়ে মারা যেতে পারে। তারপরও রোগী দেখেছে। নার্সরা গেছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা গেছে। বাংলাদেশের ডাক্তাররা সাহস নিয়ে কাজ করেছে।”
সম্প্রতি চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, গত এক মাসে ছোট-বড় মিলিয়ে ২৮টি ঘটনা ঘটেছে। একটি ঘটনার বর্ণনা দিয়ে তিনি বলেন, একজন চিকিৎসককে আঘাত করে মাথায় গুরুতর জখম ও হাতে ফ্র্যাকচার করা হয়েছে। বর্তমানে তিনি সংকটাপন্ন অবস্থায় রয়েছেন।
ডা. ডোনার বলেন, “আমরা স্পষ্ট করে সরকারকে বলছি, চিকিৎসকদের নিরাপত্তার জন্য স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন তৈরি করেন। শুধু ডাক্তারদের জন্য না, রোগীদের জন্যও আইন করেন। কোনো ডাক্তার অবহেলা করলে তার বিচার কীভাবে হবে, সেটাও আইনে নির্ধারণ করা উচিত।”
তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, চিকিৎসকদের নিরাপত্তাহীনতা চলতে থাকলে ভবিষ্যতে চিকিৎসাসেবায় সংকট তৈরি হতে পারে। অনেক নতুন চিকিৎসক বিদেশে চলে যেতে পারেন অথবা দেশে কাজ করতে অনাগ্রহী হয়ে পড়তে পারেন।
তিনি বলেন, “একটা সময় আসবে, যারা ডাক্তারি পড়তে চায় তারা হয়তো বলবে বিদেশে গিয়ে পড়ব, এই দেশে ডাক্তারি করব না।”
সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের প্রশংসাও করেন ডা. ডোনার। তিনি বলেন, সাম্প্রতিক ঘটনায় দ্রুত হেলিকপ্টার পাঠিয়ে আহত চিকিৎসককে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এছাড়া চিকিৎসকদের নিরাপত্তা জোরদারে সরকার কিছু উদ্যোগ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ডা. ডোনার বলেন, আমাদের গার্মেন্টসের জন্য শিল্প পুলিশ আছে। স্বাস্থ্য খাতের বর্তমান পরিস্থিতিতে আলাদা স্বাস্থ্য পুলিশ বাহিনী তৈরি করা দরকার।
গণমাধ্যমের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো ঘটনা প্রকাশের আগে তা যাচাই করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, “আমরা যেরকম চিকিৎসক সুরক্ষা আইন করতে চাচ্ছি, আমরা রোগী সুরক্ষা আইনও করতে চাচ্ছি। রোগীর ওপর অন্যায় করলে ডাক্তারদের ক্ষেত্রেও কী আইন হবে, সেটাও নির্ধারণ করা উচিত।”
শেষে চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী স্বাস্থ্যমন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রধানমন্ত্রীর প্রতি ধন্যবাদ জানান বিএনপি চেয়ারম্যানের এই উপদেষ্টা।
এ সময় আরো উপস্থিত ছিলেন বিএনপি'র স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডাক্তার রফিকুল ইসলামসহ ডাক্তার অ্যাসোসিয়েশন অফ বাংলাদেশের সভাপতি সেক্রেটারিসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
ভিওডি বাংলা/এসআর







