• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নরওয়ের সংবাদপত্রে ‘সাপুড়ে মোদী’

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২১ মে ২০২৬, ০৩:০৯ এ.এম.
ছবি : সংগৃহীত

নরওয়ের শীর্ষস্থানীয় সংবাদপত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সাপুড়ে হিসেবে চিত্রিত করে একটি কার্টুন প্রকাশ করেছে। বুধবার (২০ মে) প্রকাশিত কার্টুন ঘিরে আন্তর্জাতিক মহলে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই এটিকে প্রকাশ্য বর্ণবাদী এবং পুরোনো ঔপনিবেশিক ধারণার ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে অভিহিত করেছেন।

যা ভারতকে 'সাপুড়েদের' দেশ হিসেবে চিত্রিত করত। অনেকে সংবাদপত্রটির সমালোচনা করে এই চিত্রায়নটি বিদেশবিদ্বেষী এবং ভারত ও তার নির্বাচিত নেতার প্রতি অসম্মানজনক বলে দাবি করেছেন।

প্রকাশিত কার্টুনে মোদীকে সাপের আকৃতির একটি ফুয়েল স্টেশনের পাইপ ধরে থাকতে দেখা যায়। পাশাপাশি প্রকাশিত একটি মতামত নিবন্ধে তাকে ‘চতুর এবং কিছুটা বিরক্তিকর’ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

এক্স-এ একজন ব্যবহারকারী লিখেছেন, এই কার্টুনটি প্রকাশ্য বর্ণবাদী। তিনি আরও যোগ করেন, এর মধ্যেকার পরিহাসটিও চোখে পড়ার মতো। প্রধানমন্ত্রী মোদী বলতেন যে আগে বিশ্ব ভারতকে ‘সাপুড়েদের দেশ’ হিসেবে ভাবত। আর এখন অসলো সফরের সময় একটি প্রধান ইউরোপীয় সংবাদপত্র তাকে ঠিক সেভাবেই চিত্রিত করেছে।

আরও অনেকেই তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন এবং এই মতেরই প্রতিধ্বনি করেছেন যে, পশ্চিমা অভিজাত গণমাধ্যমে ঔপনিবেশিক ঔদ্ধত্য এখনও টিকে আছে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী মোদী ২০১৪ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাডিসন স্কয়ার গার্ডেনে দেওয়া তার ভাষণে উল্লেখ করেছিলেন,কীভাবে ভারত একসময় বিদেশে ‘সাপুড়েদের’ দেশ হিসেবে পরিচিত ছিল এবং পরে ‘ইঁদুর খেলা দেখানো’ প্রযুক্তিচালিত একটি জাতিতে পরিণত হয়। পরবর্তীকালে তিনি অন্যান্য বৈশ্বিক মঞ্চেও ভারতের এই একই চিত্র তুলে ধরেন।

এই বিতর্কের মধ্যেই সম্প্রতি আরেক নরওয়েজিয়ান সাংবাদিক হেলে লিং প্রধানমন্ত্রী মোদির সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্ন নেওয়া না নেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন। নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের সঙ্গে এক যৌথ মিডিয়া উপস্থিতিতে এ প্রশ্ন ওঠে। যদিও মোদী এই প্রশ্নের কোনো উত্তর দেননি, কিন্তু পরে কূটনীতিক সিবি জর্জের মাধ্যমে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এই বিতর্কের প্রতিবাদ জানিয়েছে।

দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক সিবি জর্জ সংবাদমমাধ্যমকে জানান, অনেকের ভারতের বিশালতা ও জটিলতা না বুঝেই ‘অজ্ঞ এনজিও’ দ্বারা প্রকাশিত বাছাই করা প্রতিবেদনের উপর ভিত্তি করে মতামত তৈরি করছেন।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন এখানে (ভারতে) কত খবর আসে। প্রতি সন্ধ্যায় আমাদের এখানে প্রচুর ব্রেকিং নিউজ আসে। শুধু দিল্লিতেই ইংরেজি, হিন্দি এবং একাধিক ভাষায় অন্তত ২০০টি টিভি চ্যানেল আছে। ভারতের বিশালতা সম্পর্কে মানুষের কোনো ধারণা নেই।

এই ঊর্ধ্বতন কূটনীতিক আরও বলেন, তারা (ভারতের সমালোচকরা) কিছু অজ্ঞ এনজিও দ্বারা প্রকাশিত এক বা দুটি সংবাদ প্রতিবেদন পড়ে তারপর এসে প্রশ্ন করে।

ব্রিফিংয়ের সময় উত্থাপিত অভিযোগগুলো খণ্ডন করার সময় এই কূটনীতিক ভারতের সাংবিধানিক নিশ্চয়তা এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দিকেও ইঙ্গিত করেন। তিনি বলেন, সংবিধান সকল নাগরিকের জন্য মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করেছে এবং লঙ্ঘনের ক্ষেত্রে আইনি প্রতিকারের ব্যবস্থা রেখেছে।

এর আগে ২০২২ সালে একটি স্প্যানিশ সংবাদপত্র ভারতের অর্থনৈতিক উত্থান সম্পর্কিত সংবাদে সাপুড়ের প্রতীক ব্যবহার করেছিল।

সূত্র : ইন্ডিয়া টুডে।

ভিওডি বাংলা/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
চুক্তি না হলে আবারও ইরানের ওপর হামলা হবে : ট্রাম্প
চুক্তি না হলে আবারও ইরানের ওপর হামলা হবে : ট্রাম্প
ধারণার চেয়েও দ্রুত ছড়াচ্ছে ‘ইবোলা ভাইরাস’
ধারণার চেয়েও দ্রুত ছড়াচ্ছে ‘ইবোলা ভাইরাস’
রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন পুতিন
রাষ্ট্রীয় সফরে চীনে পৌঁছেছেন পুতিন