• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

আনসার-ভিডিপি

নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও মানবসম্পদ উন্নয়নের শক্তি: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২০ মে ২০২৬, ১১:০৩ এ.এম.
ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখছেন প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ভিওডি বাংলা

বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশ এক বর্ণাঢ্য ও গৌরবময় পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে দেওয়া প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে বাহিনীর ঐতিহাসিক অবদান, বর্তমান কার্যক্রম এবং ভবিষ্যৎ উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। তিনি বলেন, দেশের নিরাপত্তা, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে আনসার-ভিডিপি একটি গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে কাজ করছে। 

বুধবার (২০ মে) বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর ৪৬তম জাতীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই সব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধে আনসার বাহিনীর অবদানের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ১৯৭১ সালে প্রায় ৪০ হাজার আনসার সদস্য স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং ৬৭০ জন শহীদ হন।

তিনি বলেন, “জাতির স্বাধীনতার ইতিহাসে আনসার বাহিনীর আত্মত্যাগ চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।” শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তিনি তাদের অবদানকে জাতির জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে উল্লেখ করেন।

স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠিন সময় অতিক্রম করেছিল বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। সে সময় গ্রামভিত্তিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর কাঠামো আরও সুসংগঠিত করা হয়।

তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন সময় রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক উদ্যোগের মাধ্যমে এই বাহিনীকে আরও কার্যকর করা হয়েছে। বিশেষ করে আইনগত কাঠামো প্রণয়ন ও স্বেচ্ছাসেবী থেকে শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীতে রূপান্তর এর প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তিকে শক্তিশালী করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন সংকটময় পরিস্থিতিতে আনসার ও ভিডিপি সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। থানা নিরাপত্তা, ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষা এবং জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাহিনীটি সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে।

বিশেষ করে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, সামাজিক নিরাপত্তা এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেত্রে এই বাহিনীকে “প্রথম প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি” হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

আনসার ও ভিডিপির চারটি প্রধান স্তম্ভ-ব্যাটালিয়ন আনসার, অঙ্গীভূত আনসার, থানা/উপজেলা আনসার এবং ভিডিপি-দেশব্যাপী নিরাপত্তা ও সামাজিক উন্নয়নে সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

বর্তমানে দেশের ৪৭টি ব্যাটালিয়নের মধ্যে ১৬টি পার্বত্য অঞ্চলে নিয়োজিত রয়েছে। এছাড়া ৫২ হাজার অঙ্গীভূত আনসার বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।

প্রায় ১৩ হাজার হিল আনসার ও হিল ভিডিপি সদস্য পাহাড়ি অঞ্চলে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে কাজ করছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আনসার ও ভিডিপি শুধু নিরাপত্তা বাহিনী নয়, বরং একটি সামাজিক পরিবর্তনের শক্তি হিসেবে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে নারী ও পুরুষ ভিডিপি প্লাটুন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন রোধ এবং মাদকবিরোধী সচেতনতা তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

নগর এলাকায় টাউন ডিফেন্স পার্টি (টিডিপি) শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করছে।

আনসার ও ভিডিপির আধুনিকায়নে প্রযুক্তির ব্যবহারকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। “সঞ্জীবন প্রকল্প”, “আনসার-ভিডিপি উন্নয়ন ব্যাংক” এবং “ওয়েলফেয়ার ট্রাস্ট” এর মাধ্যমে সদস্যদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ ও উদ্যোক্তা সহায়তা প্রদান করা হচ্ছে।

এছাড়া ফ্রিল্যান্সিং, ডিজিটাল মার্কেটিং, কারিগরি প্রশিক্ষণ এবং বিদেশি ভাষা শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

আনসার ও ভিডিপি চাকরি পোর্টাল প্ল্যাটফর্ম এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা ব্যবস্থার মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চাকরির সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আধুনিক শ্রমবাজারের চাহিদা অনুযায়ী দক্ষ জনশক্তি গড়ে তুলতে আনসার-ভিডিপি বিভিন্ন প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

জাপানি ভাষা শিক্ষা, ওয়েল্ডিং, ডিজিটাল স্কিলস এবং ফ্রিল্যান্সিং প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সদস্যদের আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে গড়ে তোলা হচ্ছে।

বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন দুর্যোগে আনসার-ভিডিপি সদস্যরা দ্রুত সাড়া দিয়ে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষায় কাজ করছে।

তিনি বলেন, এই বাহিনী বর্তমানে দেশের অন্যতম নির্ভরযোগ্য স্বেচ্ছাসেবী সহায়ক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

পরিবেশ সংরক্ষণেও আনসার-ভিডিপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। রেইন ওয়াটার হারভেস্টিং, সৌরশক্তি ব্যবহার এবং বায়োগ্যাস প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব কার্যক্রম সম্প্রসারিত হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ক্রীড়াক্ষেত্রে আনসার ও ভিডিপির অবদান উল্লেখযোগ্য। জাতীয় গেমসে ধারাবাহিক সাফল্য এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের অর্জন বাহিনীটির সুনাম বৃদ্ধি করেছে। সরকার ক্রীড়াকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে স্পোর্টস কার্ড চালু করেছে, যার আওতায় আনসার-ভিডিপির ১৫ জন ক্রীড়াবিদও অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।

বাহিনীর কাঠামো উন্নয়নে নতুন বিধিমালা প্রণয়নের কাজ চলছে। এর মধ্যে রয়েছে ব্যাটালিয়ন আনসার বিধিমালা, ভিডিপি প্রবিধানমালা এবং অঙ্গীভূত আনসার নিয়োগ ও পদোন্নতি নীতিমালা। এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে কার্যক্রম শক্তিশালী করতে নতুন প্রবিধানমালা প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে সদর দপ্তরে বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, যে কোনো শৃঙ্খলাবদ্ধ বাহিনীর জন্য “চেইন অব কমান্ড” ও “শৃঙ্খলা” অপরিহার্য। এ দু’টি উপাদান বজায় থাকলেই একটি বাহিনী জনগণের আস্থা অর্জন করতে পারে। তিনি সতর্ক করে বলেন, শৃঙ্খলার ঘাটতি দেখা দিলে বাহিনীর কার্যকারিতা ও গ্রহণযোগ্যতা কমে যায়।

ভাষণের শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী ভবিষ্যতে আরও আধুনিক, দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর একটি মানবিক সামাজিক বাহিনী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
আলোচনায় উঠে এলো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ
সিএফএস আন্তর্জাতিক সম্মেলন আলোচনায় উঠে এলো দক্ষিণ এশিয়ার নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ
ইউনিসেফের সতর্কতাও গায়ে মাখেনি ইউনূস সরকার
হামের টিকা ইউনিসেফের সতর্কতাও গায়ে মাখেনি ইউনূস সরকার
এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামে টাকা হাতাচ্ছে চক্র
এবার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নামে টাকা হাতাচ্ছে চক্র