• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

দেশের বিভিন্ন স্থানে পালিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ২৭ মে ২০২৬, ০৯:১৯ এ.এম.
ছবি : সংগৃহীত

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে বুধবার (২৭ মে) ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন দেশের বিভিন্ন জেলার অনেক মানুষ। এরমধ্যে জামালপুরের তিন উপজেলার ২০টি গ্রামের মুসল্লিরা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেছেন।

প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী পৌরসভার বলারদিয়ার মধ্যপাড়া মাস্টারবাড়ি জামে মসজিদ মাঠে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয় সকাল ৮টায়।

ঈদের জামাতে অংশ নেন সরিষাবাড়ী উপজেলার বলারদিয়ার, মূলবাড়ী, সাতপোয়া, সাঞ্চারপাড়, পঞ্চপীর, পাখাডুবি, বনগ্রাম, বালিয়া, বাউসী, হোসনাবাদ, পাটাবুগা, পুঠিয়ারপাড় ও বগারপাড় গ্রামের মুসল্লিরা। এছাড়া ইসলামপুর উপজেলার নোয়ারপাড়া ইউনিয়নের রামভদ্রা, সাপধরী ইউনিয়নের পশ্চিম মণ্ডলপাড়া এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার কাজিয়ারবাড়ি গ্রামেও পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবছরের মতো এবারও সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে ঈদ উদযাপন কেন্দ্র করে এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, ঈদকে ঘিরে গ্রামগুলোতে আনন্দঘন পরিবেশ তৈরি হয়েছে। অনেকেই ইতোমধ্যে নামাজ শেষে কোরবানির পশু জবেহ করেছেন। শান্তিপূর্ণভাবে ঈদের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে বলেও আশা করছেন তারা।

এদিকে, সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ, সাতকানিয়া ও আশপাশের অন্তত ৬০টি গ্রামের মানুষ পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। এ উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট দরবার শরীফ ও গ্রামগুলোতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।

দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী মির্জাখীল দরবার শরীফ (সাতকানিয়া) ও জাহাঁগিরিয়া শাহছুফি মমতাজিয়া দরবার শরীফ (চন্দনাইশ)-এর অনুসারীরা সৌদি আরবের চাঁদ দেখার ভিত্তিতে ঈদসহ ইসলামি সব ধর্মীয় অনুশাসন পালন করে আসছেন।

এরই ধারার প্রবর্তক ছিলেন সুফি সাধক মাওলানা মোখলেসুর রহমান (রহ.), যিনি প্রায় ২০০ বছর আগে এ রীতির প্রচলন করেন।

বুধবার (২৭ মে) সকাল সাড়ে ৯টায় মির্জাখীল দরবার শরিফের মূল খানকাহ মাঠে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত অনুষ্ঠিত হয়। এবারের প্রধান জামাতে ইমামতি করেন বর্তমান সাজ্জাদানশীন হজরত ইমামুল আরেফীন ড. মৌলানা মুহাম্মদ মকছুদুর রহমান।

দরবার শরীফের দায়িত্বশীলরা জানান, চন্দনাইশ পৌরসভা ও উপজেলার বুলার তালুক, হরিনারপাড়া, জামিজুরি, কুন্দুপাড়া, মোহাম্মদপুর, সাতবাড়িয়া, বরকল, বাইনজুরি, ধোপাছড়ি, কাঞ্চননগর, জুনিঘোনা, কেশুয়া, শ্রীমাই, রুপকানিয়া, গুনাগরি, বারখাইন, তৈলারদ্বীপ, চরণদ্বীপ, খরণদ্বীপ, চুনতি, পুটিবিলা, ছৈয়দাবাদ, উত্তর হাশিমপুর, বড়হাতিয়া, বাজালিয়া, কাঞ্চনা, পুরানগড়সহ প্রায় ৬০টি গ্রামে লক্ষাধিক অনুসারী ঈদের নামাজ আদায় কেন।

এছাড়াও বোয়ালখালী, হাটহাজারী, ফটিকছড়ি, রাঙ্গুনিয়া, বান্দরবানের আলীকদম, কক্সবাজার, টেকনাফ, মহেশখালী, কুতুবদিয়া, নোয়াখালী, চাঁদপুর, মুন্সিগঞ্জ, বরিশাল, পটুয়াখালী, ঝালকাঠি, খুলনা, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী ও রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা এই দরবারের মুরিদানরাও একই দিন ঈদুল আজহা উদযাপন করবেন।

ঈদের জামাতের সময়সূচি অনুযায়ী, চন্দনাইশের জাহাঁগিরিয়া শাহসুফি মমতাজিয়া দরবারের পীর সৈয়্যদ মো. আলীর ইমামতিতে সকাল ৭টায় ঈদগাহ ময়দানে ঈদুল আজহার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়।

অপরদিকে, চাঁদপুরের ৪০ গ্রামে উদযাপিত হচ্ছে পবিত্র ঈদুল আজহা। সাদ্রা দরবার শরীফ মাঠে সকাল সাড়ে ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় ঈদের প্রথম জামায়াত। পরে ৯টায় পার্শ্ববর্তী দারুযযফর সাদ্রা দরবার শরীফে ঈদের দ্বিতীয় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

সাদ্রা দরবার শরীফে সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদের নামাজে ইমামতি করেন দরবারের পীর যাকারিয়া চৌধুরী আল মাদানী ও দারুযযফর সাদ্রা দরবার শরীফের নামাজের ইমামতি কেেন মাওলানা আরিফ চৌধুরী।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, জেলার হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলিপুর, বলাখাল, মনিহার, প্রতাপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভুলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলি, মুন্সিরহাট, কাইতাড়া, মূলপাড়া, বদরপুর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর, মতলব উত্তর উপজেলার দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী এবং কচুয়া ও শাহরাস্তি উপজেলার আরও কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা এ ধর্মীয় উৎসবে সামিল হোন।

সাদ্রা দরবার শরীফের পীর যাকারিয়া আল মাদানী জানান, এখানে রোজা ও ঈদ সৌদি আরবকে অনুসরণ করে হয় না; বরং ‘এক দুনিয়া এক চাঁদ’ নিয়ম অনুসারে বিশ্বের যেকোনো দেশে চাঁদ দেখার বিষয়টি নিশ্চিত হলে আমরা রোজা ও ঈদ উদযাপন করে থাকি। আর এটিই হানাফী, মালেকী ও হাম্বলী মাযহাবের মত তবে অনেকেই বিষয়টিকে সৌদি আরবের সাথে মিল রেখে আমরা ঈদ উৎপাদন করি বলে মনে করে। আসলে আমরা পৃথিবীর যে কোন প্রান্তে চাঁদ দেখার উপর ভিত্তি করে ধর্মীয় রীতি অনুসরণ করি।

তিনি আরও বলেন, ২৬ মে মোতাবেক ৯ জিলহজ্জ পবিত্র আরাফার ময়দানে সকল হাজীগণ পবিত্র হজ্জ পালন করছেন। হজের পরের দিন কোরবানি এটি সকলেরই জানা। পৃথিবীর জমিনে শুধুমাত্র বাংলাদেশ ছাড়া সকল সকল দেশই বুধবার (২৭ মে) পবিত্র কোরবানি করছেন। সুতরাং সারা পৃথিবীর মুসলিম উম্মাহ আজ যখন কোরবানি করবে বাংলাদেশের ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ঘোষণা অনুযায়ী দেশের অনেক মানুষ আরাফার রোজা পালন করবে যা অত্যন্ত হাস্যকর কারণ বাংলাদেশে কোন আরাফার ময়দান নেই।

ড. বাকী বিল্লাহ মিশকাত চৌধুরী আরো জানান, ‘এই নিয়ম বাংলাদেশে চালু করেন মরহুম আল্লামা ইসহাক (রহ.)। ১৯২৮ সাল রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপনের নিয়ম চালু করেন। তারপর থেকে সেই ধারা দেশের বিভিন্ন দরবার শরীফের পীরের অনুসারী এবং সচেতন মুসল্লিরা পালন করছেন।

নারায়ণগঞ্জের ২৩ গ্রামে ঈদের আমেজ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ উপজেলার ২৩টি গ্রামের বাসিন্দারা আজ সকাল থেকেই উৎসবের আমেজে পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের ঈদগাহ ও মসজিদগুলোতে সকাল থেকেই মুসল্লিরা ঈদের নামাজ আদায় করতে সমবেত হন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বাংলা বাজার এলাকার গিরদাইন পশ্চিমপাড়া, নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া ও কোনাবাড়াসহ মোট ২৩টি গ্রামের বাসিন্দারা দীর্ঘ বছর ধরে এই রীতি মেনে চলছেন। আজ সকাল ৮টায় গিরদাইন পশ্চিমপাড়া জামে মসজিদে প্রধান ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

মসজিদের সভাপতি খন্দকার রিয়াজউদ্দীন মাস্টার জানান, তারা দীর্ঘ বছর ধরে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে আগাম রোজা, ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা উদযাপন করে আসছেন। মুসল্লিরা যাতে সুন্দর ও নিরাপদ পরিবেশে নামাজ আদায় করতে পারেন, সেজন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল।

এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় নয়াপুর, গনকবাড়ী, গজারিয়া পাড়া ও কোনাবাড়া এলাকার মসজিদ ও ঈদগাহগুলোতে পৃথক পৃথক ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হয়েছে।  

নয়াপুর গ্রামের একটি জামে মসজিদের ইমাম কামরুজ্জামান জানান, ধর্মীয় অনুশাসন ও নিজেদের বিশ্বাস থেকে তারা প্রায় ২০টি পরিবার প্রতি বছর সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে রোজা ও ঈদ উদযাপন করে আসছেন।

ভোলায় ১০ হাজার অনুসারীর ঈদ উদযাপন
এদিকে ভোলার সাতটি উপজেলার অন্তত ১০টি গ্রামে বিভিন্ন দরবারের প্রায় ১০ হাজার অনুসারী আজ বুধবার ঈদুল আজহা উদযাপন করছেন। ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমুদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় বসবাসরত সাতকানিয়া মির্জাখালী দরবার, সুরেশ্বর দরবার শরীফ, মাইজভান্ডার, আটরশি ও দুদুমিয়া দরবারের অনুসারীরা এই ঈদ পালন করছেন।

আজ সকাল সাড়ে ৭টায় ভোলার সবচেয়ে বড় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয় বোরহানউদ্দিনের মনিরাম গ্রামের মজনু মিয়া বাড়ির দরজায় মসজিদ প্রাঙ্গণে। এখানে জামাতের ইমামতি করেন মাওলানা সিহাব উদ্দিন। 

মনিরাম সুরেশ্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে রাসেদুল ইসলাম জানান, আমরা একদিন আগে রোজা ও ঈদ পালন করি বিষয়টি এমন নয়—ভৌগোলিক কারণে চাঁদ দেখার ওপর ভিত্তি করে আমরা একদিন আগেই এটি পালন করি।

এছাড়া সকাল সাড়ে ৮টায় বোরহানউদ্দিনের মুলাইপত্তন গ্রামের পঞ্চায়েত বাড়ির মসজিদ প্রাঙ্গণে আরেকটি বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন মাওলানা রতন মিয়া। 

ই গ্রামের সুরেশ্বর দরবারের প্রাক্তন খলিফার ছেলে মো. সুমন জানান, তাদের গ্রামে ১ হাজারের বেশি এবং পুরো জেলায় সব দরবার মিলিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ হাজার অনুসারী রয়েছেন। নামাজ শেষে তারা নিয়ম অনুযায়ী পশু কোরবানি করছেন।

ভিওডি বাংলা/এসআর

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি, আজও বজ্রবৃষ্টি
২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ৪২ মিলিমিটার বৃষ্টি, আজও বজ্রবৃষ্টি
স্থানীয় যুবকদের তৎপরতায় উদ্ধার ২৩৪ বোতল ফেন্সিডিল
স্থানীয় যুবকদের তৎপরতায় উদ্ধার ২৩৪ বোতল ফেন্সিডিল
মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক
মাদকের টাকা না পেয়ে মাকে কুপিয়ে হত্যা, ছেলে আটক