মারা গেলেন পরিচয়হীন সেই ‘দুলালী’

রাজধানীর মিরপুর এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া পরিচয়হীন ও মানসিক ভারসাম্যহীন নারী ‘দুলালী’ আর নেই। দীর্ঘদিন অনাহার ও অসুস্থতায় ভুগতে থাকা এই নারীকে বাঁচাতে নানা উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়েছে।
রোববার (৩১ মে) সকালে রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ)তে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। পরে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
দুলালীর জীবন রক্ষার চেষ্টা ঘিরে গত কয়েকদিন ধরে মানবিকতার এক ব্যতিক্রমী গল্প আলোচনায় আসে। তাকে উদ্ধারকারী যুবক মুসা করিম রিপন অসহায় এই নারীর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরেছেন। তবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও আইনগত অভিভাবক না থাকার কারণে একের পর এক হাসপাতাল তাকে ভর্তি নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে অভিযোগ ওঠে।
জানা যায়, গত ২২ মে মিরপুর এলাকা থেকে সংকটাপন্ন অবস্থায় দুলালীকে উদ্ধার করেন মুসা করিম রিপন। এরপর সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে রাজধানীর অন্তত আটটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। অবস্থার অবনতি ঘটতে থাকলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাবকে কারণ দেখিয়ে তাকে ভর্তি করা হয়নি বলে জানান উদ্ধারকারী।
পরিস্থিতির প্রতিবাদে গত ২৭ মে গুলশান এলাকায় প্ল্যাকার্ড হাতে অবস্থান নেন মুসা করিম রিপন। তার এই মানবিক প্রতিবাদ গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিষয়টি প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের নজরে এলে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়া হয়।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী জিয়াউদ্দিন হায়দারের সরাসরি হস্তক্ষেপে সরকারি ব্যবস্থাপনায় দুলালীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।
রোববার (৩১ মে) সকালে শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তবে চিকিৎসকদের সর্বাত্মক চেষ্টা সত্ত্বেও তার শারীরিক অবস্থার উন্নতি হয়নি।
দুলালীর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুসা করিম রিপন। তিনি বলেন, একজন দুলালীকে বাঁচানো সম্ভব না হলেও ভবিষ্যতে সমাজের অবহেলিত ও অসহায় মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকার থেকে তিনি সরে আসবেন না। চিকিৎসা ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত মানুষের জন্য তার মানবিক উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
ভিওডি বাংলা/জা







