ধর্মের নামে রাজনীতি ও অপপ্রচার জনগণ পছন্দ করে না: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক বিষয়ক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু হলেও ধর্মের নামে ব্যবসা, অপপ্রচার কিংবা মানুষকে বিভ্রান্ত করার রাজনীতি পছন্দ করে না। একইভাবে ধর্মবিরোধী কর্মকাণ্ডও জনগণ গ্রহণ করে না। তাই রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার নামে মিথ্যাচার ও কুৎসা রটনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান তিনি।
রোববার (৩১ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে জাসাসের উদ্যোগে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তক, আধুনিক বাংলাদেশের স্থপতি ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সাংস্কৃতিক আগ্রাসন প্রতিরোধে জিয়া’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, এ দেশের মানুষ যেমন ধর্মের নামে ব্যবসা কিংবা জান্নাতের টিকিট বিক্রির রাজনীতি পছন্দ করে না, তেমনি ধর্মীয় মূল্যবোধের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়াও সমর্থন করে না। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো সরকারের সমালোচনা করতে পারে, জোরালো প্রতিবাদও করতে পারে; কিন্তু মিথ্যা তথ্য ও অপপ্রচার ছড়িয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা উচিত নয়।
তিনি বলেন, বিএনপি কখনো জুলাই সনদের বিরোধিতা করেনি। প্রধানমন্ত্রী নিজেই সনদের বিষয়গুলো বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। কিছু বিষয়ে আইনগত ও সাংবিধানিক প্রক্রিয়া থাকতে পারে, তবে তা নিয়ে ভুল তথ্য ছড়ানো অনভিপ্রেত।
কোরবানির বর্জ্য অপসারণ নিয়ে সরকারের সমালোচনার জবাবে রিজভী বলেন, ঈদের দিন ও পরদিন সিটি করপোরেশনের কর্মীরা দ্রুত বর্জ্য অপসারণে কাজ করেছেন। কোথাও গাফিলতি পাওয়া গেলে সরকার ব্যবস্থা নিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, অন্য দলের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলার আগে নিজেদের দলের ভেতরে থাকা অনিয়ম ও অভিযোগের বিষয়েও আত্মসমালোচনা করা প্রয়োজন। কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যেই অনিয়মকারী ঢুকে পড়তে পারে, তবে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দল তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে কি না।
রিজভী আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুধু রাজনৈতিক নেতৃত্বই দেননি, দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনের বিকাশেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, জাতীয় সংস্কৃতি ও জাতীয়তাবাদী চেতনা একটি দেশের স্বাধীন সত্তাকে শক্তিশালী করে।
তিনি অভিযোগ করেন, আধিপত্যবাদী শক্তিগুলো কোনো দেশের ওপর প্রভাব বিস্তারের জন্য প্রথমেই সেই দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার চেষ্টা করে। তাই জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর দায়িত্ব হচ্ছে দেশের নিজস্ব সংস্কৃতি, ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে রক্ষা করা।
ভিওডি বাংলা/এএইচ/এমএস







