• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নতুন রূপরেখা নিয়ে তৎপর হচ্ছে এনসিপি

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩০ মে ২০২৬, ০৫:৪৯ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ঈদের ছুটি শেষ হলেই চলতি সপ্তাহে বড় ধরনের কৌশলগত পরিবর্তন নিয়ে তৎপর হচ্ছে জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দল জাতীয় নাগরিক পার্টি- এনসিপি। ঘুরে দাঁড়ানো ছাড়া সামনে বিকল্প নেই-  দলটির সর্বোচ্চ ফোরামের সভায়ও ঘুরেফিরে একাধিকবার উত্থাপন হয়েছে এ কথা। নতুন করে ক্ষমতার জানান দেওয়া, জোটের সমীকরণ এবং স্থানীয় নির্বাচনের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ তৈরি করা- সব মিলিয়ে দলটি কঠিন পরীক্ষায় পড়েছে।

জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, নাগরিক সেবায় ভোগান্তি, শ্রমজীবী মানুষের অধিকার, স্থানীয় প্রশাসনের অনিয়ম এবং রাষ্ট্র সংস্কারসহ জনগুরুত্বপূর্ণ এজেন্ডা নিয়ে মাঠে নামার বিষয়ে ইতোমধ্যেই দলীয় ফোরামে সিদ্ধান্ত হয়েছে। নাগরিকদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট এসব ইস্যু দল থেকে অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নেওয়া জুলাইযোদ্ধা ও অ্যক্টিভিস্টদের একত্রিত করাসহ জনসমর্থন বাড়বে বলে মনে করছেন নেতারা। বলছেন, এর মধ্য দিয়েই নাগকিদের মধ্যে দলটি সম্পর্কে তৈরি হওয়া আস্থাসংকট কাটবে বলেও ধারণা তাদের।

ফের রাজনীতিতে শক্তিশালী অবস্থান জানান দ্রেয়ার কৌশল ঘিরে নতুন কর্মসূচির রূপরেখাও তৈরি করছে দলটি। নেতাদের ভাষ্য, জনগণের বাস্তব সমস্যার সঙ্গে সম্পৃক্ত না হলে বিকল্প রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সে কারণে ‘ইনডোর রাজনীতি’ থেকে বের হয়ে মাঠমুখী কর্মসূচিতে গুরুত্ব দিচ্ছে তারা।

দলটির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই মূলত এই কৌশলগত পরিবর্তন আনা হচ্ছে। এনসিপির ধারণা, জাতীয় রাজনীতিতে শক্ত অবস্থান তৈরি করতে হলে স্থানীয় পর্যায়ে জনভিত্তি গড়ে তোলা জরুরি। আর সেই ভিত্তি তৈরির সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা নিয়ে সরাসরি আন্দোলন গড়ে তোলা।

সম্প্রতি জাতীয় যুবশক্তির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন না হলে ঈদের পর সরকারকে চাপে ফেলতে সংসদ ও রাজপথে কর্মসূচি জোরদার করা হবে। সরকারের দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকলে বিরোধী দল হিসেবে সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করা হবে। কেবল আলোচনা বা ঘরোয়া কর্মসূচিতে সীমাবদ্ধ থাকার বদলে এনসিপি জনগণের বাস্তব সংকট নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়াবে।

দলীয় নেতাকর্মীরা জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এনসিপি মূলত রাষ্ট্র সংস্কার, বিচার ও সাংবিধানিক প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরেছে। কিন্তু বাজারদর, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকট, কর্মসংস্থান, নাগরিক সেবা কিংবা শ্রমিক অধিকার- এসব নিত্যদিনের ইস্যুতে মাঠপর্যায়ে দৃশ্যমান কর্মসূচি তুলনামূলক কম ছিল। এখন সেই সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে জনগণের আরও কাছাকাছি যেতে চায় দলটি।

এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার বলেন, ঈদের পর সংস্কার ও জনসম্পৃক্ত বিভিন্ন ইস্যুতে মাঠে সক্রিয় হবে এনসিপি। জনগণের প্রত্যাশা ও বাস্তব সমস্যাকে সামনে রেখেই কর্মসূচি নির্ধারণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা নিয়মতান্ত্রিক পন্থায় আন্দোলন করতে চাই। তবে সরকার বাধা দিলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে।’

স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে সাংগঠনিক বিস্তারেও জোর দিচ্ছে এনসিপি। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় নতুন কমিটি গঠন, রাজনৈতিক যোগাযোগ বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাইয়ের কাজ চলছে। দলীয় সূত্র বলছে, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অসন্তুষ্ট ও বহিষ্কৃত নেতাদেরও দলে টানার চেষ্টা করা হচ্ছে। নেতাদের বিশ্বাস, স্থানীয় পর্যায়ে সাংগঠনিকভাবে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলতে পারলে ভবিষ্যতের জাতীয় রাজনীতিতেও তার সুফল মিলবে।

একই সঙ্গে সংবিধান সংস্কারের প্রশ্নেও নিজেদের স্বতন্ত্র অবস্থান বজায় রাখতে চাইছে এনসিপি। সংসদীয় সংশোধনের বদলে গণভোটভিত্তিক সংবিধান সংস্কার পরিষদের মাধ্যমে রাষ্ট্রের মৌলিক পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে দলটি। তাদের মতে, বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামোর ভেতরে সীমিত সংশোধন নয়; বরং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার ভারসাম্য, স্বাধীন বিচার বিভাগ, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের জবাবদিহি এবং নির্বাচনব্যবস্থার মৌলিক সংস্কার প্রয়োজন।

ভিওডি বাংলা/আরআর/এফএ

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড়
নয়াপল্টনে প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে বিএনপির নেতাকর্মীদের ভিড়
এআই দিয়ে অবৈধ বাংলাদেশি খুঁজছেন শুভেন্দু অধিকারী
এআই দিয়ে অবৈধ বাংলাদেশি খুঁজছেন শুভেন্দু অধিকারী
জিয়া উদ্যানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল
জিয়া উদ্যানে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঢল