রুহুল কবির রিজভী
‘জাতির ক্রান্তিকালে পথপ্রদর্শকের ভূমিকা পালন করেছেন জিয়াউর রহমান’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের প্রতিটি ক্রান্তিকালে জাতির জন্য মুক্তির দিশারি, আলোকবর্তিকা ও বাতিঘর হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার ঘোষণা থেকে শুরু করে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন এবং স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের জন্য একটি সুস্পষ্ট পথরেখা তৈরি করে গেছেন।
শনিবার (৩০ মে) হাইকোর্টের সামনে মহান স্বাধীনতার ঘোষক, বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা, বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম)-এর ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত খাদ্য বিতরণ কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ১৯৭১ সালে যখন দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত ছিল কিন্তু রাজনৈতিক নেতৃত্বের দিকনির্দেশনা ছিল না, তখন মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দেন। তার এ ঘোষণায় ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকার স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করেছে এবং জিয়াউর রহমানের অবদানকে খাটো করতে অপপ্রচার চালিয়েছে। একই সঙ্গে বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি রাখা হয়েছিল।
রিজভী বলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে দেশে গণতন্ত্র ধ্বংস করা হয়েছিল, সব রাজনৈতিক দল ও সংবাদমাধ্যম বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন এবং সকল রাজনৈতিক দলের জন্য রাজনীতির সুযোগ সৃষ্টি করেন।
তিনি বলেন, যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দুর্ভিক্ষপীড়িত বাংলাদেশকে স্বনির্ভরতার পথে এগিয়ে নিতে জিয়াউর রহমান কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাল খনন, বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তার নেতৃত্বে দেশের অর্থনীতি ধীরে ধীরে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যায়।
ফারাক্কা বাঁধ প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, পদ্মা নদীর পানির ন্যায্য হিস্যার প্রশ্নে জিয়াউর রহমান আন্তর্জাতিক পর্যায়ে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। তিনি দেশের নদ-নদী ও পানি সম্পদ রক্ষায় সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের স্বাধীন ও ভারসাম্যপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতির মূলনীতি ছিল ‘সবার সঙ্গে বন্ধুত্ব, কারও সঙ্গে গোলামী নয়’। এই নীতির কারণেই তিনি জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছিলেন।
বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রসঙ্গ তুলে রিজভী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব গ্রহণের পর নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়েছেন। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন কর্মসূচির কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দরিদ্র ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠী উপকৃত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ছিলেন বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্বের অধিকারী। স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় তার অবদান জাতিকে আজও অনুপ্রাণিত করে। বিএনপির দুঃসময়ে আইনজীবীদের ভূমিকার কথা স্মরণ করে রিজভী বলেন, রাজনৈতিক মামলা, গ্রেপ্তার ও নির্যাতনের সময় আইনজীবীরাই বিএনপি নেতাকর্মীদের অন্যতম ভরসাস্থল ছিলেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস কাজল, বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট এম বদরুদ্দোজা বাদল, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী সপু, দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট গাজী কামরুল ইসলাম সজল এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি মো. আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়া।
অনুষ্ঠানে বিএনপি এবং আইনজীবী অঙ্গনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
ভিওডি বাংলা/এসআর







