চলে গেলেন গণসংগীতশিল্পী কামরুদ্দীন আবসার

প্রখ্যাত গণসংগীতশিল্পী, গীতিকার ও সংগীত শিক্ষক কামরুদ্দীন আবসার মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
শনিবার (৩০ মে) রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঢাকার বিআইএসএইচ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। মঙ্গলবার (১ জুন) বাদ জোহর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে সোমবার (৩১ মে) সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত তার মরদেহে বিভিন্ন স্তরের মানুষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কামরুদ্দীন আবসার দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন। তিনি ২০১১ সালে স্ট্রোক করেন। এরপর তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
সম্প্রতি নিউমোনিয়া ও ইনফ্লুয়েঞ্জায় আক্রান্ত হলে গত ১৪ মে কামরুদ্দীন আবসারকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মৃত্যু হয়।
কামরুদ্দীন আবসার স্ত্রী ও এক সন্তান রেখে গেছেন। কবি ফেরদৌসী বেগম তার স্ত্রী। সন্তান আদনান মুকিত শিশু-কিশোরদের জনপ্রিয় মাসিক ম্যাগাজিন ‘কিশোর আলো’র নির্বাহী সম্পাদক।
কামরুদ্দীন আবসার দীর্ঘদিন প্রগতিশীল লেখকসংগঠন ‘বাংলাদেশ লেখক শিবির’-এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি সমাজ বদলের রাজনৈতিক–সাংস্কৃতিক আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘গণসংস্কৃতি ফ্রন্ট’-এর একজন সক্রিয় সংগঠক হিসেবে কাজ করেছেন। গণসংগীত দল ‘সৃজন’ এর সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
দিনাজপুরের ফুলবাড়ী কয়লাখনি রক্ষার জন্য ২০০৬ সালে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল। এই আন্দোলনে ‘গণসংস্কৃতি ফ্রন্ট’ থেকে কামরুদ্দীন আবসার অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন।
বামপন্থী সংস্কৃতিকর্মী ও লেখক মহসিন শস্ত্রপাণির লেখা বিপ্লবী গান ‘বলো জয় জাগ্রত বীর জনগণ, হঠাও সাম্রাজ্যবাদ…’ এর সুরকার কামরুদ্দীন আবসার। গানটি ফুলবাড়ী আন্দোলনের সময় আন্দোলনকারীদের প্রধান উদ্দীপক সংগীতে পরিণত হয়েছিল।
বামপন্থী আদর্শভিত্তিক সাংস্কৃতিক আন্দোলনের সঙ্গে কামরুদ্দীন আবসারের নিবিড় সম্পর্ক ছিল। কৃষক-শ্রমিকের মুক্তির সংগ্রামে সাংস্কৃতিক লড়াইকে এগিয়ে নিতে তিনি কাজ করেছেন। গণসংগীতের চর্চা, রচনা ও সুরারোপের পাশাপাশি তিনি শিশুদের অসংখ্য ছড়ায় সুর দিয়েছেন। হেমাঙ্গ বিশ্বাসের গান গাইতেন। দীপ্র নামে তার একটি প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
কামরুদ্দীন আবসারের মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক–রাজনৈতিক অঙ্গনের মানুষ শোক প্রকাশ করেছেন। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে স্মৃতিচারণা করে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ লিখেছেন, ‘গত শতকের ৭০–এর দশকের শেষ থেকে কামরুদ্দীন আবসারকে দেখেছি। ৭০–এর দশকের শেষ থেকে শুরু করে ৮০ ও ৯০–এর দশকে একসঙ্গে সংগঠন করেছেন। তিনি আজীবন মানুষের মুক্তির লড়াইয়ের পাশে সুর নিয়ে দাঁড়িয়েছেন। কত মানুষ তার গানে প্রাণ পেয়েছেন, কত আন্দোলনে তিনি শক্তি জুগিয়েছেন, তার হিসাব নেই। তিনি অসংখ্য কিশোর–তরুণের গানের শিক্ষক। বর্তমানের অনেক শিল্পীর তিনি ওস্তাদ। কামরুদ্দীন আবসারের জন্য অনেক ভালোবাসা, আর গভীর শ্রদ্ধা।’
ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস







