• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

১০ কোটি টাকার হিসাব দিলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১ জুন ২০২৬, ১২:১৭ পি.এম.
এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ। ছবি: সংগৃহীত

এনসিপির শীর্ষ দুই নেতার বিরুদ্ধে কুমিল্লা জেলা পরিষদ থেকে প্রায় ২৫ কোটি টাকা নেওয়ার অভিযোগকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। জেলা প্রশাসকের সাম্প্রতিক এক মন্তব্যে দাবি করা হয়, সংশ্লিষ্ট দুই নেতা বিপুল অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করেছেন-এমন বক্তব্যের পরই বিষয়টি দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসে।

এরই ধারাবাহিকতায় কুমিল্লা-৪ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগের জবাব দিতে ফেসবুক লাইভে এসে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন। তিনি দাবি করেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ “ভুল তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা”।

৪৩ মিনিটের লাইভে বিস্তারিত হিসাব উপস্থাপন

রোববার (৩১ মে) গভীর রাতে দেওয়া প্রায় ৪৩ মিনিটের ফেসবুক লাইভে হাসনাত আবদুল্লাহ ১০ কোটি টাকার অভিযোগের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, আলোচ্য অর্থ কোনো ব্যক্তিগত লেনদেন নয়, বরং স্থানীয় সরকার বিভাগের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় বরাদ্দকৃত অর্থ।

তার ভাষায়, রাজস্ব বরাদ্দ, এডিপি (বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি) এবং বিশেষ বরাদ্দের পার্থক্য না বুঝেই একটি পক্ষ বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছে।

তিনি দাবি করেন, এসব অর্থ জেলা পরিষদের মাধ্যমে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ব্যবহার করা হয়েছে, যা ব্যক্তি পর্যায়ে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

লাইভে তিনি আরও বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেবিদ্বার এলাকায় মোট এডিপি, বিশেষ এডিপি এবং রাজস্ব খাত মিলিয়ে প্রায় ৮ কোটি ৪২ লাখ টাকার উন্নয়ন প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে।

তার মতে, এসব অর্থ কোনো একক খাতে নয়, বরং মোট ১৪৮টি পৃথক উন্নয়ন প্রকল্পে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “এক টাকাও কম বা বেশি নয়-সবকিছু প্রকল্প অনুযায়ী নির্ধারিত হয়েছে। কিন্তু এখন এটাকে ভুলভাবে ১০ কোটি টাকার ব্যক্তিগত গ্রহণ হিসেবে উপস্থাপন করা হচ্ছে।”

জেলা প্রশাসকের বক্তব্যকে তিনি “ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে মন্তব্য করেন। তার দাবি, প্রশাসনিক পর্যায়ে বরাদ্দ কাঠামো সম্পর্কে ভুল ব্যাখ্যার কারণে এমন মন্তব্য এসেছে।

তিনি বলেন, প্রকল্পের বাস্তবায়ন এখনো সম্পূর্ণ হয়নি এবং এসব তথ্য অনলাইনে উন্মুক্তভাবে দেখা যায়। ফলে বিষয়টি গোপন করার কোনো সুযোগ নেই।

লাইভে হাসনাত আবদুল্লাহ অভিযোগ করেন, গত কয়েকদিন ধরে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে “মিডিয়া ট্রায়াল” চালানো হচ্ছে।

তার ভাষায়, “আমাদের বিরুদ্ধে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন আমরা ব্যক্তিগতভাবে টাকা নিয়ে গেছি, অথচ বাস্তবে প্রতিটি প্রকল্পের হিসাব উন্মুক্ত।”

তিনি আরও বলেন, তার এলাকার সব উন্নয়ন বাজেট নিয়মিতভাবে নিজের ফেসবুক পেজে “জবাবদিহিতা” অংশে প্রকাশ করা হয় এবং যেকোনো নাগরিক চাইলে অনলাইনে তথ্য যাচাই করতে পারেন।

এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-এর নেতারা বিষয়টিকে “রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার” হিসেবে দেখছেন বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

দলটির পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ ও ব্যক্তিগত অর্থ আত্মসাতের অভিযোগকে গুলিয়ে ফেলে বিভ্রান্তি তৈরি করা হচ্ছে।

অন্যদিকে প্রশাসনের বক্তব্য ঘিরে ভিন্নমতও তৈরি হয়েছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

দেবিদ্বার এলাকায় চলমান বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের অর্থ বরাদ্দ নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা এখন কেবল প্রশাসনিক ইস্যু নয় বরং রাজনৈতিক বিতর্কে রূপ নিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বরাদ্দের স্বচ্ছতা এবং রাজনৈতিক বক্তব্য-সব মিলিয়ে বিষয়টি এখন জনমতের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।

ফেসবুক লাইভে শেষ দিকে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, উন্নয়ন প্রকল্প সংক্রান্ত সব তথ্য সরকারিভাবে উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যায়। তাই গোপন লেনদেনের অভিযোগ অগ্রহণযোগ্য।

তিনি সমালোচকদের উদ্দেশে বলেন, “ইন্টারনেটে সার্চ করলেই প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়। ভুল ব্যাখ্যা দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা ঠিক নয়।”

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ভাইরাল সেই শিক্ষিকাকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ফোন
ভাইরাল সেই শিক্ষিকাকে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর ফোন
কোরবানি হচ্ছে না ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
কোরবানি হচ্ছে না ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’
মতিঝিলের অফিস সরিয়ে নিলেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি
মতিঝিলের অফিস সরিয়ে নিলেন নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারি