ঢাকাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে: আবদুস সালাম

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, মানুষ পারে না এমন কোনো কাজ নেই। ঢাকা শহরকে বাসযোগ্য করার কাজও আমরা অবশ্যই করতে পারব। এটি সময়সাপেক্ষ হলেও আমাদের তা করতেই হবে, ঢাকা শহরকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।
শনিবার (৬ জুন) বিকেলে রাজধানীর পুরানা পল্টনের ফারস হোটেলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘দক্ষিণের জানালা’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, মানসিকতার ইতিবাচক পরিবর্তন ঘটিয়ে রাজধানীকে একটি আধুনিক ও বাসযোগ্য নগরীতে রূপান্তরিত করা সম্ভব। ঢাকা শুধু একটি শহর নয়, এটি আদি ঢাকার শত বছরের সংস্কৃতি, কৃষ্টি ও ঐতিহ্যের ধারক। এসব ঐতিহ্য নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আগামী আগস্টে ঢাকা মিউনিসিপ্যালিটির প্রতিষ্ঠার ১৬০ বছর পূর্তি উপলক্ষে দুই দিনব্যাপী আয়োজন করা হবে। সেখানে ঢাকার ঐতিহ্যবাহী খাবার, সংস্কৃতি, কাওয়ালি, বাখরখানি, পিঠা এবং নবাব পরিবারের ইতিহাসসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হবে। আমরা চাই ঢাকার মানুষ তাদের শেকড়কে নতুন করে চিনুক। ঢাকার ইতিহাস, সাহিত্য ও সংস্কৃতিকে সামনে এনে নগরবাসীর মধ্যে ঐতিহ্যবোধ জাগ্রত করতে চাই।
ঢাকাকে আরও বাসযোগ্য করে তুলতে নগরবাসীর সহযোগিতা কামনা করে আবদুস সালাম বলেন, “আমি যদি বদলাই, ঢাকা বদলাবে”—এই বিশ্বাস থেকেই সবাইকে পরিবর্তনের অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানাই।
নগর উন্নয়ন ও জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রতি মাসে বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা ও মতবিনিময় সভা আয়োজনেরও ঘোষণা দেন তিনি।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন অটিস্টিক শিশুদের জন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করবে। এ বিষয়ে পৃথক কর্মপরিকল্পনা ও বাজেট বরাদ্দের কথা জানিয়ে তিনি বলেন, অটিস্টিক শিশুদের অনেক প্রতিভা রয়েছে, যা বিকাশের সুযোগ করে দেওয়া প্রয়োজন। তাদের অধিকার নিশ্চিত করতে এবং দক্ষতা উন্নয়নে ডিএসসিসি কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
নগরের সাংস্কৃতিক অবকাঠামোর প্রসঙ্গ তুলে ধরে আবদুস সালাম বলেন, সিটি করপোরেশনের অধীনে থাকা অনেক লাইব্রেরি, কমিউনিটি সেন্টার, ব্যায়ামাগার ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম বর্তমানে কার্যকারিতা হারাতে বসেছে। এসব প্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করতে উদ্যোগ নেওয়া হবে। ঘুড়ি উৎসব, নৌকাবাইচ, কাওয়ালি উৎসবসহ পুরান ঢাকার ঐতিহ্যবাহী আয়োজনগুলো আবারও চালু করা হবে। এমন একটি পরিবেশ গড়ে তোলা হবে, যাতে মানুষ পুরান ঢাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য না হয়।
আরবান হেলথ প্রকল্প বিষয়ে দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলেন, এটি রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের বিষয়। তবে এ খাতে কর্মরতরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এবং সিটি করপোরেশনে সুযোগ থাকলে তাদের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগানোর জন্য কর্মসংস্থানের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।
ভিওডি বাংলা/এফএ







