নেত্রকোণায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে আগুন, জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি

নেত্রকোণায় জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের দাবি উঠেছে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক মহল থেকে। শহরের মোক্তারপাড়া সেতুর পাশের স্মৃতিস্তম্ভে দুর্বৃত্তরা আগুন দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
মঙ্গলবার (৯ জুন) গভীর রাতে একদল ব্যক্তি মোটরসাইকেলে করে ঘটনাস্থলে আসে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা যায়। পরে তারা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন ধরিয়ে দেয়। এ সময় তাদের রাজনৈতিক স্লোগান দিতেও শোনা যায় বলে ভিডিওতে দেখা গেছে। ঘটনার পরপরই তারা দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে।
অগ্নিসংযোগের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে জনমনে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে ইতিহাস ও গণআন্দোলনের স্মৃতির প্রতি অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেছেন। রাজনৈতিক নেতারাও ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন।
এ ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেত্রকোণা জেলা জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ফাহিম রহমান খান পাঠান। নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, এ ঘটনার পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে। একই সঙ্গে তিনি দায়ীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানান।
নেত্রকোণা জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি অধ্যাপক শেখ বদরুল আমীন বলেন, যারা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দিয়েছে তারা সমাজবিরোধী ও দুষ্কৃতিকারী। তিনি এ ঘটনার নিন্দা জানিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি করেন।
জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল কাদের সুজাও ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। তার ভাষ্য, কোনোভাবেই এমন নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড গ্রহণযোগ্য নয়। অগ্নিসংযোগের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
এদিকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে নেত্রকোণা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন সরকার বলেন, রাতে দুর্বৃত্তরা স্মৃতিস্তম্ভে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটিয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা







