বাজেট ২০২৬-২৭
খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের ভাতা বাড়ানোর প্রস্তাব

মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে ৪ হাজার ৭৩০টি ‘বীর নিবাস’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সুবিধা আরো সম্প্রসারণ হবে। মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে বিভিন্ন ভাতা ও সুবিধা সরকার অব্যাহত রেখেছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এর আওতায় সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক সম্মানী ২০ হাজার টাকা অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা বীরশ্রেষ্ঠ, বীর উত্তম, বীর বিক্রম ও বীর প্রতীক পরিবারগুলোর মাসিক ভাতা ৫ হাজার টাকা করে বাড়িয়ে যথাক্রমে ৪০ হাজার, ৩০ হাজার, ২৫ হাজার ও ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আরো জানানো হয়, সরকার মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন নিশ্চিত করতে ৪ হাজার ৭৩০টি ‘বীর নিবাস’ নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। এর মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের আবাসন সুবিধা আরো সম্প্রসারণ হবে।
এছাড়া উৎসব ভাতা, বাংলা নববর্ষ ভাতা, চিকিৎসা সেবা ও দাফন অনুদানসহ বিভিন্ন কল্যাণমূলক সুবিধা চালু রয়েছে। এমআইএস পদ্ধতিতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সমন্বিত তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে এবং জিটুপি প্রক্রিয়ায় সরাসরি তাদের ব্যাংক হিসাবে ভাতা প্রদান করা হচ্ছে। যুদ্ধাহত, খেতাবপ্রাপ্ত ও শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের রাষ্ট্রীয় সম্মানী ভাতা ইএফটি প্রক্রিয়ায় দেয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ঋণ সুবিধাও দেয়া হচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদে আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এতে বাজেট ঘাটতি দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী জানান, প্রস্তাবিত রাজস্ব আয়ের মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য উৎস থেকে ৯১ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট রাজস্ব আয় জিডিপির ১০ দশমিক ২ শতাংশের সমান।
তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে মোট ব্যয়ের পরিমাণ প্রাক্কলন করা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ১৩ দশমিক ৭ শতাংশ। এটি চলতি অর্থবছরের বাজেটের তুলনায় ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বেশি। এর মধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ ৩ লাখ কোটি টাকাসহ মোট উন্নয়ন ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকা। পরিচালন ও অন্যান্য খাতে ব্যয়ের প্রস্তাব করা হয়েছে ৬ লাখ ২১ হাজার ৯২৫ কোটি টাকা।
ভিওডি বাংলা/এফএ







