‘প্রেমের’ প্রমাণ পেয়ে ধর্ষণে গ্রেপ্তার জিসানকে বহিষ্কার করল শিবির

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে। ফলে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী শিবির নেতা জিসান আহমেদকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের প্রচার সম্পাদক এসএম ফরহাদ।
শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে শুক্রবার জিসান আত্মগোপনে গিয়ে নিখোঁজের নাটক সাজান। যা পুলিশ উদঘাটন করতে সক্ষম হয় এবং ধর্ষণ ও জোরপূর্বক ভ্রুণ হত্যার অভিযোগে দায়ের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করে।
জিসানের উদ্ধার ও পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে এস এম ফরহাদ তিনটি মূল বিষয় তুলে ধরেছেন। তিনি জানান, ‘গতরাতে (শুক্রবার) পুলিশ জিসানকে উদ্ধার করার পর থেকে আজ (শনিবার) দুপুর ১:৩০টা পর্যন্ত ছাত্রশিবিরের কোনো প্রতিনিধি দল কিংবা জিসানের পরিবারের সদস্যদের তার সঙ্গে কথা বলার সুযোগ দেয়নি প্রশাসন। এখনো জিসান পুলিশের জিম্মায় রয়েছে। ফলে নিখোঁজ সংক্রান্ত তার বিস্তারিত বক্তব্য জানবার সুযোগ আমরা পাইনি। ফলশ্রুতিতে, নিখোঁজ কিংবা অপহরণ সংক্রান্ত বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য ছাড়া দ্বিতীয় কোন সোর্স এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে নেই। জিসানের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরকারী বিধবা নারীর বড় বোন জানিয়েছেন, গতকাল (শুক্রবার) বিকালে ১৫-২০ জন পুলিশ বা প্রশাসনের লোক তাদের বাড়ি থেকে লিজাকে নিয়ে যায়। এ সময় পরিবারের অন্য সদস্যদের তার সঙ্গে যেতে দেওয়া হয়নি। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ভিটকিম ও তার বাবাকে এখনো পুলিশের জিম্মায় আইসোলেটেড অবস্থায় রাখা হয়েছে এবং তাদের সঙ্গে কোনো ধরনের যোগাযোগ করা যাচ্ছে না। ভিকটিমের বড় বোন সাবিকুন্নাহার জানান, বাড়ি থেকে পুলিশ নিয়ে যাওয়ার সময় থেকে শুরু করে থানায় নেওয়া, মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া এবং বর্তমান পরিস্থিতি—কোনো বিষয় সম্পর্কেই তিনি বিস্তারিত অবগত নন। কারণ, তিনি বা তার পরিবারের সদস্যরা পুলিশের জিম্মায় থাকা তার বোন ও তার বাবার সাথে কোন প্রকার যোগাযোগ করতে পারেনি। তবে, তিনি জিসান এবং ভিকটিমের প্রেমের সম্পর্কের ব্যাপারে আগে থেকেই অবগত বলে জানিয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট কোনো পক্ষের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করতে না পারায় এখন পর্যন্ত আমরা নিখোঁজ ঘটনার প্রকৃত রহস্য বা বাস্তবতা উদ্ঘাটন করতে সক্ষম হইনি। তবে প্রেমের সম্পর্ক প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী তাকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে কোনো ধরণের অপরাধ প্রমাণিত হলে ভুক্তভোগীকে সকল প্রকার আইনি সহায়তা প্রদান করা হবে।’
ভিওডি বাংলা/আরআর/আ







