ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় জোটের বিভাগীয় সমাবেশ আজ

চট্টগ্রাম নগরীর ঐতিহাসিক লালদীঘি ময়দানে ১১ দলীয় ঐক্যের বিভাগীয় রাজনৈতিক সমাবেশস্থলে। দেশের চলমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিভিন্ন জনদাবি সামনে রেখে আয়োজিত এ সমাবেশকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় নেওয়া হয়েছে ব্যাপক প্রস্তুতি।
শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে আয়োজক সূত্র জানায়, সমাবেশে অংশ নেওয়া নেতারা গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ কমানো, নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো তুলে ধরবেন।
এ মহাসমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার কথা রয়েছে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের। তার উপস্থিতি সমাবেশকে আরও রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ করে তুলেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এতে সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন- জামায়াতের আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান এমপি।
এছাড়া বক্তব্য দেবেন-লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান ড. কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম), জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম এমপি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক, খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসাইন, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও মুখপাত্র ইঞ্জিনিয়ার রাশেদ প্রধান, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টির মহাসচিব মাওলানা মুসা বিন ইজহার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টির (বিডিপি) চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট একেএম আনোয়ারুল ইসলাম চান এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয়, জেলা ও মহানগরের নেতারা।
সমাবেশের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং চট্টগ্রাম অঞ্চলের টিম পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান। তিনি সমাবেশকে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
আয়োজকদের দাবি, চট্টগ্রাম বিভাগজুড়ে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী এবং সাধারণ মানুষ সমাবেশে অংশ নেবেন। এজন্য ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ে সংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।
নেতারা জানিয়েছেন, সমাবেশকে সফল করতে বিভিন্ন ইউনিটে সমন্বিতভাবে কাজ চলছে। পরিবহন, অবস্থান, মঞ্চ ব্যবস্থাপনা ও শৃঙ্খলা রক্ষায় আলাদা টিম গঠন করা হয়েছে।
সমাবেশকে ঘিরে লালদীঘি ময়দানের এক পাশে বড় আকারের মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। দর্শক ও অংশগ্রহণকারীদের জন্য আলাদা অংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থায় স্থানীয় প্রশাসনের পাশাপাশি স্বেচ্ছাসেবক টিমও কাজ করবে বলে জানা গেছে। যান চলাচল ও ভিড় নিয়ন্ত্রণে বিশেষ পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতের সেক্রেটারি মুহাম্মদ নুরুল আমিন বলেন, “এই সমাবেশ সফল করতে আমরা সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছি। বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেবেন।”
তিনি আরও বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রেখে জনগণের দাবি তুলে ধরাই এই আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
অন্যদিকে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মুহাম্মদ শাহজাহান বলেন, এই সমাবেশ কোনো একক দলীয় স্বার্থে নয়, বরং দেশের জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার একটি প্ল্যাটফর্ম।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ১১ দলীয় ঐক্যের এই সমাবেশ চট্টগ্রাম অঞ্চলে বড় ধরনের রাজনৈতিক শক্তি প্রদর্শনের সুযোগ তৈরি করেছে। বিভিন্ন মতাদর্শের দল এক মঞ্চে আসায় এটি জাতীয় রাজনীতিতেও আলাদা গুরুত্ব বহন করছে। সমাবেশকে কেন্দ্র করে জনসমর্থন ও সাংগঠনিক সক্ষমতা প্রদর্শনের প্রতিযোগিতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে বলেও মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সমাবেশ শুরুর আগে শুক্রবার আয়োজক দলের নেতারা সমাবেশস্থল পরিদর্শন করেন। তারা মঞ্চ, প্রবেশপথ, দর্শক অবস্থান এবং সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ঘুরে দেখেন।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের লালদীঘি ময়দান আজ বিকেলে একটি বড় রাজনৈতিক সমাবেশে রূপ নিতে যাচ্ছে, যেখানে ১১ দলের ঐক্যবদ্ধ শক্তি প্রদর্শিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভিওডি বাংলা/জা







