জিয়াউর রহমানের অন্যতম সৃষ্টি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’: মঈন খান

শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের অন্যতম সৃষ্টি ‘বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী ড. আব্দুল মঈন খান।
তিনি বলেন, জিয়াউর রহমান বিশ্বাস করতেন, শুধু বাঙালি নয়; চাকমা, মারমা, হাজং, মুরং, সাঁওতালসহ এ দেশের সব জাতিগোষ্ঠীর সমন্বয়ে গড়ে উঠেছে বাংলাদেশ। সবাই মিলে একটি সুন্দর ফুলের মালা তৈরি করে, আর সেই মালার নামই বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।
শুক্রবার (১২ জুন) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের কাজী নজরুল ইসলাম মিলনায়তনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণের উদ্যোগে আয়োজিত শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মঈন খান বলেন, জিয়াউর রহমানকে স্মরণ করার সর্বোত্তম উপায় হলো তাঁর আদর্শ অনুসরণ করা। তাঁর জীবনের আদর্শ ছিল সততা, কর্মপদ্ধতি ছিল শৃঙ্খলা এবং বিশ্বাস ছিল দেশপ্রেম। এই তিনটি গুণ ব্যক্তি ও সমাজজীবনে ধারণ করতে পারলে বাংলাদেশ সঠিক পথে পরিচালিত হবে।
তিনি বলেন, দেশের এক সংকটময় সময়ে নিজের জীবনকে বাজি রেখে কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। সেই ঘোষণায় উজ্জীবিত হয়ে লাখো মানুষ মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। পরিবার, সন্তান কিংবা নিজের জীবনের নিরাপত্তার কথা না ভেবে তিনি দেশের স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন।
মঈন খান বলেন, জিয়াউর রহমানের ইতিহাস শুধু স্বাধীনতার ঘোষণায় সীমাবদ্ধ নয়। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার বিপ্লবের পর দেশের মানুষ তাঁকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেয়। তিনি অভিযোগ করেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সালের মধ্যে আওয়ামী লীগ বাকশাল কায়েমের মাধ্যমে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছিল এবং মানুষের রাজনৈতিক অধিকার হরণ করেছিল।
বিএনপির এই নেতা বলেন, মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে জিয়াউর রহমান ধ্বংসপ্রায় বাংলাদেশকে বিশ্বের বুকে সম্মানজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হন। তিনি স্মরণ করেন, জিয়াউর রহমান স্বয়ং তিনটি জাতীয় বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন এবং সেই বাজেটের মূল লক্ষ্য ছিল তৃণমূল ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন।
মঈন খান বলেন, একসময় বাংলাদেশকে ‘তলাবিহীন ঝুড়ি’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তবাজার অর্থনীতির বিকাশ, গার্মেন্টস শিল্পের সূচনা এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আসে। তিনি দাবি করেন, পরবর্তীকালে টাইম ম্যাগাজিন বাংলাদেশকে একটি ‘সাকসেস কেস’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
তিনি বলেন, কৃষি, মৎস্য ও শ্রমজীবী মানুষের উন্নয়নে জিয়াউর রহমান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিলেন। বঙ্গোপসাগরের মৎস্যসম্পদের সম্ভাবনা তুলে ধরতে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিয়ে শিক্ষা সফরের আয়োজন করেছিলেন। একই সঙ্গে খাল খনন কর্মসূচি ও উন্নত জাতের ধান উৎপাদনের মাধ্যমে কৃষিক্ষেত্রে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছিলেন।
মঈন খান আরও বলেন, সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্কের কারণে জিয়াউর রহমান ‘রাখাল রাজা’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তিনি প্রাসাদে বসে রাজনীতি করেননি; বরং গ্রামগঞ্জে ঘুরে মানুষের সমস্যা জেনেছেন এবং সেগুলোর সমাধানে কাজ করেছেন।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ প্রথমবারের মতো জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিল। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা (সার্ক) প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। ইরান-ইরাক যুদ্ধের সময় আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে গঠিত আল-কুদস কমিটির সদস্য হিসেবেও তাঁকে মনোনীত করা হয়েছিল।
নতুন প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মঈন খান বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জীবন, আদর্শ ও অর্জন সম্পর্কে জানতে হবে এবং সেগুলো নিজেদের জীবনে ধারণ করতে হবে।
তিনি বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার অবদান এবং বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশকে আরও মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







