চিকিৎসক-নার্সদের ওপর হামলার নিন্দা জানালেন ডা. রফিকুল ইসলাম

দেশের স্বাস্থ্যখাতে কর্মরত চিকিৎসক, নার্স, টেকনোলজিস্টসহ অন্যান্য সেবা প্রদানকারীদের ওপর সাম্প্রতিক সময়ে ঘটে যাওয়া সহিংসতা, হুমকি ও লাঞ্ছনার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর যেকোনো ধরনের শারীরিক আক্রমণ বা অপমান কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি পুরো স্বাস্থ্যব্যবস্থার জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ অবস্থান তুলে ধরেন। বিবৃতিতে তিনি বরিশালের একটি বেসরকারি হাসপাতালে রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চিকিৎসককে লাঞ্ছিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ প্রতিক্রিয়া জানান।
তিনি উল্লেখ করেন, রোগীর মৃত্যু একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল ও দুঃখজনক ঘটনা। এ ধরনের পরিস্থিতিতে স্বাভাবিকভাবেই রোগীর স্বজনদের মধ্যে শোক, ক্ষোভ ও মানসিক চাপ সৃষ্টি হয়। তবে সেই আবেগকে কেন্দ্র করে চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের ওপর সহিংস আচরণ কোনোভাবেই যুক্তিসঙ্গত নয়। বরং এটি আইন ও মানবিকতার পরিপন্থী।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, চিকিৎসা পেশা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও চাপপূর্ণ একটি ক্ষেত্র, যেখানে চিকিৎসক ও নার্সরা সীমিত সম্পদ, জনবল সংকট এবং অতিরিক্ত রোগীর চাপের মধ্যেও প্রতিনিয়ত জীবন বাঁচাতে কাজ করে যাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতিতে তাদের ওপর হামলা বা হুমকি শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার জন্য নয়, বরং পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়।
ডা. রফিকুল ইসলাম অভিযোগ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে চিকিৎসক, নার্স ও হাসপাতাল কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনা বেড়েছে, যা উদ্বেগজনক। তার মতে, এ ধরনের ঘটনার ধারাবাহিকতা দেশের স্বাস্থ্যখাতে একটি অনিরাপদ পরিবেশ তৈরি করছে, যা দীর্ঘমেয়াদে রোগীসেবাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
তিনি আরও দাবি করেন, একটি সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে চিকিৎসক ও নার্সদের বড় একটি অংশ কর্মক্ষেত্রে মানসিক বা শারীরিক হয়রানির শিকার হন। তবে এসব ঘটনার বেশিরভাগই আনুষ্ঠানিকভাবে রিপোর্ট করা হয় না, ফলে প্রকৃত চিত্র অনেক সময় আড়ালে থেকে যায়।
বিবৃতিতে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট উল্লেখ করে তিনি বলেন, দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের সহিংসতার পেছনে কোনো পরিকল্পিত কারণ বা ষড়যন্ত্র রয়েছে কিনা, তা গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তিনি দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করার আহ্বান জানান।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, কোনো চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে অসন্তোষ থাকলে তার সমাধানের জন্য নির্ধারিত আইনগত ও প্রশাসনিক কাঠামো রয়েছে। অভিযোগ জানানো, তদন্ত করা এবং বিচার পাওয়ার সুযোগ বিদ্যমান। তাই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিএনপির এই নেতা মনে করেন, হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে সহিংসতা শুধু ব্যক্তিগত নিরাপত্তার সমস্যা নয়, এটি সামগ্রিক চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে রোগীরা সঠিক সেবা থেকে বঞ্চিত হতে পারেন এবং চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রতি আস্থা কমে যেতে পারে।
তিনি আরও বলেন, যদি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরাপদ পরিবেশে কাজ করতে না পারেন, তবে তারা মানসিকভাবে ভেঙে পড়বেন, যার সরাসরি প্রভাব পড়বে রোগীর চিকিৎসা সেবার মানের ওপর। এর ফলে অনেকেই চিকিৎসার জন্য বিদেশমুখী হতে পারেন বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
বিবৃতির শেষাংশে তিনি সরকার, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে হাসপাতালভিত্তিক নিরাপত্তা প্রটোকল কার্যকর করা, দ্রুত আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং “স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন” বাস্তবায়নে অগ্রাধিকার দেওয়া প্রয়োজন।
তিনি দাবি করেন, স্বাস্থ্যকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না গেলে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। তাই সমাজের সকল স্তরের মানুষকে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের মর্যাদা রক্ষায় এগিয়ে আসতে হবে।
ভিওডি বাংলা/জা







