বিটিএল গ্রুপের সিইও গ্রেপ্তার, যার ফাঁদে পা দিলে সম্পত্তি হাওয়া হয়ে যায়

প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে বিটিএল গ্রুপের সিইও মির্জা আবুল বাশার গ্রেপ্তার হয়েছেন।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গুলশান বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা শনিবার (২০ জুন) দুপুরে ভিওডি বাংলাকে তার গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছে। এ বিষয়ে ডিএমপির মিডিয়া বিভাগে সন্ধ্যায় একটি সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে, যেখানে বিস্তারিত জানাবেন গুলশান বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) এম তানভীর আহমেদ।
বিটিএল গ্রুপের প্রধান কার্যালয় রাজধানীর গুলশানে। এই শিল্পগ্রুপের অধীনে বিটিএল লুব্রিকেন্ট, বিটিএল টেকনোলজি অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজ, বিটিএল ফুড অ্যান্ড বেভারেজ এবং বিটিএল অ্যাগ্রো ইন্ডাস্ট্রিজসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, তার ফাঁদে একবার পা দিলে কোটি টাকার সম্পত্তি কিংবা মাথার ঘাম পায়ে ফেলা পুঁজি—সবকিছু হাওয়া হয়ে যায়। তিনি আর কেউ নন, বহুল আলোচিত বিটিএল গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মির্জা আবুল বাশার।
কোরবানির ঈদের আগে দিন-রাত এক করে বড় করা খামারিদের গরু কিনে ‘ফাঁকা বাউন্স চেক’ দিয়ে প্রতারণার অভিযোগের কালি এখনো শুকায়নি। তার রেশ না কাটতেই সামনে এসেছে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত গাড়ি ও কম্পিউটার জালিয়াতির দীর্ঘ তালিকা। শুধু রাজধানীর গুলশান ও বনানী থানাতেই এই মির্জা বাশারের বিরুদ্ধে রয়েছে এক ডজনেরও বেশি মামলা! বেশ কয়েকবার জেল খাটলেও জামিনে বের হয়ে এসে আবারও একই কায়দায় মেতে ওঠেন নতুন কোনো জালিয়াতিতে। এখনো বেশ কয়েকটি মামলায় তার বিরুদ্ধে অ্যারেস্ট ওয়ারেন্ট রয়েছে।
তথ্য বলছে, মির্জা বাশার লিখিত চুক্তিতে মাসিক ভাড়ায় প্রাইভেটকার নিয়ে উধাও করে দেন। অন্যদিকে, কম্পিউটার ও আইটি সামগ্রী কিনে তার টাকাও হজম করে ফেলার নজির রয়েছে।
গুলশানের একটি প্রতিষ্ঠিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখলের অভিযোগে গণপিটুনি ও মারধরের শিকার হন তিনি।
অভিযোগ রয়েছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা নিয়মিত অনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকেন বাশারের কাছ থেকে। ভুক্তভোগীরা যখনই থানা বা ডিবিতে অভিযোগ করতে যান, মুহূর্তে খবর পান বাশার।
মির্জা বাশারের এই জালিয়াতির বিরুদ্ধে কেউ যদি টু শব্দ করে কিংবা নিজের পাওনা টাকা বা সম্পত্তি ফেরত চায়, নেমে আসে নারকীয় নির্যাতন। অভিযোগকারী এবং তার পরিবারকে দিন-রাত মোবাইলে হুমকি দেয় এই চক্র।
শুধু তা-ই নয়, তার বেতনভুক্ত ‘সাইবার বাহিনী’ ভুক্তভোগীদের নামে নানা কুৎসিত ও মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে সামাজিকভাবে হেনস্তা করে, ব্ল্যাকমেইল করে। বাশারের এই ত্রিমুখী আক্রমণের কারণে অনেক ভুক্তভোগীই এখন মুখ খোলার সাহস পাচ্ছেন না।
ব্যবসায়িক খাতের পাশাপাশি মির্জা বাশার ব্যক্তিগত জীবনেও নিখুঁত প্রতারক।
এ পর্যন্ত তিনি তিনটি বিয়ে করেছেন, যার প্রতিটি অধ্যায়েই রয়েছে প্রতারণার আশ্রয়। প্রথম স্ত্রীকে ঘরে রেখেই সম্পূর্ণ তথ্য গোপন করে নিজেকে ‘অবিবাহিত’ দাবি করে দ্বিতীয় বিয়ে করেন মির্জা বাশার। পরবর্তী সময়ে বাশারের আগের সংসারের কথা জানাজানি হলে এবং প্রতারণা ফাঁস হয়ে গেলে দ্বিতীয় স্ত্রীর সঙ্গে তার ডিভোর্স হয়ে যায়। কিন্তু এই স্বভাবজাত প্রতারকের জাল এখানেই থামেনি। এরপর তিনি নিজের কর্পোরেট ও চটকদার আভিজাত্যের ফাঁদে ফেলে বিয়ে করেন ঢাকার চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা ববিকে। সচেতন মহলের প্রশ্ন—সিনেমার পর্দায় খলনায়কদের দমন করা চিত্রনায়িকা ববিও কি শেষ পর্যন্ত এই বাস্তব জীবনের মহাপ্রতারকের শিকার হলেন?
একটি বাউন্স হওয়া চেক, ডজনখানেক মামলা, দফায় দফায় জেল খাটা, অবৈধ প্রভাব আর সাধারণ মানুষের দীর্ঘশ্বাস—এ নিয়েই টিকে ছিল বাশারের সাম্রাজ্য।
ভিওডি বাংলা/এফএ







