গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ও বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে সফল করতে সবাইকে ধৈর্য ধারণ ও ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। গণতন্ত্রই দেশের মানুষের অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করার একমাত্র পথ।
শনিবার (২০ জুন) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে বাংলাদেশ ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
আবদুস সালাম বলেন, ওয়ার্কার্স পার্টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। দীর্ঘদিন ধরে দলটি আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা রেখে এসেছে। গত ১৭ বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও জোট একসঙ্গে আন্দোলন করেছে এবং সেই ধারাবাহিকতায় দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
তিনি বলেন, সমাজতন্ত্র কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক আদর্শ বাস্তবায়নের পূর্বশর্ত হলো গণতন্ত্র। তাই গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার বিকল্প নেই।
সরকারবিরোধী আন্দোলনের বিভিন্ন আহ্বানের সমালোচনা করে ঢাকা দক্ষিণ সিটির প্রশাসক বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই সরকার পতনের দাবি তোলা গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য শুভ লক্ষণ নয়। দেশে এমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি, যাতে সরকার উৎখাতের মতো অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। বরং সরকার সাধারণ মানুষের কল্যাণে কাজ করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক মন্দা ও আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও পড়েছে। এ অবস্থায় রাজনৈতিক অস্থিরতা না বাড়িয়ে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের অর্থনীতি ও গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার চেষ্টা করতে হবে।
জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে চলমান রাজনৈতিক বিতর্কের প্রসঙ্গ টেনে আবদুস সালাম বলেন, এই আন্দোলন একদিনে গড়ে ওঠেনি। দীর্ঘ ১৭ বছরের আন্দোলন, সংগ্রাম, গুম, কারাবরণ ও ত্যাগের মধ্য দিয়ে এর ভিত্তি তৈরি হয়েছে। কোনো একটি দল বা গোষ্ঠী এককভাবে এর কৃতিত্ব দাবি করতে পারে না।
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনা। বিএনপি সেই লক্ষ্য থেকে কখনো সরে যায়নি এবং ভবিষ্যতেও যাবে না।
নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচন চায় এবং যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচন চায়। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য নির্ভুল ভোটার তালিকা অপরিহার্য। অতীতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় প্রকৃত বাসিন্দা নন- এমন ব্যক্তিদের ভোটার করার অভিযোগ রয়েছে। তাই ঢাকা সিটি করপোরেশন এলাকায় নতুন ও হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রণয়ন করে নির্বাচন আয়োজন করা উচিত।
তিনি দাবি করেন, আগের ভোটার তালিকায় অসংখ্য ভুয়া বা অস্তিত্বহীন ভোটারের নাম রয়েছে। ফলে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের স্বার্থে নতুন ভোটার তালিকা প্রস্তুত করা প্রয়োজন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বলেন, গণতন্ত্রকে টেকসই করতে হলে সবাইকে সহনশীল হতে হবে। সমালোচনা থাকবে, মতপার্থক্য থাকবে; কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ধ্বংস করার সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সবসময় গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকারের প্রশ্নে আপসহীন ভূমিকা পালন করেছেন। দেশের স্বার্থে এবং গণতন্ত্র রক্ষায় তারেক রহমানও সংগ্রাম চালিয়ে যাবেন।
সবশেষে আবদুস সালাম বর্তমান সরকারের প্রতি রাজনৈতিক দল ও জনগণের সহযোগিতা কামনা করেন এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্যে সবাইকে ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
ভিওডি বাংলা/খতিব/এমএস







