সেতু কর্তৃপক্ষের ‘সঞ্জিবনী কোর্স’ সম্পন্ন, দক্ষতা বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যোগ

কর্মক্ষেত্রে দক্ষতা বৃদ্ধি ও পেশাগত মানোন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের আয়োজিত পাঁচ দিনব্যাপী ‘সঞ্জিবনী কোর্স’ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। প্রশিক্ষণ শেষে অংশগ্রহণকারী কর্মচারীদের হাতে সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়।
শনিবার (২০ জুন) বগুড়ার পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ)-তে অনুষ্ঠিত সমাপনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পের আওতায় ১০ থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।
গত ১৬ জুন থেকে শুরু হওয়া এ প্রশিক্ষণে সেতু কর্তৃপক্ষের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারীরা অংশ নেন।
সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ), বগুড়ার পরিচালক (প্রশিক্ষণ) মো. দেলোয়ার হোসেন।
বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্পটি ২০১৭ সালের জুলাইয়ে শুরু হয়। এই ‘সঞ্জিবনী কোর্স’ সমাপ্তির মধ্য দিয়ে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক সমাপ্তি ঘটে। প্রকল্প পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন সেতু কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ও সরকারের অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, “সরকারি কর্মচারীরাই হলো রাষ্ট্রের উন্নয়নের মূল চালিকাশক্তি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বে আমরা একটি ‘নিরাপদ, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ গঠনের লক্ষ্যে কাজ করছি। এই লক্ষ্য অর্জনে প্রতিটি কর্মচারীকে সময়োপযোগী প্রশিক্ষণ ও দক্ষতার উৎকর্ষ সাধন করতে হবে। ‘সঞ্জিবনী’ প্রশিক্ষণ কেবল একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং এটি আপনাদের কর্মজীবনের নতুন প্রেরণা। আমি আশাবাদী যে, আজকের এই প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত শিক্ষা আপনাদের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক সকল কাজে প্রতিফলিত হবে।”
প্রকল্প পরিচালক ও অতিরিক্ত সচিব আলতাফ হোসেন সেখ বলেন, “বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সাথে তাল মিলিয়ে সরকারি সেবা প্রদানকে আরও আধুনিক ও জনবান্ধব করার লক্ষ্যেই আমাদের এই ‘সঞ্জিবনী’ কোর্সের উদ্যোগ গ্রহণ। প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী কর্মচারীদের মধ্যে কাজের প্রতি নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি হয়েছে, যা তাদের দাপ্তরিক কর্মদক্ষতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। আমরা আশা করছি, এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে অর্জিত জ্ঞান তারা কর্মক্ষেত্রে সেবার মান নিশ্চিত করতে কার্যকরভাবে ব্যবহার করবেন।”
আরডিএ পরিচালক দেলোয়ার হোসেন বলেন, “যেকোনো প্রতিষ্ঠানের সাফল্যের চাবিকাঠি হলো এর মানবসম্পদের সঠিক উন্নয়ন। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে যে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখছে, তার পেছনে রয়েছে আপনাদের মতো নিবেদিতপ্রাণ কর্মচারীদের অক্লান্ত পরিশ্রম। পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (আরডিএ) দীর্ঘদিন ধরে সরকারি কর্মকর্তাদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে কাজ করে যাচ্ছে এবং এই ‘সঞ্জিবনী’ কোর্সটি সেই ধারাবাহিকতারই একটি অংশ।”
অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণার্থীরা তাদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। পরে প্রধান অতিথি অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সনদ বিতরণ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে ঢাকা ফেরার পথে যমুনা সেতু সাইট অফিস এলাকায় জাতীয় বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির আওতায় চলমান কার্যক্রম পরিদর্শন করেন সেতু বিভাগের সচিব। তিনি বর্ষা মৌসুমের মধ্যে পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় বৃক্ষরোপণ সম্পন্নের নির্দেশনা দেন।
এ সময় তিনি ইটিসি লেন চালু, RFID রিডার ও ONVIF ফিচার সমৃদ্ধ ANPR ক্যামেরা স্থাপন এবং সিস্টেম ইন্টিগ্রেশন দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি সেতুর আশপাশের পরিবেশ সংরক্ষণ ও সবুজায়ন এবং আধুনিক টোল ব্যবস্থাকে আরও জনবান্ধব করার নির্দেশনা দেন।
ভিওডি বাংলা/এমএস







