• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live
টপ নিউজ
বিএনপিকর্মীকে ‘খেয়ে’ ফেলার হুমকি দিলেন এমপি হানজালা বন্ধ ও অলাভজনক কারখানায় বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে: ডিএসসিসি প্রশাসক আদালতে তথ্য সংগ্রহে পুলিশের বাধা, আহত ২ সাংবাদিক টেক্সটাইলে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে: শিক্ষামন্ত্রী দুধ দিয়ে গোসল করে আর্জেন্টিনা ছেড়ে ব্রাজিলে যোগদান জঙ্গল সলিমপুরে র‍্যাব সদস্য হত্যা, পলাতক আসামি গ্রেপ্তার প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে শিশুদের ‘ভোঁ দৌড়’, মাঠজুড়ে উচ্ছ্বাস ভার্সাই প্রাসাদে ট্রাম্পের মধ্যরাতের নাটক রামপুরায় ৪২ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করলো এপিবিএন

ভার্সাই প্রাসাদে ট্রাম্পের মধ্যরাতের নাটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২০ জুন ২০২৬, ০৫:৩০ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত

ইরানের সঙ্গে বহু প্রতীক্ষিত সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর করতে গিয়ে যেন সময়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় নেমেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। নির্ধারিত অনুষ্ঠান বাতিল করে ফ্রান্সের ঐতিহাসিক ভার্সাই প্রাসাদে মধ্যরাতে আকস্মিকভাবে চুক্তিতে স্বাক্ষর করে তিনি সবাইকে বিস্মিত করেন।

বুধবার রাতে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সঙ্গে ভার্সাই প্রাসাদে নৈশভোজে বসার ঠিক আগে ট্রাম্প জানতে পারেন, ইরানের সঙ্গে সমঝোতা স্মারকের (MOU) চূড়ান্ত খসড়া প্রস্তুত হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী দুই দিন পর সুইজারল্যান্ডের লুসার্ন হ্রদের তীরে একটি বিশেষ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের চুক্তিতে স্বাক্ষর করার কথা ছিল।

কিন্তু ট্রাম্প অপেক্ষা করতে রাজি হননি।

হঠাৎ করেই তিনি নির্দেশ দেন, সেদিন রাতেই চুক্তি কার্যকর করতে হবে। ম্যাক্রোঁ দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলে শুরু হয় তড়িঘড়ি প্রস্তুতি। একদিকে দুই প্রেসিডেন্ট ভার্সাইয়ের বিখ্যাত ‘হল অব মিররস’-এ হাঁটছিলেন, অন্যদিকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও চুক্তির কপি প্রিন্ট করার জন্য ব্যস্ত হয়ে পড়েন।

রাত প্রায় ১১টার দিকে ভার্সাই প্রাসাদের এক ভোজকক্ষে দীর্ঘ টেবিলের পাশে বসে ট্রাম্প তার স্বাক্ষর সম্পন্ন করেন। উপস্থিত অতিথিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “এটা মোটেও সহজ ছিল না।”

এরপর স্বাক্ষরিত নথি তুলে ধরে তিনি গর্বের সঙ্গে উপস্থিতদের দেখান। ম্যাক্রোঁ সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়ায় বলেন, “ব্রাভো।”

যুদ্ধের ক্লান্তি ও অর্থনৈতিক চাপ

হোয়াইট হাউস সূত্র বলছে, কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসান ঘটাতে ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছিল। বৈশ্বিক তেলের মজুত কমে আসা, জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা এবং যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের রাজনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন রিপাবলিকান নেতারাও।

ট্রাম্প নিজেও স্বীকার করেছেন যে অর্থনৈতিক বিপর্যয়ের আশঙ্কাই তাকে সমঝোতার পথে হাঁটতে উৎসাহিত করেছে। জি-৭ সম্মেলনের ফাঁকে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, “আমি অর্থনৈতিক বিপর্যয় দেখতে চাইনি।”

হোয়াইট হাউসের ভেতরে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট, জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইটসহ একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। রাজনৈতিক উপদেষ্টারাও রিপাবলিকানদের নির্বাচনী ক্ষতির আশঙ্কা তুলে ধরেন।

সমালোচনার মুখে ট্রাম্প

তবে চুক্তিটি প্রকাশ্যে আসার পর ট্রাম্প নিজ দল থেকেই সমালোচনার মুখে পড়েছেন। সমালোচকদের অভিযোগ, চুক্তিটি ইরানকে উল্লেখযোগ্য সুবিধা দিয়েছে, কিন্তু বিনিময়ে খুব কম ছাড় আদায় করতে পেরেছে যুক্তরাষ্ট্র।

সেনেটের সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান রজার উইকার অভিযোগ করেন, চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত ৩০০ বিলিয়ন ডলারের পুনর্গঠন তহবিল পূর্ববর্তী ওবামা আমলের ইরান পারমাণবিক চুক্তির আর্থিক ব্যবস্থাকেও ছোট করে দিয়েছে।

জবাবে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, “আমরা হতাশা থেকে আলোচনায় যাইনি, ইরান গেছে। তারা শেষ হয়ে গেছে। ৬০ দিনের পুরো সময় আমরা পর্যবেক্ষণ করব। তারা এক সেন্টও পাবে না।”

অনিশ্চয়তার ছায়া

চুক্তি স্বাক্ষরের পরও পরিস্থিতি স্থিতিশীল নয়। ইসরায়েল ও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ায় ইরান নির্ধারিত বৈঠক থেকে সরে যায়। ফলে সুইজারল্যান্ডে পরবর্তী পর্যায়ের আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।

মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি অংশ এখনও সন্দিহান যে তেহরান শেষ পর্যন্ত পারমাণবিক কর্মসূচি সীমিত করার প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করবে কি না। সিআইএ পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ছিলেন সবচেয়ে সংশয়বাদীদের মধ্যে।

তবুও ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থান স্পষ্ট- যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করার চেয়ে ঝুঁকি নিয়ে হলেও কূটনৈতিক সমাধানের পথে এগোনোই শ্রেয়।

মধ্যরাতের সেই বার্তা

ভার্সাই প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে রাত ১টার কিছু পরে সাংবাদিকদের উদ্দেশে ট্রাম্প সংক্ষিপ্তভাবে বলেন, “চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ভার্সাইতেই স্বাক্ষর করেছি।”

এই এক বাক্যেই শেষ হয় কয়েক মাসের সংঘাত, উত্তেজনা, গোপন কূটনীতি এবং রাজনৈতিক চাপের মধ্য দিয়ে এগিয়ে আসা এক নাটকীয় অধ্যায়। তবে বিশ্লেষকদের মতে, প্রকৃত পরীক্ষা এখন শুরু—ইরান চুক্তির শর্ত মানবে কি না, আর এই সমঝোতা মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির পথ খুলবে নাকি নতুন সংকটের সূচনা করবে, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সূত্র: সিএনএন

ভিওডি বাংলা/আরআর/এমএস 

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালিকে টোলমুক্ত রাখছে ইরান
৬০ দিনের জন্য হরমুজ প্রণালিকে টোলমুক্ত রাখছে ইরান
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসে শিশুসহ ৩০ জনের মৃত্যু
ডিআর কঙ্গোতে ইবোলা ভাইরাসে শিশুসহ ৩০ জনের মৃত্যু
লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ
লেবাননে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহ