• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

ইরান–যুক্তরাষ্ট্র আলোচনায় নতুন গতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক    ২০ জুন ২০২৬, ১১:৪৪ এ.এম.
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনা কমাতে সুইজারল্যান্ডে নতুন করে কূটনৈতিক বৈঠকের প্রস্তুতি চলছে। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির পরিপ্রেক্ষিতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সম্ভাব্য পারমাণবিক চুক্তি ঘিরে নতুন করে কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, আলোচনার প্রাথমিক ধাপ এগিয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ শিগগিরই সুইজারল্যান্ড সফরে যাচ্ছেন।

এই সফরের মূল উদ্দেশ্য হলো তেহরানের সঙ্গে সরাসরি বা পরোক্ষভাবে একটি প্রাথমিক আলোচনার কাঠামো তৈরি করা, যা ভবিষ্যতে পূর্ণাঙ্গ পারমাণবিক সমঝোতার ভিত্তি হিসেবে কাজ করতে পারে। কূটনৈতিক মহলের ধারণা, এটি দীর্ঘদিনের স্থবির আলোচনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

এর আগে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে তার সফর স্থগিত করা হয়। বিশ্লেষকদের মতে, লেবানন ও আশপাশের অঞ্চলে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান এবং ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি এই সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে। আঞ্চলিক উত্তেজনার কারণে আলোচনার পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছিল বলে মনে করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ইরান শুরু থেকেই দাবি করে আসছিল, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও সংঘাত হ্রাস ছাড়া কোনো বড় ধরনের পারমাণবিক আলোচনা এগোনো সম্ভব নয়। সম্প্রতি ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর সেই শর্ত আংশিকভাবে পূরণ হয়েছে বলে কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন। ফলে আলোচনার পথ কিছুটা সহজ হয়েছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উইটকফের সুইজারল্যান্ড সফর মূলত প্রাথমিক আলোচনার পরিবেশ তৈরি করা এবং দুই পক্ষের অবস্থান কাছাকাছি আনার লক্ষ্যেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এটি কোনো চূড়ান্ত চুক্তি নয়, বরং ভবিষ্যৎ আলোচনার কাঠামো নির্ধারণের প্রথম ধাপ।

এদিকে যুদ্ধবিরতির আগে লেবাননে ভয়াবহ সহিংস পরিস্থিতি বিরাজ করছিল। ইসরায়েলি হামলায় বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে এবং যুদ্ধবিরতির পরও বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষের অভিযোগ পাওয়া যায়। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন সরাসরি কূটনৈতিক চাপ বাড়িয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করে।

সূত্র জানায়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইসরায়েলি নেতৃত্বের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে সংযত অবস্থান বজায় রাখার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে কাতারসহ কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করা সম্ভব হয়েছে বলে জানা গেছে। এই উদ্যোগ আঞ্চলিক উত্তেজনা কিছুটা কমাতে সহায়তা করেছে।

এর আগে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষরের তথ্যও সামনে আসে, যা ভবিষ্যৎ পারমাণবিক চুক্তির ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। যদিও সেই নথির বিস্তারিত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি, তবে এটি দুই দেশের মধ্যে আস্থার সংকট কাটানোর একটি চেষ্টা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক অঞ্চলে সম্ভাব্য এই বৈঠক আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে উভয় দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নিতে পারেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, এই আলোচনা সরাসরি সংঘাত নিরসন না করলেও দীর্ঘমেয়াদে একটি স্থিতিশীল কাঠামো তৈরিতে সহায়ক হতে পারে।

তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, পুরো প্রক্রিয়াটি এখনও অত্যন্ত সংবেদনশীল অবস্থায় রয়েছে। ইসরায়েলের রাজনৈতিক মহলের একটি অংশ এই ধরনের আলোচনার বিরোধিতা করছে, যা ভবিষ্যতে নতুন জটিলতা তৈরি করতে পারে।

ভিওডি বাংলা/জা

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নতুন গতিতে এগোচ্ছে উপসাগরীয় জিসিসি রেলওয়ে প্রকল্প
নতুন গতিতে এগোচ্ছে উপসাগরীয় জিসিসি রেলওয়ে প্রকল্প
হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ইরানের ১১ জাহাজ
হরমুজ প্রণালি পাড়ি দিল ইরানের ১১ জাহাজ
এক বিলিয়ন ব্যারেল তেল উধাও, জ্বালানিতে নতুন উদ্বেগ
এক বিলিয়ন ব্যারেল তেল উধাও, জ্বালানিতে নতুন উদ্বেগ