• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বেশি আলু খেলে যেসব রোগ হতে পারে

লাইফস্টাইল    ২৬ জুন ২০২৬, ০৫:১৩ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাঙালির প্রতিদিনের খাবারের তালিকায় আলু যেন এক অবিচ্ছেদ্য উপাদান। সকালের নাশতা থেকে দুপুরের ভাত কিংবা রাতের তরকারি-সবখানেই আলুর উপস্থিতি চোখে পড়ে। ভর্তা, ভাজি, দম, বিরিয়ানি কিংবা স্ন্যাকস-প্রায় সব ধরনের খাবারেই এর ব্যবহার জনপ্রিয়। শুধু স্বাদ নয়, পুষ্টিগুণের কারণেও আলু অনেকের পছন্দের খাবার।

পুষ্টিবিদদের মতে, আলুতে রয়েছে শর্করা, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি ও কিছু পরিমাণ খাদ্যআঁশ। সঠিক পরিমাণে খেলে এটি শরীরের জন্য উপকারীও হতে পারে। তবে সমস্যা তৈরি হয় তখনই, যখন অতিরিক্ত পরিমাণে আলু খাওয়া হয় কিংবা এটি অস্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত বেশি আলু খেলে কিছু মানুষের হজমের সমস্যা, গ্যাস, বুকজ্বালা বা রক্তে শর্করার ওঠানামা বাড়তে পারে।

আলুতে স্টার্চের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। ফলে একসঙ্গে অনেকটা আলু খেলে তা হজম করতে শরীরের অতিরিক্ত সময় লাগে। বিশেষ করে যাদের হজমশক্তি দুর্বল বা আগে থেকেই পেটের সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অস্বস্তি, পেট ভার লাগা কিংবা বদহজমের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আলু নির্ভর খাবারের বদলে এর সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি, ডাল কিংবা প্রোটিন রাখা জরুরি। এতে খাবারের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং হজম প্রক্রিয়াও সহজ হয়।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আলুর চিপস কিংবা অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলু অনেকেরই প্রিয় খাবার। কিন্তু এসব খাবার নিয়মিত খেলে শরীরে নানা ধরনের অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। অতিরিক্ত তেলযুক্ত খাবার পাকস্থলীতে চাপ সৃষ্টি করে এবং অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা বুকজ্বালার সমস্যা বাড়িয়ে দেয়।

চিকিৎসকদের মতে, বারবার ব্যবহার করা তেলে ভাজা খাবার শরীরের জন্য আরও ক্ষতিকর। তাই ভাজা আলুর বদলে সেদ্ধ, ভাপানো বা অল্প তেলে রান্না করা আলু খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

অনেক সময় বাসায় রাখা আলুতে সবুজাভ রং দেখা যায় বা অঙ্কুর গজাতে শুরু করে। এমন আলু খাওয়া শরীরের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এতে ‘সোলানাইন’ নামের একটি প্রাকৃতিক বিষাক্ত উপাদানের পরিমাণ বেড়ে যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত সোলানাইন শরীরে প্রবেশ করলে বমি, ডায়রিয়া, পেটব্যথা কিংবা দুর্বলতার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই শুধু অঙ্কুর কেটে ফেললেই নিরাপদ হয় না, বরং এমন আলু পুরোপুরি ফেলে দেওয়াই ভালো।

ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (আইবিএস) আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে কিছু খাবার পেটের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। যদিও সাধারণ আলু তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ খাবারের তালিকায় রয়েছে, তবুও অতিরিক্ত খেলে সমস্যা দেখা দিতে পারে।

বিশেষ করে একবারে বেশি আলু খেলে গ্যাস, পেট ফাঁপা বা তলপেটে ব্যথা অনুভূত হতে পারে। তাই যাদের আইবিএস আছে, তাদের নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে আলু খাওয়ার পরিমাণ ঠিক করা উচিত।

আলুর গ্লাইসেমিক ইনডেক্স তুলনামূলক বেশি হওয়ায় এটি দ্রুত রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াতে পারে। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা প্রিডায়াবেটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আলু খাওয়া ঝুঁকির কারণ হতে পারে।

পুষ্টিবিদরা বলছেন, আলুর সঙ্গে আঁশযুক্ত সবজি, ডাল বা প্রোটিন জাতীয় খাবার রাখলে রক্তে শর্করার ওঠানামা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে থাকে। পাশাপাশি পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করাও গুরুত্বপূর্ণ।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু নিয়ম মেনে আলু খেলে সহজেই অনেক সমস্যা এড়ানো সম্ভব। যেমন-

একবারে অতিরিক্ত আলু না খাওয়া, ভাজা আলুর বদলে সেদ্ধ বা কম তেলে রান্না করা আলু বেছে নেওয়া, খাবারের সঙ্গে পর্যাপ্ত সবজি ও প্রোটিন রাখা, প্রতিদিন পর্যাপ্ত পানি পান করা, সবুজ বা অঙ্কুরিত আলু এড়িয়ে চলা
অতিরিক্ত তেল বা ডালডা ব্যবহার না করা ও পরিমিত আলুই হতে পারে স্বাস্থ্যকর। 

বিশেষজ্ঞদের মতে, আলু নিজে ক্ষতিকর কোনো খাবার নয়। বরং এটি একটি পুষ্টিকর সবজি। তবে যেকোনো খাবারের মতো এটিও পরিমিত পরিমাণে খাওয়া জরুরি। স্বাস্থ্যকর উপায়ে রান্না করা হলে অধিকাংশ মানুষই কোনো সমস্যা ছাড়াই আলু খাদ্যতালিকায় রাখতে পারেন।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
মাত্র দুই মিনিটের ধ্যানেই মস্তিষ্কে ইতিবাচক সূচনা হতে পারে-এমন তথ্য উঠে এসেছে গবেষণায়। ছবি: সংগৃহীত
মাত্র দুই মিনিটের অনুশীলনে বদলাতে পারে মস্তিষ্ক!
ছবি: সংগৃহীত
বাজেট ২০২৬-২৭ স্কিন কেয়ার ও প্রসাধনী কাঁচামাল আমদানিতে শুল্ক কমেছে
প্রিপেইড বিদ্যুৎ মিটার। ছবি: সংগৃহীত
বিদ্যুতের মিটার রিচার্জে ২২০ ডিজিটের টোকেন এলে যা করবেন