পদ্মা ব্যারেজ হলে সুফল পাবে ২৬ জেলার মানুষ: পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী

দেশের অন্যতম বৃহৎ পানি ব্যবস্থাপনা প্রকল্প ‘পদ্মা ব্যারেজ’ বাস্তবায়িত হলে দেশের ২৬ জেলার ১৬৩টি উপজেলা সরাসরি সুবিধা পাবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, প্রকল্পটি সম্পূর্ণ বাস্তবায়ন হলে দেশের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ এর সুফলের আওতায় আসবে।
রোববার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় পানি ব্যবস্থাপনা ও কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। সেই লক্ষ্য থেকেই পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, ইতোমধ্যে প্রকল্পটি জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) অনুমোদন পেয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৯ জেলার ১২০টি উপজেলা উপকৃত হবে। পরবর্তীতে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হলে এর আওতা আরও বিস্তৃত হবে এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলসহ বিভিন্ন এলাকার কৃষি, সেচ ও নদী ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা কার্যক্রম ইতোমধ্যে জনগণের মধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ই-হেলথ কার্ড, ইমাম ও পুরোহিতদের ভাতা এবং খালকাটা কর্মসূচির মতো উদ্যোগ সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, জনগণমুখী উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকার গ্রামীণ অর্থনীতি শক্তিশালী করার পাশাপাশি নিম্নআয়ের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে কাজ করছে।
শিক্ষা খাতে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপকরণ বিতরণ এবং দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত ছাত্রীদের বিনা বেতনে লেখাপড়ার সুযোগ সৃষ্টি শিক্ষার বিস্তারে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তুলতে শিক্ষা খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো জরুরি। প্রস্তাবিত বাজেটের বরাদ্দ কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দক্ষতা উন্নয়নে সহায়ক হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
পানিসম্পদ খাতের বিভিন্ন অগ্রাধিকার প্রসঙ্গে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, ফারাক্কা বাঁধ, পদ্মা ব্যারেজ এবং তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বর্তমান সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।
তিনি জানান, ফারাক্কার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ে সরকারের টেকনিক্যাল কমিটি কাজ করছে। একইসঙ্গে তিস্তা ব্যারেজ প্রকল্প বাস্তবায়নের কার্যক্রমও এগিয়ে চলছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, তিস্তা ব্যারেজ বাস্তবায়িত হলে উত্তরাঞ্চলের অন্তত পাঁচটি জেলার কৃষি উৎপাদন, সেচ সুবিধা এবং পানি ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
বক্তব্যের শেষদিকে পঞ্চগড়কে পর্যটন নগরী হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানান ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি পঞ্চগড় বাইপাস সড়ক নির্মাণ এবং দেবীগঞ্জে একটি এগ্রো জোন প্রতিষ্ঠার দাবিও জানান।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য