• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতন আয় করমুক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২৮ জুন ২০২৬, ০৩:১৩ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী অর্থবছরে এ সীমা ৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪ লাখ টাকা করা হচ্ছে। এর ফলে বছরে প্রায় ৬ লাখ টাকা পর্যন্ত বেতনভিত্তিক আয় করের আওতার বাইরে থাকবে। কারণ চাকরিজীবীদের বেতনের এক-তৃতীয়াংশ অংশ কর অব্যাহতির সুবিধা পায়।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, মূল্যস্ফীতির চাপ বিবেচনায় নিয়ে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা কিছুটা কমানোর লক্ষ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় নতুন অর্থবছরের জন্য আয়সীমা পুনর্নির্ধারণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।

তবে করমুক্ত আয়সীমা বাড়লেও সামগ্রিকভাবে করদাতাদের চাপ পুরোপুরি কমবে না বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। কারণ প্রস্তাবিত বাজেটে বিভিন্ন খাতে কর রেয়াত কমানো হয়েছে। একই সঙ্গে সঞ্চয়পত্র, সরকারি সিকিউরিটিজ এবং এফডিআরের সুদের ওপর কাটা উৎসে করকে আর চূড়ান্ত কর হিসেবে গণ্য করা হবে না। এগুলোকে এখন অগ্রিম কর হিসেবে বিবেচনা করা হবে। ফলে পরবর্তীতে চূড়ান্ত কর নির্ধারণের সময় অতিরিক্ত কর পরিশোধের প্রয়োজন হতে পারে।

এ ছাড়া বিনিয়োগের বিপরীতে কর রেয়াত পাওয়ার সীমাও কমানো হয়েছে। আগে মোট আয়ের ১৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগে কর ছাড় পাওয়া গেলেও নতুন প্রস্তাবে তা ১০ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে। পাশাপাশি নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত বিনিয়োগ ধরে রাখার শর্তও যুক্ত করা হয়েছে।

কর বিশেষজ্ঞ স্নেহাশীষ বড়ুয়া বলেন, করমুক্ত আয়সীমা বাড়ানো নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের জন্য ইতিবাচক উদ্যোগ। তবে করহার ও অন্যান্য শর্তে পরিবর্তনের কারণে অনেক ক্ষেত্রেই করদাতাদের প্রকৃত চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে ব্যবসা, কৃষি, বাড়িভাড়া কিংবা আর্থিক সম্পদ থেকে আয়কারীরা বাড়তি প্রভাবের মুখে পড়তে পারেন।

প্রস্তাবিত বাজেটে ন্যূনতম করহার ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১০ শতাংশ করার বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে। এতে বিভিন্ন খাতের করদাতাদের অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন) বাধ্যতামূলক রাখার সিদ্ধান্ত থেকেও সরে আসছে সরকার। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে আনুষ্ঠানিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থার আওতায় আনতেই এ পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ ছাড়া নিয়মিত কর পরিশোধের মাধ্যমে জমি বা ফ্ল্যাটের প্রকৃত মূল্য প্রদর্শনের যে সুযোগ প্রস্তাবিত বাজেটে রাখা হয়েছিল, সেটিও বাতিল করার সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই সঙ্গে শেয়ারবাজার থেকে পাওয়া লভ্যাংশ আয়ের ওপর বিদ্যমান করহার অপরিবর্তিত রাখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে আওয়ামী লীগ সরকার ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত অর্থ বৈধ করার সুযোগ দিয়েছিল। পরে ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সেই হার বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করা হয়। তবে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতায় এসে সেই সুবিধা সম্পূর্ণ বাতিল করে দেয়।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সাবেক অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। ছবি: সংগৃহীত
দেড় বছরে ৭৯ লাখ টাকা চিকিৎসা বিল নেন ড. সালেহউদ্দিন
ছবি: সংগৃহীত
সংসদে কালো টাকার উৎস বন্ধের প্রস্তাব খোকনের
ছবি: সংগৃহীত
সাবেক ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমানের মৃত্যুদণ্ড