ইরানে ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত, আন্তর্জাতিক আইন নিয়ে নতুন প্রশ্ন

ইরানে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় একাধিক ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। সংস্থাটির অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত কয়েকটি স্থাপনাও এই ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে রয়েছে।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) স্বীকার করেছে, তারা ইসফাহানের গভর্নরের কার্যালয় লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল। ওই ভবনটি ইউনেস্কো স্বীকৃত চেহেল সতুন প্রাসাদ কমপ্লেক্সের পাশেই অবস্থিত।
আইডিএফ এক বিবৃতিতে বলেছে, তারা আন্তর্জাতিক আইন মেনেই কেবল সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালায়। তাদের দাবি, প্রতিটি অভিযান নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্য, সামরিক যাচাই এবং প্রয়োজন অনুযায়ী আইনি পর্যালোচনার ভিত্তিতে পরিচালিত হয়েছে।
তবে রয়টার্সের সঙ্গে কথা বলা মধ্যপ্রাচ্যের প্রত্নতত্ত্ব ও ঐতিহ্য সংরক্ষণবিষয়ক আটজন বিশেষজ্ঞ বলছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার নীতিতে পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
তাদের মতে, অতীতে এ ধরনের ঐতিহাসিক স্থাপনাগুলো সাধারণত "নো-স্ট্রাইক লিস্ট"-এ রাখা হতো। অর্থাৎ, অত্যন্ত জরুরি সামরিক প্রয়োজন ছাড়া এসব স্থাপনার ওপর বা আশপাশে হামলার অনুমতি দেওয়া হতো না।
রয়টার্সের যাচাই অনুযায়ী, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে রয়েছে তেহরানের গোলেস্তান প্রাসাদ ও ঐতিহাসিক বাজার, ইসফাহানের নকশে জাহান স্কয়ারের চারটি স্থাপনা, চেহেল সতুন কমপ্লেক্স, জামে মসজিদ এবং ইউনেস্কো স্বীকৃত ট্রান্স-ইরানিয়ান রেলপথের একটি অংশ।
এছাড়া পশ্চিম ইরানের খোররামাবাদ উপত্যকায় অবস্থিত প্রাচীন ফালাক-ওল-আফলাক দুর্গেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির বিষয়টি ইউনেস্কো এবং গবেষকরা নিশ্চিত করেছেন।
ইরানের ইউনেস্কো প্রতিনিধি জানিয়েছেন, সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত ১৩৪টি সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যবাহী স্থাপনার একটি তালিকা জাতিসংঘের সাংস্কৃতিক সংস্থার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। যদিও এর সবগুলো ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যের তালিকায় নেই, তবুও এগুলো ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ১৯৫৪ সালের হেগ কনভেনশন অনুযায়ী সশস্ত্র সংঘাতের সময় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ আন্তর্জাতিক আইনের বাধ্যবাধকতা। ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক সাংস্কৃতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা চালানো যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এমনকি কাছাকাছি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলার ক্ষেত্রেও সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করার কথা বলা হয়েছে।
অন্যদিকে, হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র আনা কেলি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের লক্ষ্য ছিল ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা, অস্ত্র উৎপাদন, নৌবাহিনী এবং প্রক্সি গোষ্ঠীগুলোর সক্ষমতা দুর্বল করা। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্র বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর (পেন্টাগন) এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সতর্ক করে বলছেন, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ক্ষতিগ্রস্ত হলে তা শুধু একটি দেশের ইতিহাস নয়, মানবসভ্যতার সম্মিলিত ঐতিহ্যেরও অপূরণীয় ক্ষতি ডেকে আনে।
সূত্র: রয়টার্স
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য