• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নিয়োগ-পদোন্নতির কাজে নিয়োজিত কর্মচারীদের সম্মানি বাড়াল সরকার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১৪ পি.এম.
নিয়োগ-পদোন্নতিতে বেড়েছে সরকারি কর্মচারীদের সম্মানি
ছবি: সংগৃহীত

সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও বিভিন্ন দপ্তরে নিয়োগ এবং পদোন্নতি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানি ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন নির্দেশনায় পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কর্মচারীদের সম্মানি বাড়ানোর পাশাপাশি ওএমআর টপশিট, কোডিং-ডিকোডিং এবং উত্তরপত্র নিরীক্ষণের মতো কয়েকটি নতুন ব্যয় খাত যুক্ত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) এ বিষয়ে একটি পরিপত্র জারি করেছে অর্থ বিভাগ। যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম স্বাক্ষরিত এ পরিপত্র জারির তারিখ থেকেই এ ঘোষণা কার্যকর হবে বলে জানানো হয়। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর জারি করা আগের পরিপত্র বাতিল করা হয়েছে।

নতুন পরিপত্র অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়ন, বিভাগীয় নির্বাচন বা পদোন্নতি কমিটির সভা এবং মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য ও বিশেষজ্ঞদের সম্মানির হার আগের মতোই জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা রাখা হয়েছে।

একইভাবে পূর্ণ উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রতি খাতায় ১৩০ টাকা এবং অবজেকটিভ টাইপ উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য প্রতি খাতায় ৩৫ টাকা বহাল রয়েছে। তবে নতুন করে উত্তরপত্র নিরীক্ষণ বা স্ক্রুটিনির জন্য প্রতি খাতায় ১৫ টাকা সম্মানি প্রদানের বিধান করা হয়েছে।

পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মচারীদের সম্মানির হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি করা হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মচারীরা প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা পাবেন, যা আগে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা।

১০ম থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন ১ হাজার ২০০ টাকা, আগে যা ছিল ১ হাজার টাকা। ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সম্মানি ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে। খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতি খাতায় ৫০ টাকা, লিখিত পরীক্ষার ভেন্যুর প্রতিষ্ঠান প্রধান বা তার মনোনীত সমন্বয়কারীর জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং কেন্দ্র পরিদর্শকের জন্য প্রতিদিন ১ হাজার ৮০০ টাকা সম্মানি আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।

আনুষঙ্গিক ব্যয়ের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। লিখিত পরীক্ষার আসনবিন্যাস বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৩ টাকা, উত্তরপত্র প্রস্তুতের জন্য পরীক্ষার্থীপ্রতি ১২ টাকা এবং প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, কাগজ, ডুপ্লিকেটিং মেশিন ভাড়া ও কালি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এর আগে উত্তরপত্র প্রস্তুতের জন্য বরাদ্দ ছিল পরীক্ষার্থীপ্রতি ৬ টাকা।

এছাড়া নতুনভাবে ওএমআর টপশিট মুদ্রণ ও ক্রয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ২০ টাকা, লিথোগ্রাফিক কোডিং-ডিকোডিংয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ৫ টাকা এবং প্রচলিত কোডিং-ডিকোডিংয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বিবিধ ব্যয়ের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। ট্রাঙ্ক, তালা-চাবি, কাগজ, কলমসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করা যাবে, যেখানে আগে এ সীমা ছিল ৮ হাজার টাকা।

পরিপত্রে বলা হয়েছে, লিখিত, মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষা গ্রহণের সময় আপ্যায়ন ব্যয় ‘আর্থিক ক্ষমতা অর্পণ-২০২৬’ অনুযায়ী নির্বাহ করতে হবে। প্রয়োজন হলে দুপুর বা রাতের খাবারের ব্যয় দেওয়া যাবে এবং নাশতার জন্য দিনে সর্বোচ্চ দুইবার ব্যয় করা যাবে।

সরকার ব্যয় ব্যবস্থাপনায় বেশকিছু শর্তও আরোপ করেছে। সব ব্যয় সংশ্লিষ্ট নিয়োগের জন্য বরাদ্দকৃত বাজেট থেকেই নির্বাহ করতে হবে এবং এ জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করা যাবে না। একই দিনে একাধিক পদের পরীক্ষা বা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হলেও নির্ধারিত সীমার বেশি সম্মানি গ্রহণ করা যাবে না।

এছাড়া স্কুল বা কলেজকে পরীক্ষা কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা হলে কোনো ধরনের ভেন্যু বা কেন্দ্র ফি প্রদান করা যাবে না বলেও স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

পরিপত্রে সরকারি অর্থের সাশ্রয়, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রচলিত আর্থিক বিধি-বিধান, সরকারি ক্রয়বিধি ও নিরীক্ষা নির্দেশনা অনুসরণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সব ব্যয়ের ভাউচার ও রসিদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো ধরনের আর্থিক অনিয়ম ধরা পড়লে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দায় বহন করতে হবে।

নতুন নির্দেশনা কার্যকর হওয়ার আগের সময়ের জন্য কোনো আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া দাবি করা যাবে না বলেও পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিওডি বাংলা/আরআই/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জুলাই শহীদদের স্মরণসভা ৪ জুলাই, থাকবেন প্রধানমন্ত্রী
জুলাই রেভ্যুলেশনারী এলায়েন্স ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের যৌথ প্রেস ব্রিফিং
৫ আগস্টের মধ্যে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’ উন্মুক্ত করার দাবি
ছবি: সংগৃহীত
জলবায়ু সহনশীলতা অর্জনে আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের অঙ্গীকার