মদ্রিচের বিদায়ে আবেগঘন মুহূর্ত

বিদায়ের মঞ্চে একসঙ্গে দাঁড়িয়েছিলেন দুই ফুটবল মহাতারকা। তবে আলোটা ছিল লুকা মদ্রিচকে ঘিরেই। শেষ মুহূর্তে ক্রোয়েশিয়ার সমতাসূচক গোল বাতিল হওয়ায় নাটকীয়ভাবে শেষ হয় তার বিশ্বকাপ অভিযান। অন্যদিকে জয় নিয়ে অন্তত আরও একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেলেন পর্তুগাল অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।
ম্যাচ শেষে সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সতীর্থ মদ্রিচকে জড়িয়ে ধরে সান্ত্বনা দেন রোনালদো। সৌজন্য বিনিময়ের সময় তার মাথায় হাত বুলিয়ে শুভকামনাও জানান তিনি।
রোনালদো বলেন, “আমি লুকার সঙ্গে অনেক বছর খেলেছি। সে ফুটবল ইতিহাসের একজন কিংবদন্তি। আমি তাকে বহুবার এটা বলেছি। সবকিছুর জন্য অভিনন্দন। সামনে তার জীবনের জন্য অনেক শুভকামনা রইল।”
৪০ বছর বয়সেও হারের ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন মদ্রিচ। পুরো ম্যাচে ৬৬ বার বল স্পর্শ করেন, তিনটি সফল ট্যাকল করেন এবং দ্বিতীয়ার্ধে প্রতিপক্ষের অর্ধে দুটি বিপজ্জনক ক্রস পাঠান। তবে জোসকো গাভার্দিওলের গোল বাতিল হওয়ার পর শেষ বাঁশি বাজতেই হতাশায় হাঁটুতে হাত দিয়ে ঝুঁকে পড়েন তিনি।
তবে এটাই মদ্রিচের শেষ বিশ্বকাপ কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত নন ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচ।
তিনি বলেন, “হয়তো এটাই তার শেষ বিশ্বকাপ ম্যাচ। তবে আগামী চার বছরে কী হবে, তা একমাত্র ঈশ্বরই জানেন। দেশে ফিরে এ নিয়ে আমরা কথা বলব।”
মদ্রিচের প্রশংসা করে দালিচ বলেন, “সে অসাধারণ খেলেছে। আবারও আমাদের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় ছিল। তার বিশ্বকাপ যাত্রা এভাবে শেষ হওয়ায় আমি খুবই দুঃখিত। শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত সে দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে।”
মদ্রিচের নেতৃত্বে ২০১৮ বিশ্বকাপে রানার্সআপ এবং ২০২২ বিশ্বকাপে তৃতীয় হয়েছিল ক্রোয়েশিয়া। এটি ছিল তার পঞ্চম বিশ্বকাপ। চলতি আসরের চারটি ম্যাচেই শুরুর একাদশে ছিলেন তিনি।
২০১৮ সালে ক্রোয়েশিয়াকে বিশ্বকাপের ফাইনালে তুলে ব্যালন ডি'অর জিতেছিলেন মদ্রিচ। ক্লাব ক্যারিয়ারে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে জিতেছেন ছয়টি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ও চারটি লা লিগা শিরোপা। এছাড়া ডায়নামো জাগরেব, টটেনহ্যাম হটস্পার ও সর্বশেষ এসি মিলানের জার্সিতেও খেলেছেন তিনি।
পর্তুগালের কোচ রবার্তো মার্তিনেজও মদ্রিচের প্রশংসায় পঞ্চমুখ। তিনি বলেন, “এত দীর্ঘ ক্যারিয়ার পার করেও সে এখনও তরুণের মতো খেলার চিন্তা করতে পারে। বল পায়ে রেখে দ্রুত সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার অসাধারণ ক্ষমতা তার আছে। খেলার গতি বুঝে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে মদ্রিচ নিঃসন্দেহে অনন্য উদাহরণ।”
ভিওডি বাংলা/আ








মন্তব্য