• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

হঠাৎ ঊর্ধ্বমুখী নিত্যপণ্যের বাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৩ জুলাই ২০২৬, ১০:১৮ এ.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীর খুচরা বাজারে আবারও অস্থির হয়ে উঠেছে নিত্যপণ্যের দাম। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম কেজিপ্রতি ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। একই সঙ্গে আলু, চাল, কাঁচা মরিচ, বেগুনসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী। বাজার বিশ্লেষক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে অতিরিক্ত গরম, বৃষ্টিজনিত সরবরাহ সংকট এবং উৎপাদন ব্যয়ের চাপ মিলিয়ে বাজারে এই অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। 

শুক্রবার (৩ জুলাই) রাজধানীর কারওয়ান বাজার, মিরপুর, মালিবাগ ও শ্যামবাজার ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম আগের তুলনায় বেশি। বিশেষ করে মুরগির বাজারে বাড়তি দামের প্রভাব স্পষ্টভাবে চোখে পড়েছে।

কারওয়ান বাজারের একাধিক বিক্রেতা জানান, খামার পর্যায়ে মুরগির সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইকারি বাজারেই দাম বেড়েছে। সেই বাড়তি দামের প্রভাব এখন খুচরা বাজারেও পড়ছে। ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, সাম্প্রতিক তাপদাহ ও বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অনেক খামারি নতুন বাচ্চা তুলতে পারেননি। আবার লোকসানের আশঙ্কায় অনেকে সময়ের আগেই মুরগি বিক্রি করে দিয়েছেন। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে গেছে।

বর্তমানে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর সোনালি কক মুরগির দাম উঠেছে ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায়। কয়েক দিন আগেও এসব পণ্যের দাম তুলনামূলক কম ছিল বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা।

মাংসের বাজারেও উচ্চমূল্যের চাপ অব্যাহত রয়েছে। গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৭৮০ থেকে ৮০০ টাকায়। অন্যদিকে খাসির মাংসের দাম স্থির রয়েছে ১৩০০ টাকার আশপাশে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য এসব দাম বড় চাপ তৈরি করছে বলে মনে করছেন ভোক্তারা।

মাছের বাজারেও স্বস্তি নেই। চাষের কৈ মাছ ২০০ থেকে ২২০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ থেকে ২৫০ টাকা এবং পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রুই মাছের দাম আকারভেদে ২৮০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে। এছাড়া টেংরা মাছের কেজি ৫৫০ থেকে ৭৫০ টাকা এবং চিংড়ি ৮০০ থেকে ১৪০০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে।

সবচেয়ে বেশি দৃষ্টি কাড়ছে ইলিশের দাম। বাজারে মাঝারি আকারের ইলিশের কেজি ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, নদীতে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা না পড়ায় বাজারে সরবরাহ কম রয়েছে। ফলে দামও বেশি।

আলু ও চালের বাজারে নতুন চাপ

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মধ্যে আলুর দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। এক মাস আগেও যেসব আলু ২০ থেকে ২৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন তা বিক্রি হচ্ছে ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। একইভাবে দেশি রসুনের দামও বাড়তির দিকে। বর্তমানে বাজারে দেশি রসুনের কেজি ৯০ থেকে ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চালের বাজারে সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে সরু ও পোলাওয়ের চালে। নাজিরশাইল ও মিনিকেটের মতো সরু চালের দাম কেজিতে প্রায় ২ টাকা বেড়ে ৭২ থেকে ৮৫ টাকায় উঠেছে। মাঝারি ও মোটা চালের দামও কিছুটা বেড়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে চিনিগুঁড়া বা পোলাওয়ের চালের দাম। এক মাসের ব্যবধানে এই চালের কেজিপ্রতি দাম প্রায় ১৫ টাকা পর্যন্ত বেড়ে বর্তমানে ১৬০ থেকে ১৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

চাল ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল পর্যায়ে উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি এবং বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ার কারণে চালের দাম বাড়ছে। এছাড়া পরিবহন ব্যয়ও বাজারে প্রভাব ফেলছে।

কাঁচা মরিচ ও বেগুনের দামে ঝাঁজ

সবজির বাজারে মিশ্র চিত্র দেখা গেলেও কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। বিশেষ করে কাঁচা মরিচ ও বেগুনের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কেজিতে প্রায় ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে।

বর্তমানে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে ১২০ থেকে ১৬০ টাকা কেজি দরে। অন্যদিকে বেগুনের দাম উঠেছে ৭০ থেকে ১০০ টাকায়। বিক্রেতারা বলছেন, টানা কয়েক দিনের বৃষ্টির কারণে মাঠ থেকে পর্যাপ্ত সবজি সংগ্রহ করা সম্ভব হয়নি। এতে সরবরাহ কমে যাওয়ায় বাজারে দাম বেড়েছে।

তবে ব্যবসায়ীদের আশা, আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে এবং সরবরাহ বাড়লে আগামী সপ্তাহগুলোতে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল হতে পারে। যদিও সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকলে নিত্যপণ্যের দাম কমার সম্ভাবনা কম।

ভিওডি বাংলা/জা
 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
বিশ্ববাজারে তেলের দামে বড় পতন
এলএনজি কার্গো
এ মাসেই আসছে ১১ কার্গো এলএনজি
ব্যাংক-টু-ব্যাংক লেনদেনের ফি নির্ধারণ
ব্যাংক-টু-ব্যাংক লেনদেনের ফি নির্ধারণ