রাস্তায় ফেলে যাওয়া বৃদ্ধের দায়িত্ব নিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু

জীবনের শেষ বয়সে সবচেয়ে কাছের মানুষদের কাছ থেকেই আশ্রয় পাওয়ার কথা। অথচ টাঙ্গাইলে শতবর্ষী এক বৃদ্ধকে গভীর রাতে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা নাড়া দিয়েছে স্থানীয়দের। পরে অসহায় ওই বৃদ্ধের পাশে দাঁড়িয়েছেন টাঙ্গাইল সদর আসনের সংসদ সদস্য ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
গত বৃহস্পতিবার রাতে সদর উপজেলার বল্লা ইউনিয়নের বইল্লা এলাকার একটি সেতুর পাশে কান্নারত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় বৃদ্ধ মফিজ উদ্দিনকে।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় দৃষ্টিশক্তিহীন মফিজ উদ্দিন দীর্ঘদিন ধরেই একা চলাফেরা করতে পারেন না। বয়সজনিত দুর্বলতার কারণে দৈনন্দিন কাজেও অন্যের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছেন তিনি।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এনায়েতপুর গ্রামের বাসিন্দা মফিজ উদ্দিন তিন ছেলে ও তিন মেয়ের বাবা। প্রায় আট বছর আগে স্ত্রী মারা যাওয়ার পর থেকেই একাকী জীবন কাটছিল তার। এক ছেলে মারা গেছেন, বড় ছেলে পক্ষাঘাতগ্রস্ত এবং ছোট ছেলে আলাদা সংসারে থাকেন। জীবনের শেষ সম্বল হিসেবে মাত্র ১০০ টাকার বিনিময়ে নিজের সম্পত্তিও দুই ছেলের নামে লিখে দিয়েছিলেন তিনি। এরপর থেকেই পরিবারে তার অবস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি পক্ষাঘাতগ্রস্ত ছেলে শামসুলের বাড়িতে থাকতেন। ছেলের স্ত্রী মারা যাওয়ার পর সেখানে নাতনি ও নাতনির স্বামী বসবাস শুরু করেন। কিন্তু তারা বৃদ্ধ দাদার দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ দেখান। একপর্যায়ে বৃহস্পতিবার রাতে তাকে বাড়ি থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে নিয়ে গিয়ে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে চলে যান। দীর্ঘ সময় ধরে সেখানে বসে কান্না করছিলেন তিনি। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তার পরিচয় নিশ্চিত করেন।
বিষয়টি জানতে পেরে তাৎক্ষণিকভাবে পদক্ষেপ নেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। তিনি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশনার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে নিরাপদে তার ছোট মেয়ে রিনা বেগমের জিম্মায় পৌঁছে দেয়। একই সঙ্গে ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু করা হয়েছে।
শুধু উদ্ধার করেই থেমে থাকেননি প্রতিমন্ত্রী। তিনি ব্যক্তিগতভাবে বৃদ্ধের চিকিৎসা, খাবার, বাসস্থানসহ প্রয়োজনীয় সব ব্যয়ভার বহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। পাশাপাশি দ্রুত বৃদ্ধভাতার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে তার থাকার জন্য আলাদা কক্ষ ভাড়া নেওয়া এবং নিয়মিত সেই ব্যয় বহনের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
প্রথমদিকে বাবার দায়িত্ব নিতে অনাগ্রহ দেখালেও পরে প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বাবার দেখাশোনার দায়িত্ব নিতে সম্মত হন ছোট মেয়ে রিনা বেগম।
রিনা বেগম বলেন, “পাশের বাড়ির লোকজনের মাধ্যমে জানতে পারি আমার বাবাকে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যাওয়া হয়েছে। বাবাকে ওই অবস্থায় দেখে খুব কষ্ট পেয়েছি। প্রতিমন্ত্রী আমার সঙ্গে কথা বলেছেন এবং সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন। এখন থেকে বাবার দায়িত্ব আমিই পালন করবো।”
টাঙ্গাইল সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মুক্তার আশরাফ উদ্দিন বাসসকে বলেন, “প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশ পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বৃদ্ধকে উদ্ধার করে। তিনি বর্তমানে তার ছোট মেয়ের হেফাজতে রয়েছেন। নাতনিকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তার স্বামী পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যান।”
এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বাসসকে জানান, “একজন অসহায় বৃদ্ধকে এভাবে রাস্তায় ফেলে রেখে যাওয়ার ঘটনা অত্যন্ত অমানবিক ও হৃদয়বিদারক। বাবা-মা আমাদের সবচেয়ে বড় আশীর্বাদ। তাদের অবহেলা করার কোনো সুযোগ নেই। যতদিন প্রয়োজন, এই বৃদ্ধের চিকিৎসা, থাকা-খাওয়া ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতার দায়িত্ব আমি নেব। একই সঙ্গে যারা তাকে এভাবে পরিত্যাগ করেছে, তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। সমাজের প্রতিটি মানুষকে অসহায় প্রবীণদের পাশে দাঁড়াতে হবে।”
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য