• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

বাংলাদেশে আরও বিনিয়োগের আহ্বান মাহ্দী আমিনের

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৪ জুলাই ২০২৬, ১০:০৯ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরে মার্কিন উদ্যোক্তাদের আরও বেশি বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেছেন, দেশের প্রতিটি জেলার নিজস্ব অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে এবং যৌথ উদ্যোগে তা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তুলে ধরা সম্ভব।

শনিবার (৪ জুলাই) ঢাকায় আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) এবং যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাস আয়োজিত যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহ্দী আমিন বলেন, “আপনাদের ব্যবসায়িক মহলে বাংলাদেশের সম্ভাবনাকে তুলে ধরুন। বাংলাদেশ বিনিয়োগের জন্য একটি অত্যন্ত আকর্ষণীয় গন্তব্য হতে পারে।”

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গরাজ্যের যেমন আলাদা বৈশিষ্ট্য রয়েছে, তেমনি বাংলাদেশের প্রতিটি জেলারও রয়েছে নিজস্ব সম্ভাবনা। এ কারণে দুই দেশের ব্যবসায়িক সম্প্রদায়ের যৌথ অংশগ্রহণে বিভিন্ন দেশে রোড-শো আয়োজন করা যেতে পারে।

প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা জানান, সরকার এমন একটি পরিবেশ গড়ে তুলতে চায় যেখানে দেশি-বিদেশি সব প্রতিষ্ঠান সমান সুযোগ পাবে। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা দিতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে সফল হওয়া একটি মার্কিন কোম্পানি দেশের সবচেয়ে বড় শুভেচ্ছাদূত হিসেবে কাজ করতে পারে। একই বিষয় অন্যান্য বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।

মাহ্দী আমিন বলেন, নতুন সরকারের স্পষ্ট লক্ষ্য হলো বিদেশি বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় সরকার বেসরকারি খাতকে আরও শক্তিশালী করতে কাজ করছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণির বিস্তার এবং অভ্যন্তরীণ বাজারের শক্তিশালী অবস্থান বাংলাদেশকে বিদেশি বিনিয়োগের জন্য আরও আকর্ষণীয় করে তুলছে।

বেসরকারি খাতের উন্নয়নে সহায়ক নীতিমালা গ্রহণের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, সরকার সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বভিত্তিক প্রকল্পে আরও বিনিয়োগ প্রত্যাশা করছে।

বর্তমান সরকারকে ব্যবসাবান্ধব উল্লেখ করে মাহ্দী আমিন বলেন, জাতীয় বাজেটে অপ্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ কমানো হয়েছে এবং উদার অর্থনৈতিক নীতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, “অতীতে যাকে আমরা ‘ব্রেইন ড্রেইন’ বা মেধাপাচার বলতাম, আমরা সেটিকে এখন 'ব্রেইন সার্কুলেশন' বা মেধার ইতিবাচক আদান-প্রদানে রূপ দিতে চাই।”

মাহ্দী আমিন জানান, নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার এক মাসের মধ্যেই বিদেশে মুনাফা স্থানান্তরের দীর্ঘদিনের জটিলতা দূর করেছে। পাশাপাশি কর রেয়াত, শিল্পপার্ক, অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কসহ নানা বিনিয়োগ সুবিধাও চালু রয়েছে।

তিনি বলেন, সরকার এমন একটি প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীরা সমান সুযোগ পাবেন। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ধারাবাহিক সংলাপ ও পরামর্শ সভার আয়োজন করা হবে।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে জ্বালানি, বোয়িং, কৃষিভিত্তিক পণ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং, ওষুধশিল্প এবং তৈরি পোশাক খাতে সহযোগিতার ব্যাপক সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশকে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, আইনের শাসন ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ভিত্তিতে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করাই সরকারের প্রধান লক্ষ্য।

অ্যামচেম এবং ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ শুধু কর্মসংস্থানই সৃষ্টি করে না, বরং প্রযুক্তি, জ্ঞান ও আধুনিক কর্মপদ্ধতির আদান-প্রদানেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

মাহ্দী আমিন আরও বলেন, বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী দেশের অন্যতম বড় শক্তি। দক্ষ জনশক্তি ও বড় অভ্যন্তরীণ বাজার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য বড় সুযোগ তৈরি করেছে।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার স্ত্রীকে ব্ল্যাকমেইল, গ্রেপ্তার ৪
আবু সাঈদের বড় ভাই আবু হোসেন
আবু সাঈদ হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর চান বড় ভাই
ছবি: সংগৃহীত
জর্ডানে নারী গার্মেন্টস কর্মী নিচ্ছে বোয়েসেল, বেতন ২২ হাজার