• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

রাশিয়ায় রাতের আঁধারে ইউক্রেনের ভয়াবহ ড্রোন হামলা

ভিওডি বাংলা ডেস্ক    ৫ জুলাই ২০২৬, ০৯:১২ এ.এম.
রাশিয়ায় নৌঘাঁটি ও তেল টার্মিনালে ইউক্রেনের ভয়াবহ হামলা
ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে ভয়াবহ হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। রাতের আঁধারে চালানো এই হামলায় ড্রোনের মাধ্যমে শহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, এই স্থাপনাটি রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার অর্থের অন্যতম প্রধান উৎস। একইসঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে দাবি করেছে কিয়েভ।

প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অবস্থিত এই গুরুত্বপূর্ণ তেল টার্মিনালটি এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যা রাশিয়ার যুদ্ধ পরিচালনার জন্য অর্থের জোগান দেয়। ইউক্রেন আরও দাবি করেছে, ওই অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ রুশ নৌঘাঁটিতেও হামলা চালানো হয়েছে।

সেন্ট পিটার্সবার্গের গভর্নর আলেক্সান্দার বেগলোভ বলেন, শহরটি ‘বড় ধরনের’ ড্রোন হামলার মুখে পড়েছিল। তিনি তেল টার্মিনালে হামলার বিষয়টি স্বীকার করলেও জানান, এতে কোনও হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

সম্প্রতি ইউক্রেন রাশিয়ার গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোতে দূরপাল্লার ড্রোন হামলা জোরদার করেছে। এর ফলে দেশটিতে জ্বালানির সংকট তৈরি হয়েছে বলে কিয়েভ দাবি করেছে। ইউক্রেনের ভাষ্য, এসব হামলায় রাশিয়ার প্রায় ৪৩ শতাংশ তেল শোধন সক্ষমতা অকার্যকর হয়ে পড়েছে। তবে এ দাবি স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

ইউক্রেন বলছে, রাশিয়ার তেল ও গ্যাস স্থাপনাগুলো বৈধ সামরিক লক্ষ্য। কারণ জীবাশ্ম জ্বালানির রপ্তানি থেকে পাওয়া অর্থের ওপর নির্ভর করেই মস্কো যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। এমন অবস্থায় সম্প্রতি ইউক্রেনের হামলার কারণে জ্বালানির ঘাটতির কথা স্বীকার করেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। শনিবার তিনি অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি সরবরাহ বাড়ানোর লক্ষ্যে একটি আইনে সইও করেছেন।

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার সামরিক অভিযান শুরু করে রাশিয়া। ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গ ও আশপাশের যেসব স্থাপনায় হামলা হয়েছে, সেগুলো ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৮৫০ কিলোমিটার দূরে। হামলায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে জেলেনস্কির প্রকাশিত একটি ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ড্রোন লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। হামলার পর সেখান থেকে ঘন কালো ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়।

পরে বিবিসিও নিশ্চিত করে যে, সেন্ট পিটার্সবার্গের তেল টার্মিনালটি হামলার শিকার হয়েছে। ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এটি রাশিয়ার অন্যতম বৃহৎ তেল টার্মিনাল। বছরে প্রায় ১ কোটি ২৫ লাখ টন পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে এই স্থাপনাটির।

তারা আরও দাবি করেছে, ক্রনস্টাডে অবস্থিত রাশিয়ার বাল্টিক নৌবহরের একটি গুরুত্বপূর্ণ নৌঘাঁটিতেও হামলা করা হয়েছে। তবে এ দাবির বিষয়ে রাশিয়া প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেনি।

গভর্নর বেগলোভ জানান, সেন্ট পিটার্সবার্গ এবং বৃহত্তর লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের আকাশে ইউক্রেনের ৭২টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। তিনি ড্রোন হামলার ঝুঁকি না কাটা পর্যন্ত নগরবাসীকে ঘরের ভেতরে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মোবাইল ইন্টারনেট সেবাও ব্যাহত হতে পারে বলে সতর্ক করেন।

এদিকে শনিবার ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী পূর্বাঞ্চলীয় গুরুত্বপূর্ণ শহর কোস্তিয়ানতিনিভকা পুরোপুরি রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে চলে যাওয়ার দাবি অস্বীকার করেছে। ইউক্রেনের সামরিক মুখপাত্র মেজর আন্দ্রি কোভালিওভ বিবিসিকে বলেন, ‘কোস্তিয়ানতিনিভকা এখনও ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

তিনি স্বীকার করেন, রুশ বাহিনীর ছোট ছোট পদাতিক দল কিছু এলাকায় অনুপ্রবেশ করেছিল। তাদের শনাক্ত করে ধ্বংস করা হচ্ছে।

অবশ্য একদিন আগে পুতিন দাবি করেছিলেন, জুন মাসেই কোস্তিয়ানতিনিভকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে রাশিয়া। তবে তিনি এ দাবির পক্ষে কোনও প্রমাণ দেননি।

পরে টেলিগ্রামে জেলেনস্কি লেখেন, ‘যদি কোস্তিয়ানতিনিভকা সত্যিই রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে যুদ্ধ শেষ করার কূটনৈতিক সমাধান খুঁজতে সেখানে আমার সঙ্গে দেখা করতে পুতিনের কোনও সমস্যা হওয়ার কথা নয়। কিন্তু তিনি কখনোই সম্মুখসারিতে আসবেন না। বাস্তবতা তার কথার চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন।’

ভিওডি বাংলা/এফএ


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
যুক্তরাষ্ট্রের চাপে খামেনির জানাজায় অংশ নিতে পারেনি ১৩ দেশ
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির কফিনের পাশে নাতনির মরদেহ, তেহরানে প্রতিশোধের স্লোগান
ছবি: সংগৃহীত
খামেনির শেষ বিদায়