ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে প্লাবিত বান্দরবান

টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সড়ক তলিয়ে গেছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) রাত থেকেই নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে শুরু করেছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বান্দরবান শহরের আর্মিপাড়া, ইসলামপুর ও শেরেবাংলা নগর এলাকার অনেক ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। বাসিন্দারা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে প্রশাসন ঘোষিত আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সকাল থেকে জেলা ও উপজেলাগুলোতে মাঝারি থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে।
থানচি উপজেলার বলিপাড়ার বাসিন্দা থোয়াই চিং উ জানান, উপজেলার নতুনপাড়া, হাসপাতাল সড়ক, বাগানপাড়া ও হিন্দুপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় ঘরবাড়িতে পানি ঢুকে পড়েছে। অনেক পরিবার বলিবাজার উচ্চবিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। এ ছাড়া বলিপাড়ার বাগানপাড়ায় একটি কালভার্ট তলিয়ে যাওয়ায় বান্দরবানের সঙ্গে থানচি উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। তবে নৌকায় নদী পার হয়ে অনেকেই বাসে করে বান্দরবানের উদ্দেশে যাতায়াত করছেন।
অন্যদিকে রুমা উপজেলার বাসিন্দা উবাসিং মার্মা জানান, রুমা সদরঘাট থেকে বাসস্টেশন এলাকায় যাওয়ার একটি সেতু পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় উপজেলা বাজারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ওই স্থানে নৌকায় মানুষ পারাপার করছেন।
বান্দরবান সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিল্টন দস্তিদার জানান, উপজেলায় খোলা ৪৫টি আশ্রয়কেন্দ্রে বুধবার বেলা ১১টা পর্যন্ত ১৯০টি পরিবারের প্রায় ৭০০ মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন। দুর্গতদের সরকারি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।
জেলা আবহাওয়া অধিদপ্তরের কর্মকর্তা সনাতন কুমার মণ্ডল বলেন, বুধবার সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় বান্দরবানে ৩০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে পাহাড়ধসের আশঙ্কা রয়েছে।
বান্দরবান পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী অপু দেব জানান, টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে সাঙ্গু, মাতামুহুরী ও বাঁকখালী নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার সকাল ৯টায় নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে ১৫ দশমিক ৭৫ মিটার উচ্চতায় প্রবাহিত হচ্ছিল।
জেলা প্রশাসক সানিউল ফেরদৌস বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসকারী এবং নদীতীরবর্তী মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাইকিং করা হচ্ছে। তাদের জন্য ২২০টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। পাশাপাশি জেলা ও উপজেলায় নিয়ন্ত্রণকক্ষ চালু করা হয়েছে। আগামী ১০ জুলাই পর্যন্ত বান্দরবান পার্বত্য জেলার সব পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/আ








মন্তব্য