ইরানের রেলসেতুতে মার্কিন হামলা

ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি গুরুত্বপূর্ণ রেলসেতুতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক সংঘাতের মধ্যে সামরিক স্থাপনার বাইরে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার এটি ভয়ংকর ঘটনা বলে মনে করা হচ্ছে।
ইরানের আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা তাসনিমের বরাতে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তুর্কমেনিস্তান সীমান্তসংলগ্ন গোলেস্তান প্রদেশের আক কালা এলাকায় অবস্থিত একটি রেলসেতুতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিওতে ওই রেলসেতুর ক্ষয়ক্ষতির দৃশ্য দেখা গেছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন ভিডিওটির অবস্থান শনাক্ত করেছে। তবে এ বিষয়ে এখনো মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।
যুদ্ধবিরতির পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র মূলত হরমুজ প্রণালির কাছাকাছি দক্ষিণ ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়ে আসছিল। কিন্তু আক কালার এই হামলার স্থানটি হরমুজ প্রণালি থেকে প্রায় ৯০০ মাইল দূরে অবস্থিত।
আইআরজিসির গোলেস্তান ইউনিটের দাবি, বৃহস্পতিবার ভোরে মার্কিন ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র রেলসেতুর আশপাশের এলাকায় আঘাত হানে। এর আগে ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি গোলেস্তান প্রদেশে বিস্ফোরণের শব্দ শোনার খবর জানিয়েছিল।
এরই মধ্যে তুরস্কে অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামো, যেমন বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি বিশুদ্ধকরণ (ডিস্যালিনেশন) কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার হুমকি পুনর্ব্যক্ত করেন। তিনি বলেন, আমি এটি করতে চাই না। কিন্তু প্রয়োজন হলে আমরা সেগুলো ধ্বংস করব।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন অনুযায়ী, সামরিক প্রয়োজনীয়তা ছাড়া বিদ্যুৎকেন্দ্র, পানির স্থাপনা বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বেসামরিক অবকাঠামোতে ইচ্ছাকৃত হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। তবে এই ঘটনায় কী লক্ষ্যবস্তু ছিল এবং হামলাটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন কিনা, তা স্বাধীনভাবে যাচাই বা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়নি।
ভিওডি বাংলা/বিন্দু








মন্তব্য