পুরান ঢাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণে নিহত ১

রাজধানীর পুরান ঢাকার বংশাল এলাকায় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরণের ঘটনায় দেলোয়ার হোসেন (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় দগ্ধ হয়েছেন তার খালাতো ভাই নাজমুল। গুরুতর অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার (১০ জুলাই) ভোরে মুকিম বাজার এলাকার চুরিওয়ালা পঞ্চায়েত কবরস্থানের বিপরীতে একটি চারতলা ভবনের নিচতলায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুন লাগার পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় নাজমুলকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও দেলোয়ার আগুনের মধ্যে আটকা পড়ে যান। পরে ফায়ার সার্ভিস আগুন নিয়ন্ত্রণে এনে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত দেলোয়ারের সহকর্মীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ভবনের নিচতলায় একটি গোডাউন ব্যবহার করা হতো মোটরসাইকেলের যন্ত্রাংশ ও ব্যবসায়িক মালামাল সংরক্ষণের জন্য। সেখানে একটি রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারও রাখা ছিল।
দেলোয়ারের মোটরসাইকেল গ্যারেজ ‘বাইক পার্ক সেন্টার’-এর কর্মী তুষার ইসলাম রিফাত জানান, ভোরে প্রথমে গোডাউনে বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণ ঘটে। শব্দ শুনে দেলোয়ার ও তার খালাতো ভাই নাজমুল তৃতীয় তলার বাসা থেকে নিচে নেমে আসেন। কী ঘটেছে তা দেখার চেষ্টা করার সময় আবারও বিস্ফোরণ হলে মুহূর্তেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, দ্বিতীয় বিস্ফোরণের পর দু’জনই আগুনের মধ্যে আটকা পড়েন। স্থানীয় বাসিন্দারা নাজমুলকে উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও দেলোয়ারকে বের করা সম্ভব হয়নি।
নিহত দেলোয়ার হোসেনের বাড়ি যশোর জেলার শার্শা উপজেলায়। তার বাবার নাম আব্দুল খালেক। তিনি পরিবার নিয়ে ভবনের তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাটে ভাড়া থাকতেন। একই সঙ্গে নিচতলার গোডাউনটি ব্যবসার প্রয়োজনে ব্যবহার করতেন।
স্থানীয়দের ধারণা, গোডাউনে রাখা গ্যাস সিলিন্ডার থেকেই বিস্ফোরণের সূত্রপাত হতে পারে। তবে কী কারণে বিস্ফোরণ ঘটেছে, তা তদন্তের পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ (পরিদর্শক) মো. ফারুক জানান, চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে তিনি নিশ্চিত হয়েছেন যে দেলোয়ার হোসেনকে মৃত অবস্থায় হাসপাতালে আনা হয়েছে। তার মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
ভিওডি বাংলা/জা








মন্তব্য