খোয়াই নদের ভাঙনে পানিবন্দী শত শত পরিবার

টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের চাপে খোয়াই নদের বাঁধ ভেঙে হবিগঞ্জের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে শত শত পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। অনেক বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা। একই সঙ্গে হবিগঞ্জ ভায়া মিরপুর আঞ্চলিক সড়ক পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় ওই পথে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার রাত ১০টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার কালিগঞ্জ চরহামুয়া এলাকায় খোয়াই নদের বাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। এরপর দ্রুতগতিতে আশপাশের গ্রামগুলোতে পানি প্রবেশ করতে শুরু করে। শুক্রবারও পানি বাড়তে থাকায় নিম্নাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে অসংখ্য কাঁচা সড়ক পানির নিচে চলে গেছে এবং কৃষিজমির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
শুক্রবার সকাল পর্যন্ত ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, বাঁধের প্রায় ৩০০ ফুট অংশ ভেঙে গেছে। এর ফলে কালিগঞ্জ, হামুয়াসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা দুই থেকে তিন ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। হবিগঞ্জ ভায়া ধুলিয়াখাল মিরপুর আঞ্চলিক সড়কের দক্ষিণ দিক দিয়ে দ্রুত পানি প্রবেশ করায় সদর উপজেলার লস্করপুর ইউনিয়নের সুঘর, বনগাঁও, কালিগঞ্জসহ আশপাশের অন্তত ২৫টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে।
হবিগঞ্জ ভায়া মিরপুর আঞ্চলিক সড়কের বৈদ্দার বাজার, সুঘর ও বনগাঁও এলাকার অংশ শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত প্রায় দুই ফুট পানির নিচে ছিল। ফলে ওই সড়কে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বাঁধ ভাঙার পর বৃহস্পতিবার রাতেই স্থানীয় একটি মাদ্রাসা থেকে মাইকিং করে প্লাবিত এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্র বা নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে শিশু, নারী, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সুঘর গ্রামের বাসিন্দা মিজান মিয়া বলেন, ‘গতকাল রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বাধভাঙা পানির আওয়াজ শুনতে পাই। মুহূর্তের মধ্যেই পুরো এলাকা প্রায় দুই ফুট পানির নিচে চলে যায়।’
একই গ্রামের বাসিন্দা আবদুল আলী বলেন, ‘যে যাঁর মতো করে উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিয়েছেন পরিবার-পরিজন নিয়ে। এলাকার স্কুল বা মাদ্রাসা কোথাও উঁচু নেই, সব জায়গা ডুবে আছে এ পানিতে।’
কালিগঞ্জ গ্রামের বাসিন্দা ওমর মিয়া বলেন, ‘বাঁধের যে জায়গায় ভাঙন দেখা দিয়েছে, তা আগ থেকেই দুর্বল ছিল। আমরা এলাকাবাসী স্থানটি মেরামতের জন্য আজ থেকে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে বলে এলেও তারা কাজ করেনি।’
এদিকে জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রয়োজনীয় সহায়তা পৌঁছে দেওয়া এবং বাঁধের ভাঙা অংশ মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নদের পানি আরও বৃদ্ধি পেলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
হবিগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মইনুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পুরো এলাকা পর্যবেক্ষণ করছি। পানিবন্দী মানুষগুলোকে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়। অসহায় মানুষদের শুকনা খাবারসহ ত্রাণসামগ্রী পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।’
ভিওডি বাংলা/এমএস








মন্তব্য