• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

চিকিৎসার প্রকৃত ভিত্তি মানবিকতা: ডা. জুবাইদা রহমান

নিজস্ব প্রতিবেদক    ১১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৮ পি.এম.
বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: ভিওডি বাংলা
বক্তব্য দিচ্ছেন ডা. জুবাইদা রহমান। ছবি: ভিওডি বাংলা

ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) ও হাসপাতালের ৮১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নিজের ছাত্রজীবন ও ইন্টার্নশিপের নানা স্মৃতি তুলে ধরেছেন চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি জ্ঞান হলেও চিকিৎসা পেশার প্রকৃত ভিত্তি মানবিকতা। প্রযুক্তিনির্ভর অগ্রযাত্রার মধ্যেও চিকিৎসার কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় মানুষই থাকবে।   

শনিবার (১১ জুলাই) অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বহুদিন ধরে একটি আর্তনাদ তাঁর কানে ধ্বনিত হয়। সেটি ছিল একজন রোগীর পরিবারের সদস্যের। তিনি বলেন, মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হওয়া এক রোগীর সঠিক রোগনির্ণয়ে তাঁদের ওয়ার্ডের সবাই ব্যর্থ হয়েছিলেন, কারণ সেদিন সিটি স্ক্যান মেশিন অকেজো ছিল। শত চেষ্টা করেও ওই ব্যক্তিকে বাঁচানো যায়নি।

তিনি বলেন, তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম বর্ষে এবং পরে ইন্টার্নশিপের সময় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কাজ করার সময় বহুবার তিনি এমন অসহায়ত্ব প্রত্যক্ষ করেছেন।

পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ডে দায়িত্ব পালনের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, দুই চোখে অন্ধ একটি ছোট্ট শিশু, যে টেট্রালজি অব ফ্যালোট রোগে আক্রান্ত ছিল, কেমন করে যেন বুঝতে পারত তিনি তার সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। শেষ পর্যন্ত অপারেশনের টেবিলে শিশুটিকে হারাতে হয়েছিল।

আরেকটি স্মৃতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় আক্রান্ত এক গৃহকর্মী যন্ত্রণায় চিৎকার করতেন। অন্য রোগীদের অনুরোধে প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও তাঁকে বারান্দায় স্থানান্তর করা হতো।

গাইনি ও অবসটেট্রিকস বিভাগে দায়িত্ব পালনের সময়ের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেন তিনি। ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আলট্রাসনোগ্রামে অষ্টম কন্যাশিশু হবে—এমন তথ্য জানার পর জীবনের বোঝায় ন্যুব্জ এক রিকশাচালক তাঁর স্ত্রীকে ওয়ার্ডে একা রেখে চলে যান। তাঁর সেই অসহায়ত্ব হয়তো বোঝা যায়। পরে শিশুটির জন্ম হলে দেখা যায়, সেটি পুত্রসন্তান। তবে জন্মের পরপরই শিশুটির শ্বাস নিতে দেরি হচ্ছিল। তাঁকে দ্রুত পেডিয়াট্রিক ওয়ার্ডে ইনকিউবেটরে নেওয়া হয়। পরে শিশুটি বেঁচে যায় এবং পুরো পরিবার আবার একত্র হওয়ায় স্বস্তি ফিরে আসে।

ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, বর্তমানে নিশ্চয়ই পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। তবে চাকরি থেকে বরখাস্ত হওয়ার পর আর কখনো ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তাঁর আসা হয়নি।

তিনি বলেন, তাঁরা চান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাংলাদেশে ‘সেন্টার অব এক্সিলেন্স অ্যান্ড কমপ্যাশন ফর পেশেন্টস’ হিসেবে গড়ে উঠুক।

চিকিৎসা সেবায় মানবিকতার গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, একটি আশ্বস্ত করার বাক্যও একটি ওষুধের মতো কাজ করে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভিত্তি জ্ঞান হলেও চিকিৎসা পেশার প্রকৃত ভিত্তি মানবিকতা। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রযাত্রা যতই প্রযুক্তিনির্ভর হোক না কেন, এর কেন্দ্রবিন্দুতে সবসময় মানুষই থাকবে।

ভবিষ্যৎ প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, আগামী ২০ থেকে ২৫ বছর পর তিনি ঢাকা মেডিকেল কলেজকে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম শ্রেষ্ঠ চিকিৎসাশিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনের কেন্দ্র হিসেবে দেখতে চান। তাঁর ভাষায়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আগামী অধ্যায় শুধু অতীতের গৌরবের ধারাবাহিকতা হবে না; এটি হবে নতুন উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, গবেষণায় উৎকর্ষ এবং মানবিক নেতৃত্বের নতুন অধ্যায়।

বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা ঢাকা মেডিকেল কলেজের সাবেক শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আজ তাঁরা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে কর্মরত থাকলেও তাঁদের পরিচয়ের শিকড় একটাই—ঢাকা মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড হাসপাতাল। এখন সময় এসেছে অ্যালামনাইকে শুধু স্মৃতির বন্ধনে নয়, দায়িত্বের বন্ধনে যুক্ত করার।

তিনি বলেন, একটি প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত শক্তি তার অবকাঠামোয় নয়, তার মানুষের মধ্যে। ঢাকা মেডিকেল কলেজের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার মেধা, তার মূল্যবোধ এবং তার মানুষ। প্রতিযোগিতার মধ্যেও সহযোগিতা সম্ভব। চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রতিটি সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকেন একজন মানুষ, একটি পরিবার এবং একটি জীবন।

 ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, ‘৮১তম ডিএমসি ডে-২০২৬’-এ অংশ নিতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত। ‘টুগেদার ক্যারি লিগেসি’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানের জন্য আয়োজক কমিটির সবাইকে তিনি অভিনন্দন ও আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।

ভিওডি বাংলা/সবুজ/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
ছবি: সংগৃহীত
২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
শনিবারের মধ্যে ক্লিনিকে ডেলিভারি রুম না হলে লাইসেন্স বাতিল
ছবি: সংগৃহীত
২৪ ঘণ্টায় হাম ও উপসর্গে ৭ শিশুর মৃত্যু