• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

নগর স্বাস্থ্যসেবায় ‘আলো ক্লিনিক’ মডেলের ইতিবাচক প্রভাব

নিজস্ব প্রতিবেদক    ৯ জুলাই ২০২৬, ০৬:৩৬ পি.এম.
জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: ভিওডি বাংলা
জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। ছবি: ভিওডি বাংলা

দেশের সুবিধাবঞ্চিত নগর জনগোষ্ঠীর জন্য প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা আরও কার্যকর ও সহজলভ্য করতে ‘আলো ক্লিনিক’ মডেল দেশের বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রসারণের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করছে সরকার। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মতে, এ উদ্যোগ নগর অঞ্চলের শিশু, নারী ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর স্বাস্থ্যসেবায় ইতোমধ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাস্তব অভিজ্ঞতা ও গবেষণালব্ধ ফলাফলের ভিত্তিতে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘আলো ক্লিনিক’ বিষয়ক জাতীয় ডিসেমিনেশন কর্মশালায় এ তথ্য জানানো হয়। কর্মশালায় প্রধান অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে যৌথভাবে আলো ক্লিনিক কর্মসূচি এ আয়োজন করে। এতে সহযোগিতা করে সুইডেন দূতাবাস, ইউনিসেফ এবং পিএইচডি। কর্মশালায় আলো ক্লিনিকের চার বছরের বাস্তবায়ন অভিজ্ঞতা, গবেষণার ফলাফল এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশে দ্রুত নগরায়ণের ফলে শহরাঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবার চাহিদা বাড়লেও নিম্নআয় ও ভাসমান জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখনও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত। এই বাস্তবতায় ২০২১ সাল থেকে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জে ছয়টি আলো ক্লিনিক চালু করা হয়।

এসব ক্লিনিকে জাতীয় ‘এসেনশিয়াল সার্ভিসেস প্যাকেজ (ইএসপি++)’-এর আওতায় বিনামূল্যে এবং ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে। মাতৃস্বাস্থ্য, নবজাতক ও শিশুসেবা, টিকাদান, পুষ্টি মূল্যায়ন, রোগ শনাক্তকরণ ও চিকিৎসাসহ বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্যসেবা এখানে পাওয়া যায়।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৬৮ জন রোগী এসব ক্লিনিক থেকে সেবা গ্রহণ করছেন। স্বাস্থ্যকর্মীরা কমিউনিটি আউটরিচ কার্যক্রম এবং ডিজিটাল হোম ভিজিটের মাধ্যমে গর্ভবতী নারী শনাক্ত, শিশুদের বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবার সঙ্গে পরিবারগুলোকে যুক্ত করছেন। 

এ ছাড়া চারটি আলো ক্লিনিকে সার্বক্ষণিক ধাত্রী-নেতৃত্বাধীন নরমাল ডেলিভারি সেন্টার চালু রয়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে এক হাজারের বেশি নিরাপদ প্রসব সম্পন্ন হয়েছে।

কর্মশালায় জানানো হয়, বিভিন্ন গবেষণা ও তথ্য-উপাত্তে আলো ক্লিনিক মডেলের ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া গেছে। বিশেষ করে নগর স্বাস্থ্য ও জনমিতি নজরদারি ব্যবস্থা (ইউএইচডিএসএস)-এর তথ্য অনুযায়ী, কর্মসূচির আওতাধীন এলাকায় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে প্রসবের হার বেড়েছে এবং নবজাতক, শিশু ও পাঁচ বছরের কম বয়সী শিশু মৃত্যুর হার কমেছে।

এসব ইতিবাচক ফলাফলের ভিত্তিতে সরকার আলো ক্লিনিক মডেলকে নগর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার কার্যকর একটি মডেল হিসেবে বিবেচনা করছে। এ লক্ষ্যে ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের জন্য একটি কনসেপ্ট নোট তৈরির দায়িত্ব ইউনিসেফকে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

সরকার আলো ক্লিনিক বাস্তবায়নে ইউনিসেফের কারিগরি সহায়তা এবং সুইডেন সরকারের আর্থিক সহযোগিতারও প্রশংসা করেছে।

কর্মশালায় বক্তব্য দিতে গিয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সারদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, দেশের প্রতিটি মানুষের জন্য মানসম্মত প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

তিনি বলেন, "এই দেশের প্রতিটি নাগরিকের মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি যেখানেই থাকুন কিংবা তার আর্থিক সক্ষমতা যেমনই হোক না কেন, স্বাস্থ্যসেবা তার নাগালের মধ্যেই থাকতে হবে।"

মন্ত্রী আরও বলেন, জনগণের জন্য সহজপ্রাপ্য, জবাবদিহিমূলক, টেকসই ও জনগণমুখী স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।

দ্রুত নগরায়ণের কারণে শহরের নিম্নআয় ও ভাসমান মানুষের স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আলো ক্লিনিক যেভাবে সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কাছে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিচ্ছে, তা অনুসরণযোগ্য।

তিনি জানান, আগামী সপ্তাহেই তিনি নিজে একটি আলো ক্লিনিক পরিদর্শন করবেন। সেখানে পরিচালিত কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসা ১৯২টি নগর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে সেই অভিজ্ঞতা প্রয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, ব্যয়বহুল বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া সাধারণ মানুষের পক্ষে সব সময় সম্ভব হয় না। তাই সরকারি হাসপাতালগুলোকে এমন পর্যায়ে উন্নীত করা হবে, যাতে জনগণ সেখানে আস্থা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, চিকিৎসাসেবার অভাবে দেশের একজন মানুষকেও মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিতে চায় না সরকার। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের মানুষের কাছেও সহজে চিকিৎসা পৌঁছে দিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

স্বাস্থ্যখাতে নতুন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় উপজেলা হাসপাতাল, জেলা হাসপাতাল এবং জেলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পর্যায়ক্রমে কিডনি ডায়ালাইসিস সেবা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, দুর্গম এলাকার রোগীদের দ্রুত উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে পৌঁছে দিতে আরও বেশি অ্যাম্বুলেন্স সংযোজনের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে।

কর্মশালায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, আলো ক্লিনিক প্রকল্পের মাধ্যমে নগর এলাকার মাতৃ ও শিশুর স্বাস্থ্য সূচকে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। বিশেষ করে নিরাপদ প্রসব বৃদ্ধি, স্বাস্থ্যকেন্দ্রভিত্তিক সেবার ব্যবহার এবং শিশু মৃত্যুহার কমাতে এ উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একই ধরনের মডেল দেশের অন্যান্য নগর এলাকাতেও বাস্তবায়ন করা গেলে নগর স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য কমবে এবং প্রাথমিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।

কর্মশালায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশে ইউনিসেফের ডেপুটি প্রতিনিধি অ্যামানুয়েল অ্যাব্রোক্স, ইউনিসেফের স্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান ডা. মালালাই আহমেদজাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. আহমেদ জামশেদ মোহাম্মদসহ স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞ, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধি এবং সরকারি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

ভিওডি বাংলা/জা


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
নরসিংদীর মনোহরদীতে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন।  ছবি: ভিওডি বাংলা
৫০ শয্যার সব সরকারি হাসপাতালকে ১শ’ শয্যা করা হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
দেশে হামের উপসর্গে একদিনে ৫ শিশুর মৃত্যু
দেশে হামের উপসর্গে একদিনে ৫ শিশুর মৃত্যু
ছবি: সংগৃহীত
জুলাই-আগস্টে বাড়তে পারে ডেঙ্গু: স্বাস্থ্যমন্ত্রী