• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

পুঁজিবাজারে বাড়ছে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীর আস্থা: অর্থমন্ত্রী

সংসদ প্রতিবেদক    ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫২ পি.এম.
ছবি: সংগৃহীত
ছবি: সংগৃহীত

দেশের পুঁজিবাজারে ধীরে ধীরে ইতিবাচক পরিবর্তন দৃশ্যমান হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তার মতে, বাজারে ব্যাপক সংস্কার, নিয়ন্ত্রক সংস্থার স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং অতীতের বড় ধরনের কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ফলেই দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার হচ্ছে।

রোববার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের সদস্য মো. কামরুল হাসান (ময়মনসিংহ-৬) এর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে তিনি জানান, পুনর্গঠিত বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। গত দুই মাস ধরে শেয়ারবাজারে ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘শেয়ারবাজার এখন ঊর্ধ্বমুখী এবং সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই মাসে বাজারের পারফরম্যান্স আরও শক্তিশালী হয়েছে। এটি পুঁজিবাজারে স্বচ্ছতা ও জনগণের আস্থা ফিরে আসারই প্রতিফলন।’

তিনি জানান, সরকার একজন চেয়ারম্যান ও তিনজন কমিশনার নিয়ে নতুন বিএসইসি গঠন করেছে। আরও একজন কমিশনার নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বর্তমান কমিশনের নিয়োগ প্রক্রিয়া প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘নিয়োগ প্রক্রিয়া ছিল সম্পূর্ণ স্বচ্ছ। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আমিও ব্যক্তিগতভাবে তাদের কাউকে আগে চিনতাম না।’

তিনি আরও বলেন, নতুন কমিশনের সদস্যরা অভিজ্ঞ ও দক্ষ পেশাজীবী। দেশি ও আন্তর্জাতিক পুঁজিবাজার সম্পর্কে তাদের বিস্তৃত অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং তাদের সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই।

অতীতের বাজার কারসাজির বিষয়ে সরকার কঠোর অবস্থানে রয়েছে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী জানান, অনিয়ম ও কারসাজির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি বলেন, জবাবদিহি ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে গৃহীত শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিস্তারিত তথ্য বিএসইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।

বাজার কারসাজি, প্রতারণা ও বিভিন্ন অনিয়মের দায়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা আরোপের কথাও জানান অর্থমন্ত্রী। বাংলাদেশ এক্সপোর্ট ইমপোর্ট কোম্পানি লিমিটেড (বেক্সিমকো) এর শেয়ার লেনদেনে কারসাজির ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও জরিমানা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও জানান, বাজার কারসাজি, দুর্নীতি ও অন্যান্য আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে গঠিত অনুসন্ধান কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছে।

অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, চলমান সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে বাংলাদেশের পুঁজিবাজার আরও স্বচ্ছ, জবাবদিহিমূলক এবং আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন বিনিয়োগ গন্তব্যে পরিণত হবে।

তিনি বলেন, ‘শুধু স্থানীয় বিনিয়োগকারীরাই নন, তালিকাভুক্ত কোম্পানিগুলোর আস্থাও বাজারে ফিরছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক তহবিল ব্যবস্থাপকরা আবারও বাংলাদেশের প্রতি আগ্রহ দেখাচ্ছেন।’

তিনি জানান, হংকং, লন্ডন ও নিউইয়র্কসহ বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক কেন্দ্রগুলোর বিভিন্ন বিনিয়োগ ব্যবস্থাপক ইতোমধ্যে বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের সম্ভাবনা যাচাই করতে সফর শুরু করেছেন। এটি আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ বৃদ্ধির ইতিবাচক ইঙ্গিত বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অন্য এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী জানান, সরকার করব্যবস্থাকে আরও সহজ, ন্যায়সংগত ও করদাতাবান্ধব করার পাশাপাশি করজাল সম্প্রসারণে সমন্বিত কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে।

তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিভিন্ন খাতে প্রতিষ্ঠানের বাজার অংশীদারিত্ব নির্ধারণ করছে, যাতে প্রকৃত ব্যবসায়িক অবস্থানের ভিত্তিতে ন্যায্য ও আনুপাতিক হারে কর নির্ধারণ করা যায়।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের বাজার অংশীদারিত্ব নির্ধারণ করা হচ্ছে, কারণ করের দায় তাদের ব্যবসার আকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। অতীতে এটি যথাযথভাবে করা হয়নি। এখন আমরা আরও যৌক্তিক ও স্বচ্ছ ব্যবস্থা গড়ে তুলছি।’

তিনি আরও জানান, করজালের বাইরে থাকা ব্যক্তি ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের আনুষ্ঠানিক করব্যবস্থার আওতায় আনতে সরকার সহজীকৃত ফ্ল্যাট রেট কর ব্যবস্থা চালু করছে।

প্রস্তাবিত ব্যবস্থায় করদাতার আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় এলাকা ভিত্তিক নির্দিষ্ট হারে কর নির্ধারণ করা হবে। এতে জটিল আয়কর রিটার্ন দাখিল কিংবা দীর্ঘ মূল্যায়ন প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হবে না।

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষ নির্ধারিত ফ্ল্যাট রেট কর পরিশোধ করে একটি রসিদ গ্রহণ করবে। তাদের আয়কর রিটার্ন পূরণ করতে হবে না এবং কর কর্মকর্তাদের অপ্রয়োজনীয় হয়রানিরও শিকার হতে হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের তাৎক্ষণিক লক্ষ্য হলো সহজ ফ্ল্যাট রেট ব্যবস্থার মাধ্যমে বিপুলসংখ্যক নতুন করদাতাকে করজালের আওতায় আনা। করভিত্তি পর্যাপ্ত সম্প্রসারিত হলে পরবর্তীতে বিদ্যমান কর আইন অনুযায়ী ধাপে ধাপে নিয়মিত করব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।’

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রীর শোক
জমির উদ্দিন সরকারের মৃত্যুতে মুক্তিযুদ্ধ প্রতিমন্ত্রীর শোক
ছবি: ভিওডি বাংলা
জিয়া ও খালেদা জিয়ার সমাধিতে গৃহায়নমন্ত্রীর শ্রদ্ধা
ছবি: ভিওডি বাংলা
৪৮ ঘণ্টার অভিযান, থুইসাপাড়া থেকে ৪ পর্যটককে উদ্ধার করল বিজিবি