• ঢাকা বুধবার, ১৮ ডিসেম্বর ২০২৪, ৩ পৌষ ১৪৩১
  • live

অর্থ পাচার: কাস্টমসের ১১ কর্মকর্তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ

আদালত প্রতিবেদক    ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৫৭ পি.এম.
ফাইল ছবি
ফাইল ছবি

আত্মসাৎ ও অর্থ পাচারের মামলায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস বিভাগের ১১ কর্মকর্তার জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

রোববার (১২ জুলাই) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির শুনানি শেষে এ আদেশ দেন।

আদালতের নথি অনুযায়ী, অভিযুক্তরা আগে জামিনে ছিলেন। নির্ধারিত দিনে আদালতে হাজির হয়ে তারা জামিন স্থায়ী করার আবেদন করেন। তবে দুদকের প্রসিকিউশন পক্ষ ওই আবেদনের বিরোধিতা করে। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত তাদের জামিন বাতিল করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

কারাগারে পাঠানো ১১ কর্মকর্তা হলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের কাস্টমস বিভাগের সহকারী কমিশনার জাহাঙ্গীর কবির ও মবিন উল ইসলাম, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. জয়নাল আবেদীন, রাজস্ব কর্মকর্তা জমির হোসেন, এ এইচ এম নজরুল ইসলাম, আমির হোসেন সরকার, গৌরাঙ্গ চন্দ্র চৌধুরী, ফরিদ উদ্দিন সরকার ও মো. মঞ্জুরুল হক এবং সাবেক রাজস্ব কর্মকর্তা মো. আব্দুস সাত্তার ও বাসুদেব পালক।

এর আগে হাইকোর্ট থেকে পাওয়া অন্তর্বর্তীকালীন জামিনের মেয়াদ শেষ হলে গত ১৬ এপ্রিল তারা আদালতে আত্মসমর্পণ করে পুনরায় জামিনের আবেদন করেন। সেদিন আদালত তাদের জামিনের মেয়াদ বাড়িয়ে পরবর্তী ধার্য তারিখ পর্যন্ত বহাল রাখেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, পাঁচটি দেশে পণ্য রপ্তানির নামে প্রায় ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৪০৪ টাকা অর্থ পাচার এবং রপ্তানি প্রণোদনার ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা আত্মসাতের অভিযোগে কাস্টমসের ১১ কর্মকর্তাসহ মোট ২৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। দুদকের উপপরিচালক মো. আহসান উদ্দিন গত বছরের ২৩ নভেম্বর মামলাটির বাদী হন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা যোগসাজশের মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাত, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও সিঙ্গাপুরে পণ্য রপ্তানির ভুয়া তথ্য দেখিয়ে দো এম্পেক্স লিমিটেডের অনুকূলে প্রায় ১৮ কোটি টাকা ব্যাংকে জমা দেখান। পাশাপাশি ৩৪টি রপ্তানি চালানের বিপরীতে প্রায় ৩ কোটি ৭২ লাখ টাকা প্রণোদনা উত্তোলন ও আত্মসাৎ করা হয়, যদিও বাস্তবে এসব পণ্য কখনো রপ্তানি হয়নি।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, ২০১৮ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে দো এম্পেক্স লিমিটেড মোট ৪১টি বিল অব এক্সপোর্ট দাখিল করে সরকারি প্রণোদনা গ্রহণ করে। এর মধ্যে মাত্র সাতটি বিলের ক্ষেত্রে কৃষিপণ্য রপ্তানির সত্যতা মিললেও বাকি ৩৪টি বিলের বিপরীতে কোনো পণ্য রপ্তানির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তবে ওই চালানগুলোর বিপরীতে ২২ লাখ ১৮ হাজার ১৭ দশমিক ৪৪ মার্কিন ডলার অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে দেশে প্রত্যাবাসন দেখানো হয়, যার বাংলাদেশি মুদ্রামানে পরিমাণ ১৮ কোটি ৬০ লাখ ৯১ হাজার ৪০৪ টাকা।

দুদকের অভিযোগ, ভুয়া এলসির মাধ্যমে বিদেশে পণ্য রপ্তানির মিথ্যা তথ্য দেখিয়ে দো এম্পেক্স লিমিটেডের মাধ্যমে অভিযুক্তরা ৩ কোটি ৭১ লাখ ৮১ হাজার টাকা নগদ প্রণোদনা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করেছেন।

ভিওডি বাংলা/এমএস 


মন্তব্য

  • দেশজুড়ে এর পাঠক প্রিয়
আরও পড়ুন
সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল। ফাইল ছবি
অর্থপাচার মামলা কামালসহ ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন শুনানি ১০ আগস্ট
বিমান কর্মকর্তা রাশেদ
ঘুষ নিয়ে ধরা বিমান কর্মকর্তা রাশেদ দণ্ডিত
সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা
সংবিধানে ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা