রাজধানীর জলাবদ্ধতা
দায় কি শুধু সিটি করপোরেশনের, নাকি নগরবাসীরও?

রাজধানীতে অল্প বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতা এখন নিত্যদিনের দুর্ভোগ। রাস্তাঘাট তলিয়ে যাওয়া, যানজট, জনভোগান্তি ও ব্যবসা-বাণিজ্যে স্থবিরতা তৈরি হলে প্রথমেই প্রশ্ন ওঠে—এর দায় কি শুধু সিটি করপোরেশনের, নাকি নগরবাসীরও?
নগর পরিকল্পনাবিদ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, খাল-নর্দমা পরিষ্কার, পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা বাড়ানো এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনও এ জন্য পৃথক বিভাগ ও দায়িত্ব বণ্টনের মাধ্যমে কাজ পরিচালনা করছে।
তবে শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। নগরবাসীর অসচেতনতাও জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অনেকেই ড্রেন ও খালে পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের উচ্ছিষ্ট, নির্মাণবর্জ্যসহ বিভিন্ন ধরনের আবর্জনা ফেলেন। এতে পানি চলাচলের পথ বাধাগ্রস্ত হয় এবং সামান্য বৃষ্টিতেই সৃষ্টি হয় জলাবদ্ধতা। গবেষণাতেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, দুর্বল রক্ষণাবেক্ষণ এবং নাগরিক অসচেতনতাকে জলাবদ্ধতার বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সিটি করপোরেশন নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার করলেও যদি নাগরিকরা আবার সেখানে বর্জ্য ফেলেন, তাহলে সেই উদ্যোগ দীর্ঘস্থায়ী হয় না। একইভাবে নাগরিকরা সচেতন হলেও যদি খাল-ড্রেনের রক্ষণাবেক্ষণ ও পানি নিষ্কাশনের সক্ষমতা নিশ্চিত না করা হয়, তাহলে জলাবদ্ধতা পুরোপুরি দূর হবে না।
তাদের মতে, রাজধানীকে জলাবদ্ধতামুক্ত করতে সিটি করপোরেশনের কার্যকর উদ্যোগের পাশাপাশি নগরবাসীর দায়িত্বশীল আচরণও সমান গুরুত্বপূর্ণ। পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নাগরিক সচেতনতা—এই তিনটির সমন্বয়েই টেকসই সমাধান সম্ভব।
রাজধানীর জলাবদ্ধতা নিয়ে কথা বলেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ পলিথিন উল্লেখ করে তিনি বলেন, পলিথিনের ব্যবহার অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। নিউমার্কেট এলাকায় ড্রেন পরিষ্কার করতে গিয়ে কয়েক বস্তা পলিথিন অপসারণ করতে হয়েছে। এসব পলিথিন ড্রেনের মুখ বন্ধ করে পানি নিষ্কাশনে বাধা সৃষ্টি করছে। শুধু পলিথিন নয়, ড্রেনে লেপ, বালিশসহ বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য ফেলায়ও পানির স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি বলেন, রাজধানীর যেসব এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে, তার প্রধান কারণ ড্রেনের মুখ বন্ধ হয়ে যাওয়া। আর ড্রেনগুলো বন্ধ হওয়ার পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে পলিথিন। পলিথিনের ব্যবহার কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করা গেলে জলাবদ্ধতা অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব।
তিনি জানান, বিডিআর ট্র্যাজেডির পর পানি নিষ্কাশনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ বন্ধ হয়ে যাওয়াওয় ধানমন্ডি, নিউমার্কেট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পানি নিষ্কাশনে বাঁধা সৃষ্টি হয়। যার ফলে স্থায়ী পথ না থাকায় জলজট তৈরি হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পানি নিষ্কাশনের জন্য প্রধানমন্ত্রী নতুন একটি প্রকল্পের অনুমোদন দিয়েছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়নে দেড় থেকে দুই বছর সময় লাগবে। আর এটা বাস্তবায়ন হলে রাজধানীর জলবদ্ধতা অনেকটা কমে আসবে।
খাল দখলমুক্ত করার বিষয়ে তিনি বলেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে অবৈধ দখলমুক্ত করে খাল পুনরুদ্ধারে সিটি কর্পোরেশন নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে। একদিকে খাল উদ্ধার করা হচ্ছে, অন্যদিকে আবার তা ভরাট করে দখলের চেষ্টা চলছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড রোধে অভিযান অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগে সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়। নগরবাসী সচেতন না হলে রাজধানীর জলাবদ্ধতাসহ কোনো নাগরিক সমস্যারই টেকসই সমাধান হবে না।
ভিওডি বাংলা/এফএ








মন্তব্য